(বাঁ দিকে) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
বাংলাদেশে নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি। সেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে আমন্ত্রণ পেয়েছেন চিন, পাকিস্তান-সহ মোট ১৩টি দেশের প্রধান। তবে ভারত থেকে মঙ্গলবার মোদী ঢাকায় যেতে পারবেন কি না, এখনও স্পষ্ট নয়।
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন দলটির চেয়ারম্যান তথা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান। মঙ্গলবার বিএনপির- নতুন মন্ত্রিসভা ঢাকায় শপথ গ্রহণ করবে। সে দিনই শপথ নেবেন নতুন প্রধানমন্ত্রী। এই অনুষ্ঠান উপলক্ষে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এখনও বাংলাদেশের দায়িত্বে রয়েছে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। সে দেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো সরকারি সূত্রে উল্লেখ করে জানিয়েছে, ভারত ছাড়াও শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ডাকা হয়েছে পাকিস্তান, চিন, মলদ্বীপ, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ব্রুনেই, কাতার, মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা, নেপাল এবং ভুটানের রাষ্ট্রপ্রধানকে। বিএনপি-র সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই এই ১৩টি দেশের তালিকা প্রস্তুত করেছেন ইউনূস।
বাংলাদেশের নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ্যে এসেছে শুক্রবারই। তবে নতুন মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণে দেরি হচ্ছে। সে দেশের সংবিধান অনুযায়ী, শপথবাক্য পাঠ করানোর কথা স্পিকার, তাঁর মনোনীত কোনও ব্যক্তি বা ডেপুটি স্পিকারের। কিন্তু ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় থেকেই স্পিকার নিখোঁজ। ডেপুটি স্পিকার জেলবন্দি। ফলে সংবিধান মেনে নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের পর তিন দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এর পর নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসিরউদ্দিন সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন। শনিবার গেজেট প্রকাশ হওয়ায় শপথের দিন নির্ধারিত হয়েছে মঙ্গলবার।
হাসিনার সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে এক দিকে যেমন সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার বেড়েছে, অন্য দিকে ভারতের সঙ্গে দেশটির সম্পর্কেরও অবনতি হয়েছে। তবে হবু প্রধানমন্ত্রী তারেকের মা বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পরে তাঁর অন্ত্যেষ্টিতে যোগ দিয়েছিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। কূটনীতিকদের একাংশের মতে, তখন থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক ‘স্বাভাবিক’ হওয়ার দিকে এগিয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোন কূটনৈতিক কৌশল অবলম্বন করে, তার দিকে নজর রয়েছে। তারেকের জয় নিশ্চিত হওয়ার পরেই মোদী তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন। অভিনন্দনবার্তা এসেছিল পাকিস্তান থেকেও। কয়েকটি সূত্রের খবর, মঙ্গলবার মোদী ঢাকায় না-ও যেতে পারেন। সে দিন মুম্বইয়ে তাঁর কর্মসূচি রয়েছে। পরিবর্তে আমন্ত্রণ রক্ষায় বাংলাদেশে যেতে পারেন বিদেশমন্ত্রী। তবে এখনও নয়াদিল্লি এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু জানায়নি।