দিল্লিতে দলের হারের পরে বিহার এখন তাঁর কাছে অগ্নিপরীক্ষা। বিরোধী শিবির তো বটেই, এমনকী খোদ বিজেপিতেও গুঞ্জন— বিহারে দল হারলে তাঁর গদিও টলমল। এই অবস্থায় নিজেকে নতুন করে মেলে ধরতে সক্রিয় হলেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ।
আজ দিল্লিতে দলের সদর দফতরে নিজের নামে একটি ওয়েবসাইট চালু করলেন অমিত শাহ। সেখানে তিনি দিল্লিতে হারের কারণ ব্যাখ্যা করে দাবি করেছেন, দলের সাংগঠনিক কাজে ব্যস্ত থাকায় দিল্লি নির্বাচনে তেমন নজর দিতে পারেননি। কিন্তু বিহারে নতুন উদ্যমে ঝাঁপিয়ে পড়তে কোনও খামতি হয়নি। অমিত শাহ বোঝাতে চেয়েছেন, বিহারই এখন তাঁর পাখির চোখ। যে কোনও মূল্যে পটনার গদি তিনি দখল করবেনই। কারণ, ভোটের সমীকরণ তিনি ভাল জানেন। নির্বাচনে জেতার রসায়নও তাঁর হাতের মুঠোয়। নিজের পারদর্শিতা বোঝাতে গিয়ে চার রাজ্যে সরকার গঠন এবং লোকসভা ভোটে উত্তরপ্রদেশে সাফল্যের পাশাপাশি অমিত শাহ টেনে এনেছেন গুজরাতে লাগাতার লালকৃষ্ণ আডবাণীকে জেতানোর প্রসঙ্গও। এমনকী এক বার গাঁধীনগর থেকে অটলবিহারী বাজপেয়ীকে জেতানোর পিছনেও যে তাঁরই হাত ছিল, সে কথাও জানাতে ভোলেননি তিনি।
বিহারে বিজেপির প্রতিপক্ষ নীতীশ কুমার সম্প্রতি বলেছিলেন, ‘‘বিহারে হারলে অমিত শাহ আর বিজেপি সভাপতির গদিতে থাকবেন না। তাঁকে সরে যেতে হবে।’’ বহু সমীক্ষাই দেখাচ্ছে, বিহারের পরিস্থিতি এখনও বিজেপির অনুকূলে নয়। বরং এখনও সেয়ানে সেয়ানে টক্করের পরিস্থিতি রয়েছে। বিজেপি শিবিরেও গুঞ্জন, বিহারে দল হারলে গুজরাতে ফিরতে হতে পারে অমিত শাহকে।
আজ ওয়েবসাইট চালু করে অমিত শাহ বলেন, ‘‘আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সে ভাবে যোগাযোগ করি না। এই ওয়েবসাইটটির মাধ্যমে আমার, দলের ও সরকারের গতিবিধি জানা যাবে। বিজেপির সদস্য সংখ্যা এখন ১১ কোটি। তাঁদের কাছেও পৌঁছনো যাবে এর মাধ্যমে।’’
ওয়েবসাইটে অমিত জানিয়েছেন, তাঁর রাজনৈতিক উত্থান নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গেই। দলের সভাপতি হওয়ার পর তিনিই বিজেপিকে বিশ্বের সবথেকে বড় দল বানিয়েছেন। সভাপতি হিসেবে তিনিই প্রথম এক বছরের মাথায় দেশের সব রাজ্য ঘুরেছেন। লোকসভা ভোটের সময় উত্তরপ্রদেশে শূন্য থেকে শুরু করলেও সব থেকে ভাল ফল করেছিল বিজেপি। যার দৌলতে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে কেন্দ্রে সরকার গড়েছিল দল।