Fuel Price

তেলের ‘দাম’ দিয়েছেন ইন্দিরারা, চিন্তা বিজেপির

মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর গদিতে নরেন্দ্র মোদী ১২ বছর পূর্ণ করলেন। রাজনাথ সিংহ, নির্মলা সীতারামন-সহ সমস্ত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী থেকে বিজেপির শীর্ষ নেতারা মোদীর ১২ বছরের রাজত্বকে ‘দেশের সভ্যতা ও উন্নয়নের ইতিহাসে বদলের সময়কাল’ বলে বর্ণনা করেছেন।

প্রেমাংশু চৌধুরী

শেষ আপডেট: ২৭ মে ২০২৬ ০৯:২২
Share:

নরেন্দ্র মোদী। — ফাইল চিত্র।

ইন্দিরা গান্ধী থেকে মোরারজি দেশাই, পি ভি নরসিংহ রাও থেকে মনমোহন সিংহ—অতীতে বারবার বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের দাম দেশের প্রধানমন্ত্রীদের চিন্তায় ফেলেছে। কখনও তা সরকারের পতনের কারণ হয়েছে। কখনও আবার আর্থিক সংস্কারের রাস্তা তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর গদিতে নরেন্দ্র মোদী ১২ বছর পূর্ণ করলেন। রাজনাথ সিংহ, নির্মলা সীতারামন-সহ সমস্ত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী থেকে বিজেপির শীর্ষ নেতারা মোদীর ১২ বছরের রাজত্বকে ‘দেশের সভ্যতা ও উন্নয়নের ইতিহাসে বদলের সময়কাল’ বলে বর্ণনা করেছেন। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ মোদীকে ‘বিশ্বের জনপ্রিয়তম নেতা’ আখ্যা দিয়েছেন। মোদীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে ‘আপনাপন’ নামের বই প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহান।

এর মধ্যেই পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের ফলে বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের দাম মোদী সরকারকে চিন্তায় রেখেছে। ইতিমধ্যেই চার দফায় পেট্রল, ডিজ়েলের দাম বেড়েছে। বেড়েছে গণ পরিবহণের জ্বালানি সিএনজি-র দাম। রান্নার গ্যাসের দামও বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অর্থনীতিবিদেরা মনে করছেন, আগামী দিনে মূল্যবৃদ্ধির হার বাড়বে। ইওয়াই ইন্ডিয়া-র মুখ্য নীতি উপদেষ্টা ডি কে শ্রীবাস্তবের মতে, ‘‘পেট্রল, ডিজ়েলের দাম ইতিমধ্যেই লিটার প্রতি ৭.৫০ টাকা মতো বেড়েছে। এর ধাক্কায় খুচরো বাজারে মূল্যবৃদ্ধির হার মে মাসে ৪ থেকে ৪.৫%, জুনে ৪.৫ থেকে ৫% ছুঁয়ে ফেলবে। যেহেতু জ্বালানির খরচ বাড়ার ফলে মূল্যবৃদ্ধি বাড়বে, তাই রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক সুদের হার বাড়ালেও এই মূল্যবৃদ্ধিকে পুরোপুরি লাগাম পরানো যাবে না।’’

বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের চিন্তা হল, অতীতেও তেলের দাম ও মূল্যবৃদ্ধি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে। অর্থনীতিবিদেরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ইন্দিরা গান্ধীর আমলে ১৯৭৩ সালে অশোধিত তেলের দাম চার গুণ বেড়েছিল। তার ফলে দেশে মূল্যবৃদ্ধির হার ৩০ শতাংশ বেড়ে যায়। সেখান থেকে শুরু। বিরোধীদের ক্ষোভ সামলাতেই পরবর্তী কালে ইন্দিরা গান্ধীকে জরুরি অবস্থা জারি করতে হয়েছিল। ১৯৭৯ সালে আবার অশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে দেশের অর্থনীতি ধাক্কা খেয়েছিল। তার পরে মোরারজি দেশাই সরকারের পতন হয়। ইন্দিরার প্রত্যাবর্তন ঘটে। ১৯৯০ সালে কুয়েতে ইরাকের হামলার ফলে তেলের দাম বাড়ায় বিদেশি মুদ্রার সঙ্কট তৈরির হওয়ায় নরসিংহ রাও-মনমোহন সিংহকে আর্থিক সংস্কারের পথে হাঁটতে হয়েছিল। মনমোহন জমানার শেষে ২০১২-তে চড়া অশোধিত তেলের দামের ধাক্কায় মূল্যবৃদ্ধি, বিদেশি মুদ্রার লেনদেনের ঘাটতির জেরে ভারতের নাম পাঁচটি ভঙ্গুর অর্থনীতির তালিকায় ঢুকে পড়েছিল।

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে মোদী সরকারকে নিশানা করে বলেছেন, ‘‘দেশের সমস্ত শ্রেণির মানুষ মোদী সরকারের উপরে ক্ষুব্ধ। সবাই বুঝতে পারছেন, জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে মূল্যবৃদ্ধি বাড়বে। তার প্রভাব আমজনতার পকেটে পড়বে।’’ বিজেপি নেতাদের পাল্টা যুক্তি, নরেন্দ্র মোদী পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের ফলে এই সঙ্কট সমাধানে আর্থিক সংস্কারের রাস্তা নেবেন। ইতিমধ্যেই তিনি সেই বার্তা দিয়েছেন। গত শনিবার রাহুল গান্ধী কংগ্রেসের একটি বৈঠকে দলের নেতাদের বলেছিলেন, যে আর্থিক সঙ্কট তৈরি হচ্ছে, তাতে নরেন্দ্র মোদীকে এক বছরের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর গদি থেকে বিদায় নিতে হবে। মঙ্গলবার সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব বলেন, ‘‘উনি ঠিকই বলেছেন। কারণ, আগামী বছর উত্তরপ্রদেশে বিজেপিকে হারিয়ে সমাজবাদী পার্টি সরকার গড়বে। দিল্লিতে বিজেপি সরকারেরপতন হবে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন