Padma Shri

‘পদ্মশ্রী’ পাওয়ার আগেই পাঁকে পদ্ম ফুটিয়েছেন এঁরা

এ বছরের পদ্মশ্রী সম্মান প্রাপকদের সকলে কী আমাদের চেনা? বিরাট কোহালি বা শরদ পওয়ারকে নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু, অনেকেই তো লোকচক্ষুর আড়ালে থেকে কাজ করে গিয়েই এই সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। যেমন, কলকাতার ফায়ারম্যান ক’জন চেনেন? যিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দমকলের গাড়ির আগেই পৌঁছে যান আগুন নেভাতে!

Advertisement
সংবাদ সংস্থা
শেষ আপডেট: ৩০ জানুয়ারি ২০১৭ ১১:৫৭
Share:
০১ ১৬

ভক্তি যাদব- তাঁর নাম ভক্তি হলেও এলাকায় তিনি ‘ডক্টর দাদি’ বলেই অধিক প্রসিদ্ধ। ১৯৪০ সাল থেকে বিনামূল্যে তিনি রোগীদের যত্নাদি করে আসছেন। এখন তাঁর বয়স ৯১ বছর। ইনদওরের প্রথম মহিলা এমবিবিএস এই ‘ডক্টর দাদি’। এখনও পর্যন্ত কমপক্ষে হাজারেরও বেশি প্রসূতির ‘ডেলিভারি’ করিয়েছেন তিনি। লক্ষাধিক মানুষকে মৃত্যুর দোরগোড়া থেকে ফিরিয়ে এনেছেন।

০২ ১৬

মীনাক্ষি আম্মা- কালারিপায়াত্তুর মীনাক্ষি আম্মার কাছে বয়স কেবল একটা সংখ্যা মাত্র। সাত বছর বয়স থেকে মার্শাল আর্ট করছেন ৭৬ বছরের এই মহিলা। ২০০৯ থেকে কেরলের ভাতাকারা গ্রামে নিজে একটি ট্রেনিং সেন্টারও খুলেছেন তিনি।

Advertisement
০৩ ১৬

দাড়িপল্লী রামাইয়া- আমরা সবাই যখন রান্নাঘর, অফিস কিংবা আধুনিকত্বের ছোঁয়ায় সোশ্যাল মিডিয়ায় মগ্ন, রামাইয়া তখন একের পর এক গাছের বীজ বপন করে চলেছেন। খালি জায়গা পেলেই তিনি পুঁতে ফেলেন গাছ। সবুজায়নের লক্ষ্যে মন্ত্রীদের কাছেও পৌঁছে গিয়েছেন রামাইয়া। দেওয়ালে দেওয়ালে পরিবেশ বান্ধব স্লোগানও লেখেন এই গাছপাগল মানুষটি।

০৪ ১৬

সুব্রত দাস- সকল হেল্পলাইন-এর নেপথ্যেই রয়েছেন সুব্রত দাস। বড় রাস্তার ধারে তাঁর এক বার দুর্ঘটনা হয়। কিন্তু চিকিৎসা পাওয়ার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। সুস্থ হওয়ার পরে নিজেই একটি হেল্পলাইন সংস্থা খুলে ফেলেন। রাস্তাঘাটে আহতদের সেবা শুশ্রুষা করার হেল্পলাইন সংস্থা। ২০০২-এর গুজরাতের সেই হেল্পলাইন সংস্থা আজকের একটি বড় অসরকারি সংস্থা। তাঁর সংস্থা প্রযুক্তিগত সাহায্য করে ১০৮ নম্বরটিকে সদা সচল রাখার জন্য।

০৫ ১৬

বিপিন গণত্র- আগুনের সঙ্গে লড়াই করবার মতো কোনও শিক্ষা তাঁর নেওয়া নেই। কিন্তু আগুন থেকে মানুষকে বাঁচিয়ে নিয়ে আসার তাঁর বিকল্প নেই। কলকাতার বিপিন গণত্র পেশায় এক জন ইলেকট্রিশিয়ন। ৫৯ বছরেরর এই প্রৌঢ় দমকল দফতরের এক জন ভলিন্টিয়ার। সর্ব ক্ষণ টিভির পর্দায় চোখ থাকে। কখন কোথায় আগুন লাগল! সঙ্গে সঙ্গে তিনি চলে যান আগুন নেভাতে।

০৬ ১৬

শেখর নাইক- দারিদ্রের সঙ্গে লড়াই করে নিজের দৃষ্টি আর ফিরে পাননি শেখর। কিন্তু তাতে কী, প্যাশনকে মাঝপথে ফেলে আসতে কখনও রাজি ছিলেন না এই খেলোয়াড়। ১২ বছর বয়সেই মা-বাবাকে হারিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু, ক্রিকেট চালিয়ে যাচ্ছিলেন এক নাগাড়ে। কর্নাটকের শিমোগার শেখর ভারতের দৃষ্টিহীন দলের হয়ে অধিনায়কত্ব করেছেন। তাঁর অধিনায়কত্বে জাতীয় দৃষ্টিহীন ক্রিকেট দল ২০১২-য় টি-২০ বিশ্বকাপ এবং ২০১৪ সালে বিশ্বকাপ দেশে নিয়ে আসে।

