Sudden Death

ভারতে লাফিয়ে বাড়ছে আকস্মিক মৃত্যুর সংখ্যা

অকস্মাৎ মৃত্যু বলতে সেই ধরনের মৃত্যুকেই বোঝানো হয়, যা কোনও রকম হিংসার ঘটনা ছাড়া কয়েক মিনিটের মধ্যে ঘটে যায়। এনসিআরবি রিপোর্টে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু এবং আত্মহত্যার বিষয়টি আলাদা ভাবে রাখা হয়েছে।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ১০ মে ২০২৬ ০৮:২০
Share:

—প্রতীকী চিত্র।

ভারতে অকস্মাৎ মৃত্যুর সংখ্যা এখন বিরাট ভাবে বেড়ে গিয়েছে। বিশেষ করে ৩০ থেকে ৬০ বছর বয়সি পুরুষেরা এর শিকার হচ্ছেন। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস বুরোর (এনসিআরবি) সাম্প্রতিক রিপোর্টে এই তথ্য সামনে এসেছে।

এনসিআরবি রিপোর্ট জানাচ্ছে, ২০২৪ সালে ভারতে ৭৬০২৪টি অকস্মাৎ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এক দশকের মধ্যে যা সর্বোচ্চ। বলা হয়েছে, মৃতের এই সংখ্যায় ৪৮৯৯৯ জন ৩০ থেকে ৬০ বছরের সীমার ভিতরে রয়েছেন। যার মধ্যে ৪২৬৮৮ জন পুরুষ। অর্থাৎ, ১০ জনের আটজনই পুরুষ। পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, ভারতে কর্মক্ষম ধরা হয়, এমন বয়সসীমায় থাকা পুরুষদের মধ্যে রোজই ১২০ জনের অকস্মাৎ মৃত্যু ঘটছে। চিন্তার বিষয় হল, ২০১৭-র নিরিখে এই সংখ্যাটা অনেকটাই বেড়েছে। সেই সময় সংখ্যাটা ছিল ৬৪। রিপোর্ট আরও জানাচ্ছে, ভারতে গত বছরগুলিতে সামগ্রিক ভাবে অকস্মাৎ মৃত্যুর সংখ্যা ঊর্ধ্বমুখী। ২০২৩ সালে দেশে অকস্মাৎ মৃত্যু হয়েছিল ৬৩৬০৯ জনের। ২০১৭ তে সেই সংখ্যা ছিল ৪২৯৯৯। অর্থাৎ, ২০২৪-এ গিয়ে দেখা যাচ্ছে, ২০২৩-এর তুলনায় অকস্মাৎ মৃত্যু ২০ শতাংশ এবং ২০১৭-র তুলনায় ৭৭ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে।

অকস্মাৎ মৃত্যু বলতে সেই ধরনের মৃত্যুকেই বোঝানো হয়, যা কোনও রকম হিংসার ঘটনা ছাড়া কয়েক মিনিটের মধ্যে ঘটে যায়। এনসিআরবি রিপোর্টে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু এবং আত্মহত্যার বিষয়টি আলাদা ভাবে রাখা হয়েছে। রয়েছে হার্ট অ্যাটাকের প্রসঙ্গও। তবে কাজের বয়সসীমার মধ্যে থাকা পুরুষদের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাক নয়, অন্য কোনও কারণে অকস্মাৎ মৃত্যুর ঘটনা ২০১৭ সালের তুলনায় দ্বিগুনের বেশি বেড়ে গিয়েছে বলে রিপোর্টে জানানো হয়েছে। ২০১৭ সালে রোজ এমন ২৫ জনের মৃত্যু হতো, এখন সংখ্যাটা ৫২তে পৌঁছে গিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে বেড়ে গিয়েছে হার্ট অ্যাটাকের ফলে অকস্মাৎ মৃত্যুর সংখ্যাও। ১৪০১১ থেকে বেড়ে তা ২৩৬০০ তে পৌঁছেছে। যা ভারতের মোট হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুর ঘটনার মধ্যে ৬১.১ শতাংশ। রিপোর্ট জানাচ্ছে, এ ক্ষেত্রে ২০২৪ সালে ৪৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি পুরুষদের মৃত্যু হয়েছে ১২৯২০ জনের। যা এই কারণে মোট মৃত্যুর এক-তৃতীয়াংশ।

অকস্মাৎ মৃত্যুর ‘অন্য’ কারণগুলি নিয়ে অবশ্য এনসিআরবি রিপোর্টে আলাদা ভাবে তথ্য পেশ করা হয়নি। ফলে সেই বিষয়ে আন্দাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে ২০২০ সালে কোভিড পরবর্তী সময়ে ভারতে আকস্মিক মৃত্যুর সংখ্যা অনেক বেড়ে গিয়েছে। কোভিডের প্রতিষেধক নেওয়াই এর কারণ কি না, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল। তবে আইসিএমআরের মতো সংস্থার সমীক্ষার কথা উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক সেই সম্ভাবনাকে খারিজ করে দিয়েছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন