বৃষ্টির অপেক্ষায়। ছবি: পিটিআই।
দেরিতে হলেও শক্তি বাড়াচ্ছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। দেশে বর্ষা ঢুকে গেলেও এখনও সে ভাবে বৃষ্টির দেখা মিলছে না। ফলে বর্ষণ ঘাটতি বজায় রয়েছে। বিশেষ করে দেশের মধ্যাঞ্চল, পশ্চিম এবং দক্ষিণাঞ্চলে এই ঘাটতির পরিমাণ উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। জুনের ১৮ তারিখ পর্যন্ত দেশ জুড়ে বৃষ্টির ঘাটতি ৪০ শতাংশ। এই অস্বাভাবিকতাই আবহবিদদের চিন্তা বাড়াচ্ছে। কিন্তু সম্প্রতি মৌসম ভবন জানিয়েছে, বর্ষণের মেঘ শক্তি বাড়াতে শুরু করেছে মধ্য ভারতে। বিক্ষিপ্ত ভাবে মেঘের সঞ্চার হবে ছত্তীসগঢ়, পূর্ব মধ্যপ্রদেশ, পশ্চিম মধ্যপ্রদেশ এবং বিদর্ভে। ১৯ থেকে ২৫ জুনের মধ্যে বিস্তৃত মেঘাচ্ছন্ন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। আর এখান থেকেই আশার আলো বাড়ছে।
প্রসঙ্গত, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের বার্ষিক বৃষ্টির তিন-চতুর্থাংশ হয় জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে। গত ৪ জুন থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত দেশে মাত্র ১৯.২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে বলে মৌসম ভবন জানিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে বৃষ্টি হওয়ার কথা ৫৩.৭ মিলিমিটার। অর্থাৎ, বর্ষণে ঘাটতি রয়েছে প্রায় ৬৪ শতাংশ। খাতায়কলমে বর্ষা প্রবেশ করলেও পর্যাপ্ত বৃষ্টি হচ্ছে না। বরং গরমের অস্বস্তি বেড়েছে ক্রমশ। দেশের মধ্য, দক্ষিণ এবং পূর্বের বিস্তীর্ণ অংশে বর্ষা নিয়ে সঙ্কটের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বৃষ্টি হচ্ছে কেবল উত্তর-পূর্বে। চাষের ক্ষেত্রে জুনের বৃষ্টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এই সময়ে খারিফশস্যের চাষ শুরু হয়। ফলে জুনের শুরুতেই যদি বর্ষণে ধাক্কা আসে, তা হলে এই শস্যচাষে প্রভাব পড়ে। তবে আবহবিদেরা বলছেন, জুলাই এবং অগস্টে যে মরসুমি বৃষ্টি হয়, তা আগের ঘাটতির অনেকটাই মিটিয়ে দেয়।
ঘটনাচক্রে, কৃত্রিম উপগ্রহে ১৫ জুন যে ছবি ধরা পড়েছে, তাতে অনেকেই উদ্বিগ্ন। বর্ষা সক্রিয় থাকলে দেশের বিস্তীর্ণ অংশের উপরে যে ধরনের মেঘের ঘনঘটা থাকার কথা, তা একেবারেই দেখা যায়নি। অধিকাংশ এলাকার আকাশ অস্বাভাবিক রকম পরিষ্কার। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর গতি মন্থর এবং দুর্বল হওয়ায় বর্ষা ঢুকলেও পর্যাপ্ত বৃষ্টি হচ্ছে না। প্রতি বারের মতো এ বারও কেরল হয়ে দেশের মূল ভূখণ্ডে বর্ষা প্রবেশ করেছিল। কর্নাটক, তেলঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র হয়ে তা দেশের মধ্যভাগে পৌঁছোয়। আবহবিদেরা জানাচ্ছেন, জলীয় বাষ্পে কোনও ঘাটতি নেই। সমস্যা লুকিয়ে আছে ভূপৃষ্ঠের কয়েক কিলোমিটার উঁচুতে, বায়ুমণ্ডলে।
পশ্চিমা বায়ুকেই সমস্যার প্রধান কারণ বলে উল্লেখ করছেন আবহবিদেরা। আবহবিদদের মতে, উপরের স্তরের পশ্চিমা জেট স্রোত স্বাভাবিক অবস্থানের তুলনায় দক্ষিণে সরে আসার ফলে পূর্বমুখী বায়ু স্রোতে ব্যাঘাত ঘটছে। এই উষ্ণমণ্ডলীয় পূর্বমুখী বায়ু স্রোত ভারতে মৌসুমি বায়ুর প্রবাহ, মেঘ তৈরি এবং বৃষ্টিকে নিয়ন্ত্রণ করে। এই বায়ুর প্রভাবেই স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে বর্ষায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। স্বাভাবিকের চেয়ে শক্তিশালী পশ্চিমা বায়ু এ বার তাতে বাধা দিচ্ছে। তাই পর্যাপ্ত মেঘ তৈরি হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। ফলে জলীয় বাষ্প থাকলেও হচ্ছে না বৃষ্টি!