(বাঁ দিকে) মিমি চক্রবর্তী, তনয় শাস্ত্রী (ডান দিকে)। ফাইল চিত্র।
মিমি চক্রবর্তীর নোটিসের পাল্টা দিলেন তনয় শাস্ত্রী। বনগাঁকাণ্ডে ৪ ফেব্রুয়ারি অভিযুক্ত তনয়কে আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছিল অভিনেত্রী মিমির তরফে। বুধবার, অভিযুক্ত তনয়ের তরফ থেকে পাল্টা আইনি নোটিস পাঠানো হল অভিনেত্রীকে। আনন্দবাজার ডট কম যোগাযোগ করলে খবরের সত্যতায় সিলমোহর দিয়েছেন তনয়। অভিনেত্রীর সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য ফোন করা হলে তাঁর তরফ থেকে জানানো হয়, ফেব্রুয়ারির শুরুতে তিনিই প্রথমে আইনি নোটিস পাঠিয়েছিলেন।
তনয় আরও জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই মিমির কাছে পৌঁছে গিয়েছে আইনি নোটিস। বলেছেন, ‘‘মিমিকে অনুষ্ঠানের জন্য পারিশ্রমিক দেওয়া হয়েছিল ২ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা। সেই অর্থ ফেরত চেয়েছি। একই সঙ্গে উনি আমায় অকারণ বেআব্রু করেছেন। আদালতের কাঠগড়ায় তুলেছেন। জেলে পাঠিয়েছেন। আমার সম্মানহানি হয়েছে।’’ এর জন্য তিনি অভিনেত্রীর কাছে দাবি করেছেন ২০ লক্ষ টাকা। তিনি জানিয়েছেন, আগামী দু’-এক দিনের মধ্যে মামলা আদালতে উঠবে। তনয়ের আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি বলেছেন, “বুধবার মিমি চক্রবর্তীকে দু’টি চিঠি পাঠানো হয়েছে। প্রথমটি তাঁর পাঠানো আইনি নোটিসের জবাব। দ্বিতীয়টিতে, আমার মক্কেল তনয় শাস্ত্রী ২০ লক্ষ টাকার মানহানির মামলা দায়ের করেছেন।” এর আগেই মিমির তরফে ২ কোটি টাকার নোটিস পৌঁছে যায় তনয়ের কাছে।
প্রসঙ্গত, আদালতে পেশ করার পর সংবাদমাধ্যমকে তনয় বলেছিলেন, তিনি এর শেষ দেখে ছাড়বেন। মিমিকে আইনি নোটিস পাঠিয়ে তিনি বলেন, ‘‘এ তো সবে শুরু!’’
গত মাসের শেষে বনগাঁয় অনুষ্ঠান করতে গিয়েছিলেন মিমি। রাতের অনুষ্ঠানের তিনিই ছিলেন শেষ শিল্পী। মিমির অভিযোগ, তাঁকে অনুষ্ঠানের মাঝপথে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেন তনয়। অকারণ হেনস্থা করেন। পাল্টা অভিযোগ জানান তনয়ও। তাঁর অভিযোগ, নির্দিষ্ট সময়ে মিমি অনুষ্ঠানে আসেননি। তিনি মঞ্চে ওঠার ১৫ মিনিটের মাথায় রাত ১২টা বাজে। অনুষ্ঠান শেষ করতে বাধ্য হন তিনি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু আইনি লড়াই। মিমি লিখিত অভিযোগ জানান স্থানীয় থানায়। এর পরেই মিমিকে হেনস্থা, পুলিশি তদন্তে বাধাদান এবং পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়ানোয় গ্রেফতার হন তনয়। জামিন-অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের হয় তাঁর বিরুদ্ধে। এক সপ্তাহের বেশি সময় সংশোধনাগারে কাটিয়ে মিমির জন্মদিনের দিন জামিন মিলেছে অভিযুক্তের।