বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। —ফাইল চিত্র।
নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশি হাই কমিশনের প্রেস মিনিস্টারকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর কার্যকালের মেয়াদ শেষের আগেই বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে অব্যাহতি দিয়েছে। রবিবার রাতে সরকারের তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে বিষয়টি জানানো হয়। তবে কী কারণে হঠাৎ এই পদক্ষেপ, তা স্পষ্ট নয়। সে বিষয়ে কোনও আলোকপাত করা হয়নি সরকারের বিবৃতিতে।
নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশি হাই কমিশনের প্রেস উইং সামলাতেন ফয়সাল মাহমুদ। ২০২৪ সালের অগস্টে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশে ক্ষমতায় আসে। তার পরেই দু’বছরের চুক্তির ভিত্তিতে ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর হাই কমিশনের প্রেস উইংয়ে নিয়োগ করা হয় ফয়সালকে। চুক্তি অনুযায়ী এখনও অন্তত ন’মাস তাঁর দায়িত্বে থাকার কথা ছিল। কিন্তু আগেভাগেই চুক্তি বাতিল করে দেওয়া হল। বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পরপরই ইউনূসের এই সিদ্ধান্তে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, ফয়সালকে সরিয়ে দেওয়ার বিজ্ঞপ্তিটি জারি করেছে সে দেশের জনপ্রশাসন মন্ত্রক। বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রকের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মহম্মদ মামুন শিবলির স্বাক্ষর রয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ‘‘ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাই কমিশন, দিল্লির মিনিস্টার (প্রেস) ফয়সাল মাহমুদের সঙ্গে সরকারের সম্পাদিত চুক্তির ৮ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাঁর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হয়েছে।’’ অবিলম্বে এই নির্দেশ কার্যকর করার কথাও জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
বাংলাদেশের ভোটে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নির্বাচনের ফলপ্রকাশ হলেও এখনও বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠিত হয়নি। মঙ্গলবার ঢাকায় নির্বাচিত সংসদ সদস্য, নতুন প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান রয়েছে। ভারতের প্রতিনিধি হিসাবে বাংলাদেশে যাচ্ছেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়াও শুরু করে দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। অন্য দিকে, গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ২০২৪ সালের অগস্টেই ভারতে চলে এসেছিলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এখনও তিনি দিল্লিতে রয়েছেন। তাঁকে ফেরত চেয়ে ইউনূসের সরকার একাধিক চিঠি দিয়েছে। তবে ভারত এখনও তার জবাব দেয়নি। তারেক প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে তিনি কী নীতি গ্রহণ করেন, হাসিনা প্রসঙ্গেই বা কী অবস্থান নেন, তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে।