Seema Adgaonkar

ম্যানগ্রোভ ধ্বংস করে নগরায়ন, জঙ্গল বাঁচাতে হুমকি অগ্রাহ্য করে লড়াই এই সাহসিনীর

Advertisement
নিজস্ব প্রতিবেদন
শেষ আপডেট: ০২ অগস্ট ২০১৯ ১০:১৯
Share:
০১ ১২

জঙ্গলের মধ্যে হু হু করে ঢুকছে জোয়ারের জল। তড়িঘড়ি গাছে উঠে সে যাত্রা বাঁচল প্রাণ। তারপর শিখেছেন অনেক কিছু। যাঁরা পেটের তাগিদে কাঁকড়া ধরেন, তাঁরাও শিখিয়ে দিয়েছেন, জলের তোড়ে কী ভাবে কাঠের তক্তা ধরে প্রাণ বাঁচানো যায়। প্রতি মুহূর্তে শিখে চলেছেন সীমা আড়গাঁওকর। ছাপ্পান্নটি বসন্ত পেরনো জীবনে একটাই লক্ষ্য— মুম্বইয়ের ম্যানগ্রোভ অরণ্যকে বাঁচিয়ে রাখা। ছবি: ফেসবুক

০২ ১২

সীমার জন্ম মহারাষ্ট্রের খরাপ্রবণ জেলা বীড়ে। আশৈশব কৈশোর সে ভাবে কোনও দিন দেখেননি ম্যানগ্রোভ অরণ্য। বড় হয়ে ঠিক করলেন খুঁজে বের করতে হবে সেই অরণ্যকে। যা ছিল উপকূলবর্তী শহর মুম্বইয়ের পরিচয়। যা প্রায় হারিয়ে গিয়েছে নগরায়ণের চাপে। মুম্বইবাসীকে চেনাতে চাইলেন তাঁদের শহরের শিকড়। যা আকাশছোঁয়া বহুতলের সারিতে নেই। বরং আছে লবণাক্ত অরণ্যের শ্বাসমূলে। ছবি : শাটারস্টক

Advertisement
০৩ ১২

ছোট থেকেই সীমা এমন কিছু করতে চাইতেন যে কাজ মেয়েরা সচরাচর করে না। মহারাষ্ট্রের বন দফতরের ১৯৮৪ সালের প্রথম মহিলা ফিল্ড অফিসারদের মধ্যে তিনি এক জন। তিনি মনে করেন, মেয়েরা পারে না, হেন কোনও কাজ নেই। নিজেকে প্রমাণ করার জন্য একদিকে পুরুষ সহকর্মীদের তুলনায় তাঁকে দ্বিগুণ পরিশ্রম করতে হয়েছে।

০৪ ১২

মেয়ে হওয়ায় তাঁর কাজে সুবিধেও হয়েছে। অবলীলায় ঢুকে পড়েছেন উপকূল ঘেঁষা নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর রান্নাঘরে। কথা বলেছেন বাড়ির মেয়েদের সঙ্গে। কারণ এ সব বাড়ির পুরুষদের তুলনায় মেয়েরাই জঙ্গলে যান জীবিকার সন্ধানে। তাঁদের বুঝিয়েছেন অরণ্যের উপযোগিতা।

০৫ ১২

সমুদ্রের তীরবর্তী অঞ্চলে ম্যানগ্রোভ অরণ্য থাকা স্বাভাবিক। আরবসাগরের তীরে মুম্বইয়েও ছিল। কিন্তু ‘বম্বে’ থেকে ‘মুম্বই’ হওয়ার স্রোতে তা অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছে বাণিজ্যনগরী। কংক্রিটের জঙ্গলে মুখ লুকনো সেই সবুজকেই ফিরিয়ে আনতে চান সীমা।

০৬ ১২

মেরিন ড্রাইভের লোনা বাতাস। বা দাদারের ভিড়ে ঠাসা ফুটপাত। অথবা বান্দ্রার বহুতলের সারি। এর বাইরেও মুম্বইয়ের একটা প্রাণখোলা ফুসফুস ছিল। যেখানে জলাজমি, সরু নদী আর মোহনার মাঝে প্রাণ ভরে বিশুদ্ধ বাতাস নেওয়া যেত। এখন মুম্বই বললে সে সব ছবি কারও মনেই আসে না। এই চেনা ছবিটাই পাল্টাতে চান সীমা।

