মন্ত্রী গৌতম রায়ের ছেলে তথা প্রাক্তন বিধায়ক রাহুল রায়কে নিয়ে চিন্তা বাড়ছে বরাক কংগ্রেসে।
রাহুলবাবুকে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী করা হবে কি না, তা নিয়ে হাইলাকান্দি-কাছাড়ের কংগ্রেস নেতাদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
রাহুলবাবু আগে হাইলাকান্দি জেলা যুব কংগ্রেস সভাপতি ছিলেন। ২০০৩ সালে তিনি হাইলাকান্দি জেলা পরিষদের সভাপতি মনোনীত হন। ২০০৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আলগাপুর কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি বিধায়ক নির্বাচিত হন। অসম গণ পরিষদের দু’বারের মন্ত্রী এবং হেভিওয়েট নেতা সহিদুল আলম চৌধুরীকে পরাজিত করেছিলেন তিনি। ২০১১ সালের বিধানসভা ভোটে অগপ নেতা সহিদুলের কাছেই তিনি পরাজিত হন। দেড় বছর পর ওই কেন্দ্রের উপনির্বাচনে রাহুলবাবুকে কংগ্রেসের প্রার্থী করার বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে গৌতম-পত্নী মন্দিরা রায়কে ওই কেন্দ্রে প্রার্থী করে কংগ্রেস।
দলীয় টিকিট না পেয়ে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন রাহুলবাবু। রাহুল-ঘনিষ্ঠদের অভিযোগ ছিল— গৌতম রায়ের ইশারাতেই রাহুলকে টিকিট দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় পিতাপুত্রের মনোমালিন্যের খবর সামনে এসেছে। রাহুলবাবু সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছিলেন, ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি গৌতমের খাসতালুক হিসেবে পরিচিত কাটলিছড়া কেন্দ্রেই লড়বেন। তিনি কার্যত হুঁশিয়ারির সুরে ঘোষণা করেন— কংগ্রেস তাঁকে প্রার্থী না করলে প্রয়োজনে অন্য দল বা নির্দল প্রার্থী হিসেবেই ভোটে লড়বেন।
এ সব ঘটনা পরম্পরায় হাইলাকান্দির রায়-পরিবারে কাঁপন ছড়ায়। চার বারের মন্ত্রী, ছ’বারের বিধায়ক গৌতমবাবু কাটলিছড়া থেকে ফেরে লড়বেন এটা প্রায়
নিশ্চিত। রাহুলবাবুর ঘোষণায় পিতাপুত্রের সংঘাত অন্দরমহল থেকে বেরিয়ে এসেছিল।
এই টানাপড়েনের মধ্যেই কয়েক দিন আগে রাহুলবাবু বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন বলে খবর ছড়িয়েছিল। প্রশ্নের জবাবে স্পষ্ট কথা জানাননি রাহুলবাবুও। মন্ত্রিপুত্রকে নিয়ে চিন্তা ছড়ায় শাসক দলেও। রাহুলবাবু বিজেপিতে যোগ দিলে, ভোটের ময়দানে বেকায়দায় পড়তে হতো গৌতমবাবুকে। পরিস্থিতি সামলাতে মাঠে নামেন মন্দিরাদেবী। রায় পরিবার সূত্রে খবর, ছেলেকে শান্ত করতে মন্দিরাদেবী প্রয়োজনে নিজেরি বিধায়ক পদ ছেড়ে দেওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন। হিমন্ত-কাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে কয়েক দিন আগে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অঞ্জন দত্ত ঘোষণা করেন— এখনকার সব বিধায়ককে আগামী নির্বাচনে প্রার্থী করা হবে। সেই ঘোষণা অনুযায়ী আলগাপুরে মন্দিরাদেবীরই প্রার্থী হওয়ার কথা। কিন্তু সে ক্ষেত্রে রাহুলবাবুর জন্য কার্যত কোনও আসন থাকবে না।
কংগ্রেস সূত্রে খবর, জেলায় শাসক দলের অনেক নেতাই রাহুলবাবুকে দলীয় টিকিট দেওয়ার পক্ষে নন। তাঁদের অভিযোগ, রাহুলবাবু জনতার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। তাঁকে প্রার্থী করা হলে দলের বিপর্যয় ঘটতে পারে। শেষ পর্যন্ত রাহুলবাবুকে প্রার্থী করা না হলে, তিনি কাটলিছড়ায় নির্দল বা অন্য দলের প্রার্থী হতে পারেন বলে রাজনৈতিক শিবিরের অনুমান।
দুর্গাপূজায় রাহুলবাবুকে তাঁর পুরনো কেন্দ্র আলগাপুরে অনেক সময় কাটাতে দেখা গিয়েছে। কয়েক দিন আগে কাছাড় জেলার কাটিগড়া কেন্দ্রে কয়েক জন বিজেপি সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে জনসংযোগের কাজও করেছেন তিনি। এ নিয়েও ধন্দ ছড়িয়েছে।
কয়েক দিন আগে হাইলাকান্দিতে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অঞ্জন দত্তের কাছে জানতে চাওয়া হয়, রাহুলবাবু কাটলিছড়ায় কংগ্রেস প্রার্থী হতে চাইলে কী করা হবে? অঞ্জনবাবুর জবাব ছিল— এ নিয়ে দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।
বিধানসভা নির্বাচনের কয়েক মাস আগে তাই স্পষ্ট হয়নি, রাহুলবাবু দলত্যাগ করবেন কি না। নাকি তিনি কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্বের উপর চাপ তৈরি করতেই এ সব করছেন। এ বিষয়ে রাহুলবাবুর কোনও প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। তাঁকে ফোন করা হলেও, তিনি তা ধরেননি।