সাধ্বী নিরঞ্জন জ্যোতি। — ফাইল চিত্র।
লোকসভা ভোটে পিছন থেকে সরে গিয়েছিল ‘পিছড়ে সমাজ।’ আগামী বছর হতে যাওয়া বিধানসভা ভোটে সেই ছবি বজায় থাকলে কঠিন হবে ক্ষমতা ধরে রাখা। তাই পিছিয়ে থাকা কুর্মি সমাজের নেতা পঙ্কজ চৌধরিকে রাজ্য সভাপতি করার পরে এ বার সাধ্বী নিরঞ্জন জ্যোতিকে জাতীয় অনগ্রসর শ্রেণি কমিশনের (এনসিবিসি) চেয়ারম্যান করল বিজেপি। প্রথমত জ্যোতি মহিলা, তার উপর পিছিয়ে থাকা নিষাদ সমাজের প্রতিনিধি। মূলত রাজ্যের একেবারে পিছিয়ে থাকা এবং যাদব নয়, এমন শ্রেণিকেগুলিকে বার্তা দিতেই জাতীয় স্তরে জ্যোতির ওই নিয়োগ বলে মনে করা হচ্ছে।
গত লোকসভা নির্বাচনে পিডিএ (পিছড়ে, দলিত ও অল্পসংখ্যক) ভোটকে কাছে টেনে বাজিমাৎ করেছিলেন এসপি নেতা অখিলেশ যাদব। রাজ্যে নিচু তলার মানুষ যে বিজেপির থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন, তা ধরতেই পারেননি যোগী আদিত্যনাথ-অমিত শাহেরা। যার ফলে ২০১৯ সালে যেখানে উত্তরপ্রদেশের আশিটি আসনের মধ্যে ৬২টি আসনে জিতেছিল বিজেপি, সেখানে ২০২৪ সালে তারা জেতে মাত্র ৩৩টি আসনে। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এসপির যারা ভোটার, সেই যাদব ও মুসলিমরা তো ছিলই, উপরন্তু পিছিয়ে থাকা শ্রেণির মানুষ, দলিত সমাজও বিজেপির থেকে মুখ ফিরিয়ে ঢেলে ভোট দিয়েছিল এসপি-কে। ফলে রাজ্যে প্রবল ধাক্কা খায় বিজেপি। তার পরেই দিক পরিবর্তনে উদ্যোগী হয় দল। সমাজের পিছিয়ে পড়া শ্রেণির মধ্যে সমর্থন বাড়াতে নতুন করে রণকৌশল নেয় বিজেপি। তারই অঙ্গ হিসাবে দলের রাজ্য সভাপতি করা হয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্য, কুর্মি নেতা পঙ্কজ চৌধরিকে।
পরবর্তী ধাপে এ বার নিষাদ, মাল্লাদের মতো অতি পিছিয়ে পড়া শ্রেণিকে বার্তা দিতে জাতীয় অনগ্রসর শ্রেণির চেয়ারম্যান হিসাবে বেছে নেওয়া হয়েছে সাধ্বী নিরঞ্জন জ্যোতিকে। বিজেপি সূত্রের ব্যাখ্যা, জ্যোতি নিষাদ সমাজের নেত্রী। ওই সমাজ ছাড়াও অন্যান্য পিছিয়ে থাকা সমাজ, দলিত সমাজের মধ্যেও তাঁর ভাল প্রভাব রয়েছে। তাই তাঁকে মুখ করায় এক দিকে যেমন পিছিয়ে থাকা শ্রেণিকে বার্তা দেওয়া যাবে, তেমনই তিনি সাধ্বী হওয়ায় ভোটারদের কাছে হিন্দুত্বের বার্তা দেওয়াও সম্ভব হবে। বিশেষ করে অতীতে জ্যোতি ‘লাভ জেহাদে’র মতো বিষয়গুলি নিয়ে সক্রিয় ছিলেন। ফলে মহিলা ওই মুখকে সামনে রেখে হিন্দুত্বের হাওয়া তোলার কৌশল নিয়েছে দল। অতীতে যে ভাবে উমা ভারতীকে সামনে রেখে একই সঙ্গে হিন্দুত্ব ও পিছিয়ে পড়া শ্রেণিকে বার্তা দিত বিজেপি, এ ক্ষেত্রেও জ্যোতিকে সে ভাবে ব্যবহারের পরিকল্পনা ভেবে রেখেছে দল।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে