গুয়াহাটিতে শুরু দ্বিতীয় ব্রিকস যুব সমাবেশ

বিদ্বেষ দূরে সরিয়ে পাশাপাশি বসে চিনের মন্ত্রী, অরুণাচলের অতিথিরা। হাতে মেহেন্দি পরা রাশিয়ান সুন্দরীর ছবি ক্যামেরাবন্দি করছেন দক্ষিণ আফ্রিকার এক সচিব। কার্যত পাঁচ দেশের মিলন মেলা, দ্বিতীয় ব্রিকস যুব উৎসব শুরু হল গুয়াহাটিতে।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ জুলাই ২০১৬ ০৩:০২
Share:

বিদ্বেষ দূরে সরিয়ে পাশাপাশি বসে চিনের মন্ত্রী, অরুণাচলের অতিথিরা। হাতে মেহেন্দি পরা রাশিয়ান সুন্দরীর ছবি ক্যামেরাবন্দি করছেন দক্ষিণ আফ্রিকার এক সচিব। কার্যত পাঁচ দেশের মিলন মেলা, দ্বিতীয় ব্রিকস যুব উৎসব শুরু হল গুয়াহাটিতে।

Advertisement

উত্তর-পূর্ব বিকাশ মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহ, মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তরুন গগৈ এবং ব্রিকসের অন্য সদস্য দেশ—রাশিয়া, চিন, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিলের মন্ত্রী-সচিবদের উপস্থিতিতে তিন দিন ধরে চাঁদের হাট গুয়াহাটি। নাচ-গানের মধ্যে অবশ্য তাল কাটার উপক্রম হয়েছিল যখন ভারতের ছাত্ররা মঞ্চে থাকা চিনের প্রতিনিধিদের দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন, নরেন্দ্র মোদীর ‘অ্যাক্ট ইস্ট নীতি’ কি চোখে দেখছেন তাঁরা। তিন বার প্রশ্ন সম্পর্কে জেনে নিয়ে মূল প্রসঙ্গ পাশ কাটিয়ে দোভাষীর সাহায্য নিয়ে চিনের মন্ত্রী চোইজান ওয়ান বলেন, ‘‘যুব বিকাশে নেওয়া যে কোনও পদক্ষেপ কে স্বাগত! ভারতের যুবকদের দেশে স্বাগত জানিয়েছি আমরা। সংস্কৃতি বিনিময় চলছে! দুই দেশ হাত মিলিয়ে আর্থিক বিকাশও সম্ভব।’’ ব্রাজিলের মন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হয়, দেশে এত দারিদ্র্য এত হিংসার মধ্যে অলিম্পিক করে লাভ কী? আর সুষ্টুভাবে তা করা কি সম্ভব? ব্রাজিল জানায়, অলিম্পিকের মতো কর্মযজ্ঞই আনতে পারে দিন বদল। যুব সম্প্রদায় ও অর্থনীতিকে এক সুতোয় বাঁধতে পারে অলিম্পিকই! অলিম্পিকের আয়োজন শেষ। চলছে ফিনিশিং টাচ। ইউপোয়িয়ান ইউনিয়ন নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় রাশিয়ার প্রতিনিধি জানান, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে ইংল্যান্ডের বেরিয়ে যাওয়া তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার! তার প্রভাব ব্রিকসে পড়বে না। বিশ্বের ৪২ শতাংশ জনসংখ্যার অধিকারী এই পাঁচটি দেশের জোট ক্রমেই একে অন্যের সঙ্গে হাত মিলিয়ে উৎপাদন ও অর্থনৈতিক লাভ বাড়াচ্ছে।

ভারত এ বছর ব্রিকসের চেয়ারম্যান। অসমে দ্বিতীয় যুব সমাবেশের পাশাপাশি অক্টোবরে গোয়ায় বসবে ব্রিকসের অষ্টম সম্মেলন। জিতেন্দ্র সিংহ ও সর্বানন্দ বলেন, ব্রিকস সম্মেলনের হাত ধরে অসম আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও পাকা জায়গা করে নেবে। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল বলেন, এত বড় আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের ভার গুয়াহাটিকে দিয়ে সম্মানিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সমাবেশে যোগ দেওয়া চার দেশের প্রতিনিধিদের মাজুলি-কাজিরাঙা-মানস ঘুরে দেখতে পরামর্শ দেন। উত্তর-পূর্ব উন্নয়নমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহ বিদেশের বিনিয়োগকারীদের রাজ্যে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। বলেন, ভারতীয় জনসংখ্যার ৬৫ শতাংশের বয়স ৩৫ বছরের কম। এই প্রজন্মের হাতেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভার। এই সম্মলেনে যে বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হবে সেগুলি হল: যুব সম্প্রদায়ের দক্ষতা বৃদ্ধি ও নতুন উদ্যোগ গড়া, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি, যুব সমাজের এগিয়ে আসা ও স্বতস্ফূর্ততা, সরকারে যুব প্রজন্মের ভূমিকা।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement