বিশাখাপত্তনমে বাংলাদেশের রণতরী সমুদ্র অভিযান। বুধবার। ছবি: সংগৃহীত।
ভারতে আয়োজিত আন্তর্জাতিক নৌ মহড়ায় যোগ দিল বাংলাদেশও। বুধবার অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে আন্তর্জাতিক নৌবহর পর্যালোচনার মহড়ায় শামিল হয়েছে তাদের নৌবাহিনী। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মোট ৭০টি দেশের নৌবাহিনী নিজ নিজ রণতরী নিয়ে এই মহড়ায় এসেছে। বাংলাদেশের উপস্থিতি মহড়ায় আলাদা মাত্রা যোগ করেছে বলে মত একাংশের।
বাংলাদেশ ভারতে এনেছে তাদের রণতরী ‘সমুদ্র অভিযান’কে। সোমবারই মহড়ায় যোগ দিতে তারা এ দেশে চলে এসেছিল। বুধবার নৌবাহিনীর এই মহড়া পর্যালোচনা করেন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু স্বয়ং। তাঁর মতে, এই মহড়া আসলে ‘সামুদ্রিক ঐতিহ্যের প্রতি দেশগুলির আস্থা, ঐক্য এবং শ্রদ্ধার প্রতিফলন’। মুর্মু বলেন, ‘‘ভিন্ন ভিন্ন পতাকাবাহী এই সমস্ত জাহাজ এবং ভিন্ন দেশের নাবিকেরা ঐক্যের চেতনাকে তুলে ধরছে। আমাদের এই মহড়ার থিম সামুদ্রিক ঐক্য। তা সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সম্মিলিত এই নৌবাহিনীর সংকল্প সমস্ত বাধাকে অতিক্রম করে যেতে পারে। এটা বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে একটা ইতিবাচক বার্তা।’’
আন্তর্জাতিক সমুদ্র নীতিতে ভারতের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘‘সমুদ্রে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সহযোগিতা বজায় রাখতে আমরা সকলে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারত ‘বিশ্ব পরিবার’ নীতিতে বিশ্বাস করে।’’ সামুদ্রিক নিরাপত্তা, স্থায়িত্ব ও স্থিতিশীলতা এই নীতির মাধ্যমেই নিশ্চিত করা যাবে বলে মনে করেন রাষ্ট্রপতি।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ছাড়াও বুধবারের মহড়ায় যোগ দিয়েছে ইন্দোনেশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা, তাইল্যান্ড-সহ অনেক দেশ। ভারতের তরফে রণতরী আইএনএস বিক্রান্ত রয়েছে বিশাখাপত্তনমে।
বাংলাদেশে সম্প্রতি রাজনৈতিক পালাবদল ঘটেছে। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি। মঙ্গলবার তারেক রহমান সে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন। এর আগে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের কিছুটা অবনতি ঘটেছিল। তাই নতুন সরকার কোন কৌশলে এগোয়, ভারতের সঙ্গে তাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক কোন পথে এগোয়, তা নিয়ে আলাদা কৌতূহল রয়েছে।