একই পাড়ায় বাড়ি ছিল দু’জনের। এক জন দাঁতের হাতুড়ে ডাক্তার।
অন্য জন সারের দোকানে কাজ করা সাধাসিধে, দরিদ্র ছেলে। কিন্তু খাগড়াগড় কাণ্ডের পরে গ্রেফতার হওয়া 'ডাক্তার' শাহনূর আলম আর সম্প্রতি জেএমবি মডিউলের সদস্য হিসেবে ধরা পড়া জহিদুল ওরফে জবিরুল আসল চেহারা জেনে তাজ্জব বরপেটা জেলার ভক্তরডবা গ্রাম। পুলিশ জানতে পেরেছে, কাছাড়ে যাওয়ার আগে ভক্তরডবা গ্রামে ছদ্মনামে ঘাঁটি গেড়েছিল জহিদুল। নিজেকে গোয়ালপাড়া জেলার দরিদ্র যুবক বলে পরিচয় দিয়েছিল সে। বিলায়েত হুসেনের জুরিয়া বীজ ভাণ্ডার নামে সার ও বীজের দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করছিল জহিদুল। ভাড়া থাকছিল নলিগাঁওয়ের ইদ্রিস আলি আহমেদের বাড়িতে। ওই একই বাড়িতে ঘর ভাড়া নিয়ে দাঁতের চিকিৎসা চালাত শাহনূর। পুলিশ জেনেছে, জহিদুলের ভাড়া ঘরেই শাহনূর ও অন্য জেএমবি সদস্যরা দেখা করত। প্রায় তিন বছর ভক্তরডবায় থাকা জহিদুল নলবাড়ির বনকুয়া গ্রামের এক তরুণীকে বিয়ে করে। ইদ্রিস আলি ও চতলার বাসিন্দা শাহনূরের পরিবারই বিয়ের সব কিছু দেখভাল করেছিল। গ্রামের অন্য কাউকে নিমন্ত্রণও করা হয়নি। ২০১৪ সালের ২ অক্টোবর বর্ধমান বিস্ফোরণের পর
থেকেই সে নিখোঁজ হয়ে যায়। তাঁর স্ত্রী ও শিশুসন্তান এখনও নলবাড়ির বনকুয়া গ্রামে আছে। জহিদুলকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে এনআইএ ইদ্রিস আলির ছেলে সাহারুল আলি হুসেনকে গ্রেফতার করে। সে আপাতত জামিনে মুক্ত। পুলিশ আরও জানতে পেরেছে করাগারি এমই মাদ্রাসার শিক্ষক সত্তর মৌলভি তাঁর প্রতিবেশী বিএলও খলিলুর রহমানের সাহায্য নিয়ে জহিদুলের নাম ভোটার তালিকায় তোলেন। সরুক্ষেত্রী বিধানসভা সমষ্টির সতেরারবাড়ি এলাকার চাপাগুড়ি প্রাথমিক স্কুল বুধের ভোটার তালিকায় তার নাম জবিরুল ইসলাম হিসেবে নথিভুক্ত রয়েছে। সেখানে তার পিতার নাম লেখা কাজিম উদ্দিন। পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে, বহিরাগত যুবক কার কার সাহায্য নিয়ে বরপেটায় জেএমবির হয়ে কাজ চালাচ্ছিল।