০৭ ১৬

গিরীশ ভরদ্বাজ- চাকরির বাজারে হাহাকারের সময়ে হতাশ হয়ে পড়েছিলেন ৬৭ বছরের গিরীশ ভরদ্বাজ। তার পর নিজেই বেছে নিয়েছেন নিজের কাজ। এমন কাজ যে কাজ তাঁকে পদ্মসম্মান এনে দিয়েছে। ‘রিমোট’ গ্রামে গিয়ে সেতু তৈরির কাজ করেন এই ‘সেতুবন্ধু’। কেরল, কর্নাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ, আর ওড়িশার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে মোটের উপর শতাধিক সেতু তৈরির কাজ করেছেন ।

০৮ ১৬

থাঙ্গালেভু মারিয়াপ্পা- ২০১৬-য় প্যারালিম্পিকে প্রথম ভারতীয় হিসাবে হাই জাম্পে সোনা জিতেছিলেন। কিন্তু এই জয় অনেক প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে এসেছিল। পাঁচ বছর বয়সে তাঁর পায়ের উপর দিয়ে চলে গিয়েছিল একটা বাস। কিন্তু ২১ বছর বয়সে তাঁর এই জয়ই তাঁকে পদ্মসম্মান এনে দিয়েছে।

০৯ ১৬

এলি আহমেদ- ৮১ বছরের এলি আহমেদের ঝুলিতে রয়েছে বহু কীর্তি। মহিলাদের জীবনযাপন নিয়ে উত্তর-পূর্ব ভারতে ‘ওরানি’ নামে একটি ম্যাগাজিন চালু করেছিলেন। ১৯৭০ সাল থেকে সেই ম্যাগাজিন তিনি আজও চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিবন্ধী জীবনের উপর তিনি বেশ কিছু নাটক করেছেন। অসমের প্রথম ফিল্ম ইনস্টিটিউটও তিনি চালু করেন।

১০ ১৬

বলবীর সিংহ সিচওয়াল- পঞ্জাবের পরিবেশবিদ বলবীর সিংহ সিচওয়াল রাজ্যের কালি বেন নদীকে পুনর্জাগরিত করেছিলেন। এক হাতে বিভিন্ন গ্রামের অধিবাসীদের নতুন জীবনদান করেছেন এই ‘ইকো বাবা’। নদীকে পরিষ্কার রাখার আহ্বান নিয়ে পথে নেমেছেন এই পরিবেশবিদ।

১১ ১৬

জেনাভাই দর্গভাই পটেল- গুজরাতের প্রত্যন্ত এক গ্রামের ‘আনার দাদা’ চাষ প্রতিকূল মাটিতে ডালিম চাষ করে বিখ্যাত হয়ে যান। প্রযুক্তিবিদ্যার সাহায্যে তিনি শুধু নিজের নন, অন্য চাষিদের মধ্যেও ছড়িয়ে দিয়েছেন এই বিদ্যা ও শিক্ষা।

১২ ১৬

করিমুল হক- সকলে তাঁকে অ্যাম্বুল্যান্স দাদা বলে ডাকে। মোটরবাইক নিয়ে তিনি যে অসুস্থ বা দুর্ঘটনার কবলে পড়াদের হাসপাতালে পৌঁছে দেন যে। পশ্চিমবঙ্গের ধালাবারি গ্রামে থাকেন করিমুল হক। নিজের জমানো টাকা দিয়েই কিনেছেন ‘দ্য করিমুল বাইক অ্যাম্বুল্যান্স’। খুব কম করে ৩০০০ মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছেন তিনি।

১৩ ১৬

সুকরি বোম্মা গোওডা- তাঁকে বলা হয় ‘হালাক্কির নাইটএঙ্গেল’। আবার কেউ তাঁকে বলেন সুকরি আজ্জি। হালাক্কি ভোক্কালিগাস আদিবাসী সম্প্রদায়ের গান আর কবিতাগুলোকে দীর্ঘ দিন ধরে সংগ্রহ করেছেন সুকরি আজ্জি। উত্তর কর্নাটকের বিলুপ্ত আদিবাসী সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য আজও বাঁচিয়ে রেখেছেন ৭৫ বছরের এই মহিলা।

১৪ ১৬

চিন্তাকিন্দি মাল্লেসাম- লক্ষ্মী এএসইউ নামক একটি যন্ত্রের আবিস্কার করে প্রসিদ্ধ হয়েছেন চিন্তাকিন্দি। এই যন্ত্রটি অন্ধ্রপ্রদেশের বিখ্যাত পচামপল্লি সিল্ক শাড়ি বুনতে সক্ষম।

১৫ ১৬

সুহাস ভিত্তল মাপুসকর- পুণের দেহু গ্রামে ১৯৬০-এ এসেছিলেন এই চিকিত্সক। তার পরে নিজের পেশাটাকেই সম্পূর্ণ বদলে নেন। গ্রামবাসীদের বিনামূল্যে শৌচালয় দেওয়ার ‘দায়ভার’ নিজের কাঁধে তুলে নেন। গ্রামবাসীরা তাঁর নাম দিয়েছেন ‘স্বচ্ছ দূত’। ২০১৫-য় তাঁর মৃত্যু হয়।

১৬ ১৬

সুনীতি সলোমন- এডস গবেষণার কার্যাবলীর জন্য তিনি বিখ্যাত। ১৯৮৫তে ভারতের প্রথম এইডস কোষটি নিরাময় করেছিলেন এই ফিজিশিয়ন ও মাইক্রোবায়োলজিস্ট। এডস সম্পর্কে তাঁর গবেষণা মানুষের মনে থাকা অনেক কুসংস্কারকে ভেঙে দিয়েছে।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
Follow us on:
আরও গ্যালারি
Advertisement