ভারতীয় ক্রিকেটারদের উচ্ছ্বাস। ছবি: পিটিআই।
নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে ভারতের জয় নিয়ে সংশয় ছিল না। অঘটন কিছু ঘটলও না। বুধবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টানা ১২টি ম্যাচে জয় পেল ভারতীয় দল। গত বারের চ্যাম্পিয়নেরা গ্রুপের সব ম্যাচ জিতে সুপার এইট পর্ব খেলতে নামবে। এ দিন প্রথমে ব্যাট করে সূর্যকুমার যাদবের দল করে ৬ উইকেটে ১৯৩। জবাবে নেদারল্যান্ডসের ইনিংস শেষ হল ৭ উইকেটে ১৭৬ রানে। ১৭ রানে জিতল ভারত।
সূর্যকুমারের মাঠে নামার আগেই সুপার এইটের আট দল চূড়ান্ত হয়ে যায়। নিয়মরক্ষার ম্যাচেও ব্যর্থ হলেন অভিষেক শর্মা। শুধু তাই নয়, এ দিনও আউট হলেন শূন্য রানে। মাত্র ৩ বল ছিলেন ২২ গজে। এই নিয়ে শেষ সাতটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির পাঁচটিতেই শূন্য রানে আউট হলেন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বিশ্বের এক নম্বর ব্যাটার! ভারতীয় শিবির প্রকাশ্যে মানতে না চাইলেও নিশ্চিত ভাবেই তাঁকে নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে সুপার এইটের আগে।
নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে রান পেলেন না পাকিস্তান ম্যাচের নায়ক ঈশান কিশনও (১৮)। দুই ওপেনারকেই আউট করলেন আরিয়ান দত্ত। ৩৯ রানে ২ উইকেট হারানোর পর পরিস্থিতি সামলান তিলক বর্মা এবং সূর্য। তবে কাউকেই আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের চেষ্টা করতে দেখা গেল না। কোচ গৌতম গম্ভীর আগ্রাসী ক্রিকেট খেলার কথা বলছেন। অথচ তেমন কোনও চেষ্টাই দেখা গেল না মিডল অর্ডারের দুই ব্যাটারের মধ্যে। তিলক করলেন ২৭ বলে ৩১। মারলেন ৩টি চার এবং ১টি ছয়। সূর্যের ব্যাট থেকে এল ২৮ বলে ৩৪ রানের ইনিংস। ২টি চার, ১টি ছয় মারলেন অধিনায়ক।
ভারতের ইনিংসকে ভাল জায়গায় পৌঁছে দিলেন মূলত শিবম দুবে। বিশ্বকাপে ফর্মে রয়েছেন মুম্বইয়ের অলরাউন্ডার। নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে খেললেন ৩১ বলে ৬৬ রানের ইনিংস। তাঁর ব্যাট থেকে এল ৪টি চার এবং ৬টি ছক্কা। কিছুটা আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের চেষ্টা করলেন হার্দিক পাণ্ড্যও। তাঁর ২১ বলে ৩০ রানের ইনিংসে রয়েছে ৩টি ছয়। ৩ বলে ৬ রান করে অপরাজিত থাকেন রিঙ্কু সিংহ।
নেদারল্যান্ডসের সফলতম বোলার লোগান ভ্যান বিক ৫৬ রানে ৩ উইকেট নিলেন। ১৯ রানে ২ উইকেট আরিয়ানের। তাঁর বল খেলতে এ দিন কিছুটা সমস্যায় পড়েছেন ভারতীয় ব্যাটারেরা। এ ছাড়া ৩৮ রানে ১ উইকেট কাইল ক্লেইনের।
জয়ের জন্য ১৯৪ রান তাড়া করতে নেমে ধরে খেলার চেষ্টা করলেন নেদারল্যান্ডসের ব্যাটারেরা। তাঁদের মধ্যে জেতার তেমন ইচ্ছাই দেখা যায়নি। ঝুঁকি নিয়ে রান তাড়া করার বদলে বেশ সাবধানে খেলার চেষ্টা করলেন তাঁরা। ওপেনার ম্যাক্স ও ডাউড করলেন ১৮ বলে ২০। নেদারল্যান্ডসের প্রথম উইকেট পড়ে ষষ্ঠ ওভারে। তার আগে ২ ওভার করে বল করলেও উইকেট নিতে পারেননি জসপ্রীত বুমরাহ এবং অর্শদীপ সিংহ। অন্য ওপেনার মাইকেল লেভিট করলেন ২৩ বলে ২৪। ওপেনিং জুটি ভাঙার পর ধারাবাহিক ভাবে উইকেট হারাতে শুরু করে নেদারল্যান্ডস। তার মধ্যে কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা করেন বাস ডি লিড (২৩ বলে ৩৩)। কলিন অ্যাকরম্যান করেন ১৫ বলে ২৩। ব্যর্থ আরিয়ান (০)। জ়্যাক লায়ন ক্যাসে (১৬ বলে ২৬) এবং নোয়া ক্রোয়েস (১২ বলে অপরাজিত ২৫) কিছুটা চেষ্টা করলেও তা যথেষ্ট ছিল না। অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডস করেন ১০ বলে ১৫।
অভিষেকের ফর্মের পাশাপাশি সুপার এইটের আগে ভারতীয় শিবিরের চিন্তা থাকবে ফিল্ডিং নিয়েও। এ দিন বেশ কয়েকটি ক্যাচ ফেললেন সূর্য, তিলকেরা। খুচরো রান নেওয়ার মতো ফিল্ডিংয়েও ভুল বোঝাবুঝি হল রিঙ্কুর জন্য। অতি সক্রিয় হতে গিয়ে দলকে বিপদে ফেলে দিচ্ছেন তিনি।
সূর্য এ দিন সাত জনকে দিয়ে বল করান। তাঁদের মধ্যে সফলতম বরুণ চক্রবর্তী ১৪ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন। ৩৫ রানে ২ উইকেট শিবমের। ১৭ রানে ১ উইকেট বুমরাহের। ৪০ রানে ১ উইকেট হার্দিকের।