Bangladesh Election 2026

ভারতকে আক্রমণ করলেই সামরিক সাহায্য মিলবে! বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের সময় চিনকে বার্তা দিয়েছিলেন নিক্সন

গত ৫০ বছর ধরে ‘সিল’ করা খামে বন্দি ওয়াটারগেট রেকর্ড সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে। তাতে রয়েছে গ্র্যান্ড জুরির সামনে নিক্সনের দেওয়া সাক্ষ্য। সেখানে তিনি বেজিংকে দেওয়া আশ্বাসের পিছনে তাঁর যুক্তি ব্যাখ্যা করেছেন।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:৪১
Share:

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ভারত আক্রমণ করলে চিনকে ‘মার্কিন সামরিক সহযোগিতা’র আশ্বাস দিয়েছিল হোয়াইট হাউস! ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের তরফে ওই বার্তা এসেছিল বেজিঙে। ৫০ বছরের পুরনো ‘ওয়াটারগেট রেকর্ড’-এর সাত পাতার নতুন তথ্য সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। তাতে জানানো হয়েছে, ‘গ্র্যান্ড জুরি’র সামনে বয়ান নথিভুক্তির সময় নিক্সন স্বয়ং সেই অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছিলেন।

Advertisement

গত ৫০ বছর ধরে ‘সিল’ করা খামে বন্দি সাত পাতার ওয়াটারগেট রেকর্ড সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে। তাতে রয়েছে গ্র্যান্ড জুরির সামনে নিক্সনের দেওয়া সাক্ষ্য। সেখানে তিনি বেজিংকে দেওয়া আশ্বাসের পিছনে তাঁর যুক্তি ব্যাখ্যা করে বলেছিলেন— রাশিয়ানরা ভারতকে সমর্থন করছিল। অস্ত্র সরবরাহের উপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় কেউ পাকিস্তানকে সমর্থন করছিল না। কিন্তু আমরা তাদের নৈতিক সমর্থন দিচ্ছিলাম। পাশাপাশি, আমরা চিনাদের গোপনে আশ্বাস দিয়েছিলাম যে যদি ভারত সরাসরি পাকিস্তানকে আক্রমণ করে এবং তার প্রতিক্রিয়ায় চিন যদি ভারতীয়দের বিরুদ্ধে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নেয় তবে আমরা তাদের সমর্থন করব।’’

প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালে ৩ ডিসেম্বর সরাসরি ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ শুরুর পরে ভারতকে হুমকি দিয়েছিলেন নিক্সন। ভারত মহাসাগরে আমেরিকার সপ্তম নৌবহরের উপস্থিতি ঘিরে উত্তেজনাও তৈরি হয়। জবাবে ভারতের সমর্থনে পাল্টা নৌবহর পাঠায় রাশিয়া। বছর কয়েক আগে নিক্সনের একটি অডিয়ো টেপ ফাঁস হয়েছিল। ১৯৭১-এর জুন মাসের ওই অডিয়ো টেপে তৎকালীন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হেনরি কিসিঞ্জার ও হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফের সঙ্গে কথোপকথনে নিক্সনকে বলতে শোনা যায়, ‘‘গোটা বিশ্বে ভারতীয় মহিলারাই সবচেয়ে কুৎসিত।’’ মনে করা হয় ‘ভারত বিদ্বেষী’ মার্কিন প্রেসিডেন্টের আসল লক্ষ্য ছিলেন, তাঁর হুমকি উপেক্ষা করে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সহায়তার সিদ্ধান্ত অনড় থাকা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী।

Advertisement

প্রসঙ্গত, ‘ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারি’র মাধ্যমে ১৯৭২ থেকে ১৯৭৪ সালের মধ্যে প্রেসিডেন্ট নিক্সনের বিরুদ্ধে নানা গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছিল। যার জেরে ১৯৭৪ সালের ৯ অগস্ট প্রেসিডেন্ট পদ থেকে নিক্সন ইস্তফা দিয়েছিলেন। অভিযোগগুলির মধ্যে প্রথম ও প্রধান ছিল, কী ভাবে প্রেসিডেন্ট তাঁর ক্ষমতা ও পদের অপব্যবহার করে ১৯৭২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে প্রভাবিত করেছেন, কী ভাবে দুর্নীতির মাধ্যমে নিজ ক্ষমতা সুরক্ষিত করেছেন, কী ভাবে তথ্যপ্রমাণ চাপা দিয়ে জনসমক্ষে স্বচ্ছতার ভান করেছেন, কী ভাবে গণতান্ত্রিক বাক্‌স্বাধীনতার আড়ালে কর্তৃত্ববাদ চালু রেখেছেন। এর জেরে নিক্সনের বিরুদ্ধে ‘ইম্পিচমেন্ট’ প্রস্তাব আনা হয়েছিল মার্কিন কংগ্রেসে। সাংবাদিক বব উডওয়ার্ড এবং কার্ল বার্নস্টাইন যে ভাবে অনেক বাধা-প্রতিঘাত পেরিয়ে ‘হুইসল-ব্লোয়ার’-এর দায়িত্ব পালন করেছিলেন, তাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম প্রশংসিত হয়েছিল বিশ্ব জুড়ে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement