—প্রতীকী চিত্র।
ঘন পাইনে ঘেরা পহেলগামের বৈসরন উপত্যকায় রোদ ঝলমলে অলস দুপুরে প্রিয়জনের সঙ্গে দিব্যি সময় কাটছিল। কে জানত, সেই জায়গা মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হবে! ঘন পাইন গাছের ফাঁক দিয়ে জঙ্গিদের গুলিতে এ ফোঁড় ও ফোঁড় হয়ে যান ২৬ জন। গত বছর ২২ এপ্রিল ঘটে যাওয়া সেই সন্ত্রাসবাদী হামলার ঘা এখনও দগদগে। এখন সেই মনোরম পহেলগাম পরিণত হয়েছে কড়া নিরাপত্তার দুর্গে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকরা তখন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করতে তৃণভূমি ও পাইন বনে ভিড় জমাতেন, তাঁদেরই এখন অবিরাম নজরদারিতে ঘেরা এক ভূখণ্ডে চলাচল করতে হচ্ছে। দীর্ঘ নিরাপত্তা পর্যালোচনার পর জম্মু ও কাশ্মীরের পর্যটন ব্যবস্থা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হলেও বৈসরন এখনও আতঙ্ক মুক্ত হয়নি।
অনন্তনাগ জেলার পহেলগাম শহর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই সবুজ বিস্তীর্ণ তৃণভূমি বৈসরনে শুধু পায়ে হেঁটে বা ঘোড়ায় চড়ে পৌঁছনো যায়। যাকে ভালবেসে ভ্রমণপিপাসুরা ‘মিনি সুইৎজ়ারল্যান্ড’ বলে থাকেন। গত বছর ২২ এপ্রিল সন্ত্রাসবাদী হামলার পরে উপত্যকার প্রায় ৫০টি পর্যটনস্থল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে টিউলিপ বাগান-সহ ১৪টি পর্যটনস্থল খুলে দেওয়া হয়। তবে বৈসরন এখনও পুরোপুরি খোলেনি। সেনা টহলের পাশাপাশি অনন্তনাগ থেকে পহেলগামের ৪৩ কিলোমিটারের দীর্ঘ যাত্রাপথের প্রতিটি গাড়ি, পর্যটকদের বৈধ পরিচয়পত্র, তাদের ভ্রমণ বিবরণ সম্পর্কিত নানান তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পহেলগাম থানার একজন উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, “বৈসরন উপত্যকা সর্বক্ষণ নজরদারিতে রয়েছে। জায়গায় জায়গায় অত্যাধুনিক সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা সন্তুষ্ট নই। দিনের পর দিন পর্যটকদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে।”
আর এক জন পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, “এক বছর হতে চলল তদন্ত এখনও চলছে। সন্দেহজনকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। যাঁরা ঘটনার দিন বৈসরনে উপস্থিত ছিলেন তাঁদেরও নজরে রাখা হয়েছে। নিরাপত্তার খাতিরে তাঁরা ফোন নম্বর বদল করতে পারছেন না।”
পহেলগামের কাছে একটি নিজস্বী পয়েন্টে যানবাহন তল্লাশির সময়ে এক সেনা কর্মকর্তা বলেন, “নিরাপত্তাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। প্রতিটি হারানো জীবনের প্রতি আমাদের এই দায়বদ্ধতা রয়েছে যে, এমন ঘটনার যেন আর পুনরাবৃত্তি না হয়।” আধাসেনা কমান্ডার হরপ্রীত জানিয়েছেন, “পর্যটন তখনই ফিরে আসবে যখন আমরা পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারব।” তিনি আরও বলেন, “বিশ্বাস গড়ে তুলতে সময় লাগে। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে