আইআইটি খড়্গপুরের পড়ুয়া ঋতম মণ্ডলের মৃত্যুর ঘটনায় পদক্ষেপ করল সুপ্রিম কোর্ট। —ফাইল চিত্র।
আইআইটি খড়্গপুর এবং নয়ডার এক বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ার মৃত্যুর ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করল সুপ্রিম কোর্ট। গত সপ্তাহে আইআইটি খড়্গপুরে চতুর্থ বর্ষের এক পড়ুয়ার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। পড়ুয়া আত্মহত্যা করেছেন বলে অনুমান করা হচ্ছে। উত্তরপ্রদেশের নয়ডাতেও এক বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেল থেকে ছাত্রীর দেহ উদ্ধার হয় গত সপ্তাহে। উদ্ধার হয় সুইসাইড নোটও। পর পর এই দুই ঘটনায় এ বার স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করল শীর্ষ আদালতের বিচারপতি জেবি পার্দিওয়ালা এবং বিচারপতি আর মহাদেবনের বেঞ্চ।
পড়ুয়াদের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকেই বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ, শিক্ষা ব্যবস্থায় কিছু একটা গলদ রয়েছে। আইআইটি খড়্গপুর এবং নয়ডার ওই বিশ্ববিদ্যালয়— উভয় ক্ষেত্রেই ঘটনার পরে দ্রুত তা পুলিশকে জানানো হয়েছিল কি না, তা জানতে চায় সুপ্রিম কোর্ট। এ বিষয়ে এক সিনিয়র আইনজীবী অপর্ণা ভট্টকে আদালতবান্ধব (অ্যামিকাস কিউরি) হওয়ার জন্য বলেছে দুই বিচারপতির বেঞ্চ। দু’টি ঘটনার ক্ষেত্রে কখন এফআইআর রুজু হয়েছিল, কর্তৃপক্ষ দ্রুততার সঙ্গে পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন কি না— এই সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে তা আদালতকে জানানোর জন্য বলা হয়েছে ওই আইনজীবীকে।
নয়ডার ওই নিহত ছাত্রী ডেন্টাল সার্জারি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী।হস্টেল থেকে যে সুইসাইড নোটটি উদ্ধার হয়েছিল, সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেন্টাল বিভাগের এক শিক্ষক এবং এক শিক্ষিকার দিকে আঙুল তুলেছেন তিনি। তাঁদের বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি আইআইটি খড়্গপুরে গত সাত মাসে এই নিয়ে যে চতুর্থ বার কোনও পড়ুয়ার মৃত্যু হল, সে বিষয়টিও নজরে আসে আদালতের। কী হচ্ছে ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, তা নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট।
এর আগে গত ২৪ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট একটি মামলায় জানিয়েছিল, প্রতিটি আত্মহত্যার ঘটনায় এফআইআর রুজু করতে হবে। আইআইটি খড়্গপুর এবং নয়ডার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে ঘটনার পরে কী পদক্ষেপ করেছিলেন কর্তৃপক্ষ, তা জানতে চায় আদালত। সুপ্রিম কোর্ট আরও জানিয়েছে, যদি দেখা যায় এফআইআর রুজু হয়নি, বা কোনও দেরি হয়েছে, সে ক্ষেত্রে আদালত অবমাননার জন্য পদক্ষেপও করা হতে পারে। আগামী সোমবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে।