Actress Sukumari

১০ বছর থেকে অভিনয়, কেরিয়ারে আড়াই হাজার ছবি! ১৬ বছরের বড় পরিচালককে বিয়ে, প্রদীপ জ্বালাতে গিয়ে মৃত্যু হয় অভিনেত্রীর

দীর্ঘ ছয় দশকের কর্মজীবনে মূলত তামিল এবং মালয়ালম ভাষার ছবিতে অভিনয় করলেও কন্নড়, তেলুগু, হিন্দি ভাষার পাশাপাশি অন্যান্য ভাষার ছবিতেও অভিনয় করতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। চলচ্চিত্রজগতে তাঁর অবদানের জন্য ২০০৩ সালে ভারত সরকারের তরফে তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মান দেওয়া হয়েছিল।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৪১
Share:
০১ ১৪

ছয় দশকের কেরিয়ারে ঝুলিতে ভরে ফেলেছিলেন আড়াই হাজারের বেশি ছবি। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি ছিলেন নৃত্যেও পারদর্শী। বড়পর্দায় গুরুগম্ভীর চরিত্র থেকে শুরু করে কৌতুক চরিত্রে নিজেকে সমান ভাবে প্রমাণ করেছেন। ভাগ্যের জোরে অভিনয় নিয়ে কেরিয়ার শুরু করেছিলেন তিনি। কিন্তু তাঁর মৃত্যু ছিল সাংঘাতিক। বাড়িতে প্রদীপ জ্বালাতে গিয়ে পুড়ে গিয়েছিল অভিনেত্রীর শরীরের একাংশ। চিকিৎসারত অবস্থায় মারা গিয়েছিলেন দক্ষিণী চলচ্চিত্রজগতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সুকুমারী।

০২ ১৪

১৯৪০ সালের অক্টোবরে তামিলনাড়ুতে জন্ম সুকুমারীর। বাবা-মা, চার বোন এবং এক ভাইয়ের সঙ্গে সেখানেই থাকতেন তিনি। তাঁর বাবা পেশায় ব্যাঙ্কের কর্মী ছিলেন।

Advertisement
০৩ ১৪

ছোটবেলা থেকে নাচ শিখতেন সুকুমারী। শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে প্রশিক্ষণ নিয়ে ভারতের পাশাপাশি বিদেশেও নাচের অনুষ্ঠান করতেন তিনি। নাচের পাশাপাশি সিনেমার প্রতিও আগ্রহ কম ছিল না তাঁর।

০৪ ১৪

সুকুমারীর তুতো বোন ‘ত্রাভাঙ্কোর সিস্টার্স’দের মাধ্যমে তিনি ত্রাভাঙ্কোর রাজপরিবারের সঙ্গে দূরসম্পর্কের আত্মীয়তায় আবদ্ধ ছিলেন। সেই পরিবারের আভিজাত্য এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যই তাঁকে ছোটবেলা থেকে শাস্ত্রীয় নৃত্যকলায় পারদর্শী করে তুলেছিল।

০৫ ১৪

একটা সময় ছিল যখন দক্ষিণ ভারতীয় নাট্যমঞ্চে নারীচরিত্রে পুরুষ‌েরাই অভিনয় করতেন। সেই প্রথা ভেঙে দিয়েছিলেন অভিনেত্রী সুকুমারী। তিনি নারীদের মধ্যে অন্যতম প্রথম ছিলেন, যিনি মঞ্চে নারীচরিত্রে অভিনয় শুরু করেছিলেন। প্রখ্যাত নাট্যকার চো রামস্বামী তাঁকে থিয়েটারের জগতে নিয়ে এসেছিলেন।

০৬ ১৪

মাত্র সাত বছর বয়স থেকে নাচের জন্য দেশ-বিদেশের নানা জায়গায় অনুষ্ঠান করতে শুরু করেছিলেন সুকুমারী। বাড়ির কাছাকাছি একটি দক্ষিণী ছবির শুটিং চলায় কৌতূহলের বশে সেখানে চলে গিয়েছিলেন তিনি। তখনই ১০ বছরের সুকুমারীর দিকে নজর পড়েছিল এক দক্ষিণী পরিচালকের। ছোট্ট মেয়েটির জন্য তাঁর বাবা-মায়ের কাছে বড়পর্দায় অভিনয়ের প্রস্তাব নিয়ে গিয়েছিলেন পরিচালক। সেই প্রস্তাবে রাজি হয়ে গিয়েছিলেন সুকুমারীর বাবা-মা।

০৭ ১৪

১৯৫১ সালে মাত্র ১০ বছর বয়সে ‘অরু ইরাভু’ নামে তামিল ভাষার একটি ছবিতে প্রথম অভিনয় করেছিলেন সুকুমারী। কেরিয়ারের গোড়ার দিকে নৃত্যশিল্পী হিসাবে বড়পর্দায় মুখ দেখালেও কম সময়ের মধ্যে তিনি চরিত্রাভিনয়ের দিকে ঝুঁকে পড়েছিলেন। দক্ষিণী অভিনেতা আদুর ভাসির সঙ্গে সুকুমারীর কমেডি জুটি ছিল প্রশংসনীয়।

০৮ ১৪

পরবর্তী কালে মোহনলাল এবং মম্মূট্টির মতো জনপ্রিয় দক্ষিণী তারকাদের মা অথবা দিদার চরিত্রে অভিনয় করতেও পিছপা হননি সুকুমারী। অসামান্য অভিনয়দক্ষতার পাশাপাশি সুকুমারীর ছিল তাঁর সহকর্মীদের প্রতি স্নেহপূর্ণ আচরণ। দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই ভালবেসে সুকুমারীকে ‘সুকুমারী আম্মা’ বলে ডাকতেন।

০৯ ১৪

দক্ষিণের প্রখ্যাত পরিচালক এ ভীমসিংহকে ১৯৫৯ সালে বিয়ে করেছিলেন সুকুমারী। পেশাগত সূত্রে সুকুমারীর সঙ্গে আলাপ হয়েছিল ভীমসিংহের। সেই সময় দক্ষিণের নামকরা পরিচালক ছিলেন ভীমসিংহ। ১৯ বছরের সুকুমারী ছিলেন উঠতি নায়িকা। ভীমসিংহ পরিচালিত কয়েকটি ছবিতেও অভিনয় করতে দেখা গিয়েছিল সুকুমারীকে।

১০ ১৪

সুকুমারী ছিলেন ভীমসিংহের দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী। বিয়ের পর পুত্রসন্তান সুরেশের জন্ম দিয়েছিলেন সুকুমারী। ভীমসিংহের প্রথম পক্ষের সন্তানদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ছিল অভিনেত্রীর। সুরেশ পেশায় চিকিৎসক হলেও বেশ কয়েকটি দক্ষিণী ছবিতে অভিনয়ও করেছেন।

১১ ১৪

দীর্ঘ ছয় দশকের কর্মজীবনে মূলত তামিল এবং মালয়ালম ভাষার ছবিতে অভিনয় করলেও কন্নড়, তেলুগু, হিন্দি ভাষার পাশাপাশি অন্যান্য ভাষার ছবিতেও অভিনয় করতে দেখা গিয়েছিল সুকুমারীকে। চলচ্চিত্রজগতে তাঁর অবদানের জন্য ২০০৩ সালে ভারত সরকারের তরফে তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মান দেওয়া হয়েছিল।

১২ ১৪

সুকুমারীর যখন মাত্র ৩৮ বছর বয়স, তখন তাঁর পরিচালক-স্বামী মারা গিয়েছিলেন। সুকুমারীর চেয়ে ১৬ বছরের বড় ছিলেন ভীমসিংহ। স্বামীর মৃত্যুর পর আর বিয়ে করেননি সুকুমারী। পুত্রসন্তান এবং কেরিয়ার নিয়েই নিজেকে ব্যস্ত রাখতেন তিনি।

১৩ ১৪

৭২ বছর বয়সে চরম দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয়েছিলেন সুকুমারী। ২০১৩ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি। চেন্নাইয়ে নিজের বাড়িতে সন্ধ্যাবেলায় পুজো দেওয়ার সময় প্রদীপ জ্বালাতে গিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটেছিল। অসাবধানতাবশত অভিনেত্রীর সিল্কের শাড়িতে আগুন লেগে গিয়েছিল। আগুনে তাঁর শরীরের প্রায় ৪০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্তও হয়ে গিয়েছিল।

১৪ ১৪

দুর্ঘটনার পর সঙ্গে সঙ্গে সুকুমারীকে চেন্নাইয়ের এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। সেখানে তিনি প্রায় এক মাস চিকিৎসাধীন ছিলেন। তৎকালীন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতা ছিলেন সুকুমারীর ঘনিষ্ঠ বান্ধবী। সুকুমারীর চিকিৎসার ব্যক্তিগত ভাবে তদারকি করেছিলেন জয়ললিতা। চিকিৎসারত অবস্থায় ২৬ মার্চ হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছিলেন দক্ষিণী অভিনেত্রী সুকুমারী।

সব ছবি: সংগৃহীত।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
Follow us on:
আরও গ্যালারি
Advertisement