হিরণের আগাম জামিনের আবেদন মঞ্জুর করল কলকাতা হাই কোর্ট। ছবি: সংগৃহীত।
অভিনেতা তথা বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের আগাম জামিনের আবেদন মঞ্জুর করল কলকাতা হাই কোর্ট। আনন্দপুর থানায় হিরণের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন তাঁর প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়। বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের এজলাসে আগাম জামিন মঞ্জুর হল তাঁর। প্রতি ১৫ দিন অন্তর এক বার করে তদন্তকারী অফিসারের কাছে হাজিরা দিতে হবে হিরণকে।
এই প্রেক্ষিতে আনন্দবাজার ডট কম-কে হিরণ বলেন, “ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক বিষয় পরিবারের মধ্যেই রাখা উচিত। প্রত্যেকের বাড়িতেই মা এবং মেয়ে আছে। সেই সম্মান রেখে দেশের বিচারব্যবস্থার কাছে যাই। আমার নিজের উপরে বিশ্বাস ছিল, সেই বিশ্বাস থেকেই আমি জামিনের আবেদন করেছিলাম।”
অভিনেতা তথা বিধায়কের আগাম জামিনের খবর প্রকাশ্যে আসার পরে প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতার সঙ্গে আনন্দবাজার ডট কম-এর তরফে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বলেন, “পাপ করলেই তো কেউ জামিন নিতে যায়। সাধারণ মানুষ তো যায় না জামিন নিতে। এটা ও পরেও নিতে পারত। নিশ্চয়ই ওর মনে হয়েছে গর্হিত পাপ করেছে। ও সর্বত্র বলছে ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে বলতে চায় না। ওকে আগে বুঝতে হবে, ব্যক্তিগত কোনটা আর পাবলিক কোনটা।”
হিরণের আগাম জামিন মামলার শুনানির তারিখ ধার্য করা হয়েছিল ৪ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু সেই তারিখ পিছিয়ে যায়। এরই মধ্যে হিরণ তাঁর দল বিজেপি-র হয়ে প্রচারের কাজ শুরু করেছেন। সমাজমাধ্যমে দফায় দফায় সেই সংক্রান্ত পোস্ট ভাগ করেছেন।
হিরণের দ্বিতীয় বিয়ের ছবি প্রকাশ্যে আসতেই আনন্দপুর থানায় অভিনেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছিলেন তাঁর প্রথম স্ত্রী। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের হয় মামলা। গত ২৮ জানুয়ারি, তাঁর আইনজীবী দ্রুত শুনানি চেয়ে বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি আদালতকে জানান, তাঁর মক্কেল বর্তমানে একজন বিধায়ক। তাই হিরণের আগাম জামিনের জন্য দ্রুত শুনানির আর্জি জানান তিনি।
পুলিশ সূত্রে খবর পাওয়া গিয়েছিল, হিরণের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৪৯৪ ধারা (স্বামী বা স্ত্রী বেঁচে থাকা সত্ত্বেও যদি কেউ আবার বিয়ে করেন। শাস্তি হতে পারে সাত বছর পর্যন্ত জেল বা জরিমানা অথবা দুটোই) ও ৪৯৮এ ধারায় (বিবাহিত মহিলার উপর স্বামীর নির্যাতন এবং গার্হস্থ্য হিংসা। হতে পারে তিন বছর পর্যন্ত জেল এবং জরিমানা) মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে হিরণ বা তাঁর প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা আর কোনও মন্তব্য করেননি।