(বাঁ দিকে) বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
বাংলাদেশের সরকার পরিচালনা নিয়ে ১৮০ দিনের ‘নকশা’ তৈরি করে রেখেছে বিএনপি। আর কিছু দিনের মধ্যেই তা প্রকাশ্যে আনা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বুধবার এ কথা জানিয়েছেন। তারেক এবং তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যেরা মঙ্গলবার ঢাকায় শপথগ্রহণ করেছেন। তার পর বুধবার বিকেলেই মন্ত্রিসভার বৈঠক ডাকা হয়। মন্ত্রীদের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টারাও সেখানে ছিলেন। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত যে সমস্ত মামলার বিচার চলছে, তা নিয়ে বার্তা দিয়েছেন তারেকের নতুন আইনমন্ত্রী মহম্মদ আসাদুজ্জামান।
১৮০ দিনের কী পরিকল্পনা? জাহেদ বলেছেন, ‘‘প্রাথমিক ভাবে ১৮০ দিনের জন্য বিএনপি-র একটা পরিকল্পনা রয়েছে। আগে থেকেই তা তৈরি করা ছিল। সেটা আর একটু পরিমার্জন করে জনগণের সামনে দ্রুতই তুলে ধরা হবে। এর থেকে জনগণ বুঝতে পারবে, তাৎক্ষণিক ভাবে সরকার কী করতে চলেছে।’’ তবে এই পরিকল্পনাকে ‘স্বল্পমেয়াদি’ বলে উল্লেখ করেছেন জাহেদ। দীর্ঘমেয়াদি কোনও পরিকল্পনা এখনই জনগণের সামনে আনা হচ্ছে না।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে একাধিক নির্দেশ দিয়েছেন তারেক। আসন্ন রমজান মাসের প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বৈঠকের শেষে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানকে জুলাই গণহত্যায় মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘‘মানবতাবিরোধী অপরাধের ক্ষেত্রে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। আমরা সে ভাবেই দেখব। তবে আইনের কোনও অপব্যবহার যদি কোথাও হয়ে থাকে, সেটাও দেখা হবে।’’ আসাদুজ্জামান মেনে নিয়েছেন, বিএনপি-র সরকারের উপর জনগণের প্রত্যাশা ‘পাহাড়প্রমাণ’। তা পূরণের জন্য নিরন্তর কাজ করবেন মন্ত্রিসভার সদস্যেরা, জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইতিমধ্যে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। হাসিনা ২০২৪ সালের ৫ অগস্ট থেকেই ভারতে রয়েছেন। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার একাধিক বার তাঁকে ফেরত চেয়ে ভারত সরকারকে চিঠি দিয়েছিল। কিন্তু নয়াদিল্লি কোনও জবাব দেয়নি। তারেকের সরকার এ বিষয়ে কী নীতি নেয়, সে দিকে নজর রয়েছে। তার মাঝেই মানবতাবিরোধী অপরাধ নিয়ে মন্তব্য করলেন তাঁর আইনমন্ত্রী।
তারেকের সঙ্গে মঙ্গলবার শপথ নিয়েছেন মন্ত্রিসভার ৫০ জন সদস্য। তার মধ্যে তারেক-সহ ২৬ জন পূর্ণমন্ত্রী রয়েছেন। প্রতিমন্ত্রীর সংখ্যা ২৪। বাংলাদেশের ভোটে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি।