Bangladesh Government

গোপনে পাকিস্তানের বন্ধুরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট-পুত্র আচমকা ঢাকায়! ব্যক্তিগত বিমানে সঙ্গী বিশ্বজয়ী ফুটবলার, এক ‘বিতর্কিত চরিত্র’

বুধবার সকাল ৯টা নাগাদ ঢাকা বিমানবন্দরে নামে পাকিস্তানের বন্ধুরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট-পুত্রের ব্যক্তিগত বিমান। সঙ্গে ছিলেন বিশ্বকাপজয়ী এক ফুটবলারও। এই সফরের কথা আগে থেকে জানা যায়নি।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:৩৩
Share:

(বাঁ দিকে) বিলাল এর্ডোয়ান, তারেক রহমান (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

পাকিস্তানের ‘বন্ধু’ দেশ তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এর্ডোয়ানের পুত্র বিলাল এর্ডোয়ান হঠাৎ বাংলাদেশে গিয়েছেন। সঙ্গে রয়েছেন জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার মেসুট ওৎজ়িল এবং বিতর্কিত আন্তর্জাতিক সংস্থা টিকার চেয়ারম্যান আরন আবদুল্লা। তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীপদে শপথ নেওয়ার ঠিক পরের দিন তাঁদের এই সফরকে ঘিরে জল্পনা শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, এই সফর সম্পর্কে আগে থেকে সাংবাদিকদের কাছে কোনও খবর ছিল না। কাউকে কিছু জানানো হয়নি। ফলে সফর নিয়ে তেমন প্রচারও হয়নি। কেন হঠাৎ গোপনে বাংলাদেশে চলে এলেন এর্ডোয়ানেরা? ধন্দ তৈরি হয়েছে।

Advertisement

বুধবার সকাল ৯টা নাগাদ ঢাকা বিমানবন্দরে নামে এর্ডোয়ানের ব্যক্তিগত বিমান। সেখান থেকে সোজা হোটেলে যান তিন জনই। তুরস্কের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা টিকার কয়েকটি প্রকল্প রয়েছে বাংলাদেশে। আরনের সঙ্গে এর্ডোয়ান, ওৎজ়িলও হোটেল থেকে সংস্থার দফতরে যান। সেখান থেকে তাঁরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে একটি নতুন মেডিক্যাল সেন্টারের উদ্বোধন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র পরিষদ নির্বাচনে জামাতের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির জেতার পর টিকার আর্থিক সহায়তায় এই মেডিক্যাল সেন্টার তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল। ওৎজ়িলদের দেখতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।

সফরের দ্বিতীয় দিনেও বাংলাদেশে ঠাসা কর্মসূচি রয়েছে এর্ডোয়ানদের। বৃহস্পতিবার তাঁরা কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির দেখতে যাবেন। দেখা করবেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মহম্মদ মিজ়ানুর রহমানের সঙ্গে। এ ছাড়া, ক্যাম্প ৯-এ তুরস্কের ফিল্ড হাসপাতাল, ক্যাম্প ১৬-তে তুরস্কের সহযোগিতা ও সমন্বয় সংস্থার শিক্ষা-সংস্কৃতি কেন্দ্র ঘুরে দেখবেন তাঁরা। ক্যাম্প ৪-এ টিকা আয়োজিত রোহিঙ্গা ফুটবল টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তাঁদের যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

Advertisement

টিকার চেয়ারম্যান আরন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ‘বিতর্কিত চরিত্র’। এমনিতে দেশে-বিদেশে আর্থিক ও অন্যান্য সহায়তা পাঠানো টিকার কাজ। তবে সেই সাহায্যের আড়ালে একাধিক বার এই সংস্থার বিরুদ্ধে উগ্র ইসলামপন্থী সন্ত্রাসবাদীদের সাহায্য করার অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তারেক শপথ নিয়েছেন মঙ্গলবার। তার ঠিক পরের দিন এমন এক বিতর্কিত সংস্থার চেয়ারম্যান কেন ঢাকায় এলেন, তুরস্কের প্রেসিডেন্টের পুত্রই বা সেখানে কী করছেন, কেন এই সফরের বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল, প্রশ্ন উঠেছে। শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন অন্তর্বর্তী সরকার পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছিল। তারেকও সেই পথে হাঁটবেন কি না, এখনও স্পষ্ট নয়। আপাতত তাঁর প্রশাসন সকল প্রতিবেশী দেশের সঙ্গেই সুসম্পর্ক বজায় রাখার বার্তা দিয়েছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement