India-France Relation

উড়তে পারে এভারেস্ট সমান উচ্চতায়! হালকা হলেও মজবুত, ভারতেই তৈরি হবে ‘এইচ ১২৫’ কপ্টার, ঘোষণা মোদী-মাক্রোঁর

বেসরকারি ওই হেলিকপ্টারের পোশাকি নাম ‘এইচ ১২৫’। কর্নাটকের ভেমাগালে তার চূড়ান্ত সংযুক্তিকরণের কাজটি হবে। শুরুতে এই কারখানায় বছরে প্রায় ১০টি করে হেলিকপ্টার তৈরি করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:১২
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতায় উড়তে পারবে হেলিকপ্টার! তেমনই এক বেসরকারি হেলিকপ্টারের যন্ত্রাংশ সংযুক্ত করার শেষ ধাপ (ফাইনাল অ্যাসেম্বলি লাইন) হবে এ বার ভারতের মাটিতে! মঙ্গলবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ফ্রান্স প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ যৌথ ভাবে সেই কারখানার উদ্বোধন করেন। অনেকের মতে, ভারত-ফ্রান্সের এই যৌথ উদ্যোগ আকাশ ক্ষেত্রে দু’দেশকেই এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

Advertisement

বেসরকারি ওই হেলিকপ্টারের পোশাকি নাম ‘এইচ ১২৫’। কর্নাটকের ভেমাগালে তার চূড়ান্ত সংযুক্তিকরণের কাজটি হবে। ফরাসি সংস্থা ‘এয়ারবাস হেলিকপ্টার’ এবং ‘টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেম লিমিটেড’— এই দুই সংস্থার যৌথ উদ্যোগে হবে কাজ। অতীতেও এয়ারবাস এবং টাটা— যৌথ ভাবে কাজ করেছে। বর্তমানে টাটার সঙ্গে মিলে ভারতেই বায়ুসেনার জন্য সি ২৯৫ পরিবহণ বিমান তৈরি করছে এয়ারবাস। এ বার সেই তালিকায় যোগ হতে চলেছে ‘এইচ ১২৫’।

কেন ‘এইচ ১২৫’ ‘এভারেস্ট ক্লাইম্বার’? ২০০৫ সালের ১৪ মে প্রথম এই হেলিকপ্টারটি পরীক্ষামূলক ভাবে এভারেস্টের চূড়ায় অবতরণ করেছিল। শুধু তা-ই নয়, প্রায় চার মিনিট সেখানে ছিল, যা এক রেকর্ড। এই হেলিকপ্টারে এক জন পাইলট থাকতে পারেন। সঙ্গে ছ’জন সওয়ারি। এভারেস্টের উচ্চতায় (৮, ৮৪৮ মিটার) উঠতে পারলেও যে গড় উচ্চতায় তার ওড়ার ক্ষমতা রয়েছে তা ৭,০১০ মিটার। ঘণ্টায় ২৫২ কিলোমিটার গতিতে উড়তে পারে এই হেলিকপ্টারটি। একসঙ্গে ৬৬২ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে পারে। সর্বোচ্চ চার ঘণ্টা ২৭ মিনিট উড়তে পারার ক্ষমতা রয়েছে ‘এইচ ১২৫’-এর।

Advertisement

আশা করা হচ্ছে, ২০২৭ সালের প্রথম দিকেই কর্নাটকের কারখানা থেকে প্রথম ‘এইচ ১২৫’ হেলিকপ্টারটি তৈরি হয়ে বার হবে। শুরুতে এই কারখানায় বছরে প্রায় ১০টি করে হেলিকপ্টার তৈরি করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। তবে এয়ারবাস এবং টাটার পরিকল্পনা, আগামী ২০ বছরের মধ্যে ভারতে অন্তত ৫০০টি ‘এইচ ১২৫’ হেলিকপ্টার তৈরি করা হবে। এ ছাড়াও আরও ভারতীয় সংস্থাকে এই হেলিকপ্টার মেরামত এবং রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

‘এইচ ১২৫’ হেলিকপ্টারটি সাধারণত বাণিজ্যিক কারণে ব্যবহার হবে। তবে সেনাবাহিনীতে এই হেলিকপ্টারের উন্নত সংস্করণ ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেটা হল ‘এইচ ১২৫এম’। এই সংস্করণ রকেট-সহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম বহনে সক্ষম। উঁচু স্থানে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী সাধারণত হালকা ওজনের হেলিকপ্টার ব্যবহার করে থাকে। সেই চাহিদা ‘এইচ ১২৫এম’ পূরণ করতে পারবে বলে মত সামরিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের।

মঙ্গলবার ফ্রান্সের সংস্থা এক্সোট্রেলের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে তিন ভারতীয় সংস্থা ধ্রুব স্পেস, পিক্সেল এবং এক্সডিলিঙ্ক্‌স ল্যাব্স-এর সঙ্গে। মঙ্গলবার দুপুরে এক্সোট্রেল নিজেই এই চুক্তির কথা ঘোষণা করেছে। এক্সোট্রেল মূলত বিভিন্ন মহাকাশ প্রযুক্তি তৈরি করে। জানা যাচ্ছে, তারা তিন ভারতীয় সংস্থাকে ‘প্রপালশন সিস্টেম’ বিক্রি করবে। কত টাকার প্রযুক্তি কেনার বিষয়ে এই চুক্তি হয়েছে, তা প্রাথমিক ভাবে প্রকাশ্যে আসেনি।

এ ছাড়াও, মোদী-মাক্রোঁ বৈঠকে দ্বিতীয় দফায় ফ্রান্সের দাসো অ্যাভিয়েশনের তৈরি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনা এবং ডুবোজাহাজ নির্মাণের বিষয়টি নিয়েও ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রের খবর।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement