ঢাকায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার। ছবি: ভিডিয়ো থেকে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে প্রথম ভাষণেই কঠোর তারেক রহমান। বিএনপি-র নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের জন্য বিধি বেঁধে দিয়েছেন তিনি। জানিয়েছেন, সমস্ত ‘অনাচারের সিন্ডিকেট’ ভেঙে দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে সংখ্যালঘুদের নিয়েও বার্তা দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তারেক মঙ্গলবারই শপথ গ্রহণ করেছেন। বুধবার ছিল তাঁর মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক। তার পর রাতেই বাংলাদেশের জনগণের উদ্দেশে প্রথম ভাষণ দেন খালেদা জিয়ার পুত্র। রমজান মাস আসন্ন। এই সময়ে দেশের বাজারে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে উদ্যোগী বিএনপি সরকার। তারেক সমস্ত ব্যবসায়ীর উদ্দেশে জিনিসের দাম নিয়ন্ত্রণে এবং সাধারণের সাধ্যের মধ্যে রাখার বার্তা দিয়েছেন। বলেছেন, ‘‘রমজানের পবিত্রতার স্বার্থে এই মাসটিকে আপনারা মুনাফা লাভের মাস হিসাবে পরিগণিত করবেন না। দ্রব্যমূল্য যাতে সাধারণের নাগালের বাইরে চলে না-যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।’’ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে বার্তা দিয়ে তারেক বলেছেন, ‘‘হাজারো প্রাণের বিনিময়ে মাফিয়া সিন্ডিকেটের পতন ঘটিয়ে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমরা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছি। আমাদের সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি করবে। বিএনপি সকল ক্ষেত্রেই অনাচার, অনিয়মের সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে বদ্ধপরিকর।’’
বাংলাদেশে নির্বাচনী প্রচারের সময় থেকেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির বার্তা দিচ্ছিলেন তারেক। ক্ষমতায় আসার পর বার বার দাবি করেছেন, এটাই তাঁর সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করে কঠোর ভাবে দুর্নীতি দমন করেই জনগণের আস্থা অর্জন করতে চায় বিএনপি। তারেকের কথায়, ‘‘ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল শাসনকাঠামো এবং অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে। জনতার মনে শান্তি, নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই আমাদের সরকারের অগ্রাধিকার।’’
শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার বেড়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছিল। একাধিক বার তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত সরকার। তারেকের আমলে পরিস্থিতি বদলায় কি না, তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হিসাবে প্রথম ভাষণে অবশ্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তাই দিয়েছেন বিএনপি প্রধান। বলেছেন, ‘‘মুসলমান, হিন্দু, খ্রিস্টান, দলমত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পাহাড়ে কিংবা সমতলে বসবাসকারী, এই দেশ আমাদের সকলের। তাই সকলের জন্যই বাংলাদেশকে আমরা একটি নিরাপদভূমিতে পরিণত করতে চাই।’’
দলের সংসদ সদস্যদের জন্য বিধি বেঁধে দিয়ে তারেক জানিয়েছেন, তাঁরা কেউ সরকারি সুবিধা নিয়ে শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানি করতে পারবেন না। ‘প্লটের সুবিধা’ (জমি সংক্রান্ত সুবিধা) নেবেন না। বিএনপি-র সংসদীয় দলের প্রথম সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তারেক। মন্ত্রিসভার বৈঠকেও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং সর্বত্র বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার বার্তা দিয়েছেন তিনি।