ওম বিড়লা। —ফাইল চিত্র।
লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিস জমা পড়েছিল মঙ্গলবার। কিন্তু বিরোধী দলগুলির তরফে জমা দেওয়া ওই নোটিসে চার জায়গায় ভুল তারিখ লেখা ছিল। সূত্র উদ্ধৃত করে এমনটাই জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা পিটিআই। ওই সূত্রের দাবি, স্পিকার ওই ‘ভুল’ নোটিস সংশোধন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেন লোকসভার সচিবালয়কে। যদিও এই বিষয়ে কোনও পক্ষই আনুষ্ঠানিক ভাবে মুখ খোলেনি।
মঙ্গলবার দুপুরে লোকসভার সচিবালয়ে স্পিকারের বিরুদ্ধে সংসদীয় আইনের ৯৪(সি) ধারায় নোটিস জমা দেন কংগ্রেসের মুখ্য সচেতক কে সুরেশ। সঙ্গে ছিলেন লোকসভায় কংগ্রেসের সহকারী দলনেতা গৌরব গগৈ এবং হুইপ মহম্মদ জাভেদ। ছিলেন সমাজবাদী পার্টি (এসপি), ডিএমকের প্রতিনিধিরাও।
পিটিআই-এর প্রতিবেদন অনুসারে, মঙ্গলবার দুপুরে ১১৮ জন বিরোধী সাংসদের স্বাক্ষর সংবলিত যে নোটিস লোকসভার সেক্রেটারি জেনারেল উৎপলকুমার সিংহের কাছে জমা পড়েছিল, তাতে চার জায়গায় ভুল তারিখ লেখা ছিল। লোকসভার একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে ওই প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী ওই নোটিস খারিজ হয়ে যাওয়ার কথা।
সূত্র উদ্ধৃত করে পিটিআই-এর প্রতিবেদনে এ-ও বলা হয়েছে যে, লোকসভার সচিবালয়কে ওই ভুল তারিখ সংবলিত নোটিস সংশোধন করা এবং তার প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেন তিনি। ওই প্রতিবেদনেই অবশ্য বলা হয়েছে, মঙ্গলবার রাতের দিকে আগের নোটিসটি প্রত্যাহার করে নিয়ে নতুন নোটিস জমা দেন বিরোধীরা।
একটি সূত্রের দাবি, নিয়ম অনুযায়ী নতুন নোটিসটিও খতিয়ে দেখবে লোকসভার সচিবালয়। ৯ মার্চ লোকসভায় দ্বিতীয় দফার বাজেট অধিবেশন শুরু হওয়ার পর অনাস্থা নোটিসের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সংসদীয় প্রথা মেনে অনাস্থা প্রস্তাব ঘিরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না-হওয়া পর্যন্ত সভা পরিচালনা করবেন না স্পিকার। ফলে বাজেট অধিবেশনের প্রথম পর্বের বাকি তিন দিন (বুধ, বৃহস্পতি এবং শুক্র) সংসদের নিম্নকক্ষে দেখা যাবে না বিড়লাকে। সচিবালয় সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই এই নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছেন বিড়লা।
স্পিকারের বিরুদ্ধে জমা দেওয়া অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিসে স্বাক্ষর করেননি তৃণমূল সাংসদেরা। মঙ্গলবার দুপুরেই লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দেন, কংগ্রেস যে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে চায়, তাতে তৃণমূলের সাংসদদের সই করতে কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু তার আগে বিজেপি-বিরোধী মঞ্চ ‘ইন্ডিয়া’-ভুক্ত দলগুলির যৌথ বিবৃতি দাবি করেন অভিষেক। জানিয়ে দেন, সে প্রক্রিয়া মানলে তবেই তৃণমূল তাতে সই করবে।