০৭ ১২

গত ছ’বছর ধরে পণ করেছেন সীমা। মুম্বইবাসীকে বুঝিয়ে চলেছেন, জলাজমির প্রয়োজনীয়তা। বলছেন, যদি ম্যানগ্রোভ থাকে, তবেই থাকবে ‘আমচি মুম্বই’। ম্যানগ্রোভ অরণ্য হল উপকূলের প্রহরী। যা মুম্বইয়ে বাঁচিয়ে রাখে সুনামির মতো বিপর্যয়ের হাত থেকে। মুম্বইবাসীকে বারবার মনে করিয়ে দেন সীমা।

০৮ ১২

প্রাক্তন রেঞ্জ ফরেস্ট অফিসার সীমা মাহারাষ্ট্রের বনবিভাগের অধীনে থাকা ‘মুম্বই ম্যানগ্রোভ কনজারভেশন ইউনিট’-এর অংশ। ৩৬ সদস্যের এই দলের দায়িত্ব মুম্বইয়ের জলাভূমি রক্ষা করা। সম্প্রতি পদোন্নতি হয়ে সীমা এখন অ্যাসিস্ট্যান্ট কনজারভেটর।

০৯ ১২

বম্বে হাইকোর্ট ২০০৫ সালে নির্দেশ দিয়েছিল, কোনও ভাবেই ম্যানগ্রোভ অরণ্য ধ্বংস করা যাবে না। এই অরণ্যের ৫০ মিটারের মধ্যে কোনও নির্মাণেও জারি করা হয় নিষেধাজ্ঞা। হাইকোর্টের নির্দেশের জেরেই ২০১২ সালে তৈরি হয় ‘মুম্বই ম্যানগ্রোভ কনজারভেশন ইউনিট’। গত বছর এই ইউনিটের উদ্যোগে বপন করা হয়েছে ২০ লক্ষ ম্যানগ্রোভের চারা। এ বছর বপন করা হবে আরও ৪০ লক্ষ।

১০ ১২

কিন্তু ঠান্ডাঘরে বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া যত সোজা, মাঠে নেমে কাজ করা ততই কঠিন। ম্যানগ্রোভের শ্বাসমূলে জড়িয়ে থাকে প্লাস্টিক। শ্বাস নিতে না পেরে মৃত্যু হয় গাছের। পাশাপাশি, ম্যানগ্রোভ অরণ্যে ছড়িয়ে থাকা আবর্জনাও বড় সমস্যা। তা ছাড়া, মুম্বইয়ে একচিলতে জায়গা মানুষের থেকেও মহার্ঘ। ফলে পরিবেশের উপর পড়ে নির্বিচার কোপ।

১১ ১২

কাজ করতে গিয়ে সীমাকে যথেষ্ট সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে। সামাজিক ও রাজনৈতিক, দু’দিক থেকেই এসেছে বাধা। মুখোমুখি হতে হয়েছে শারীরিক আঘাতেরও। এসেছে হুমকিও। কিন্তু কোনও কিছুই দমিয়ে রাখতে পারেনি তাঁকে। তিনি অরণ্যের অতন্দ্র প্রহরী। কলেজে লেকচারারের চাকরি করেও কাজ করে চলেছেন সবুজকে বাঁচিয়ে রাখতে। পাশাপাশি চলছে বৃক্ষরোপণ।

১২ ১২

ম্যানগ্রোভ থাকলেই থাকবে মাছ। তাই ‘কোলিওয়াড়া’ বা মৎস্যজীবীদের মহল্লায় গিয়ে বোঝাচ্ছেন সীমা। যাতে তাঁরা এগিয়ে আসেন অরণ্য রক্ষায়। সমাজের সব স্তরেই জারি সীমার সচেতনতা প্রসার। কারণ তিনি জানেন, অরণ্য আছে বলেই মুম্বই আছে। ম্যানগ্রোভ না থাকলে গাছের পাতার মতোই খসে পড়বে ক‌ংক্রিটের বহুতল। ছবি: শাটারস্টক

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
Follow us on:
আরও গ্যালারি
Advertisement