হিমন্ত-পন্থী ৯ জন কংগ্রেস বিধায়ককে নিয়ে নীরব বিজেপি।
এক দিকে, বিজেপির দুই সাংসদ সরাসরি ওই বিধায়কদের দলে নিতে আপত্তি তুলেছেন। অন্য দিকে, এ নিয়ে মিলছে না অমিত শাহের সবুজ সঙ্কেতও। এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের ওই ৯ বিধায়ক পড়েছেন উভয় সঙ্কটে।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বনাম মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈয়ের কাজিয়ায় বরাবরই হিমন্তকে সমর্থন জানিয়ে এসেছেন ওই ৯ বিধায়ক। হিমন্ত বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কথা ঘোষণা করার পর থেকেই পীযুষ হাজরিকা, জয়ন্তমল্ল বরুয়া, তাবু তাহের বেপারী, পল্লবলোচন দাস, রাজেন বরঠাকুর, বলিন চেতিয়া, প্রদান বরুয়া, বিনন্দ শইকিয়া, কৃপানাথ মালারা সরাসরি ঘোষণা করেন— হিমন্ত যে দিকে, তাঁরা সে দিকেই যাবেন।
হিমন্ত দাবি করেছিলেন, শুধু ওই ৯ জনই নন, কংগ্রেসের আরও কয়েক জন বিধায়ক দ্রুত বিজেপিতে যোগ দেবেন। ৫ সেপ্টেম্বর হিমন্ত তাঁদের সঙ্গে নিয়ে দিল্লিতে অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকও করেন। বৈঠক শেষে বুক ফুলিয়ে পীযুষ, জয়ন্তমল্লরা ঘোষণা করেন তাঁরা বিজেপির প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছেন। শীঘ্রই আনুষ্ঠানিক ভাবে ওই দলে যোগ দেবেন। অসমে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে জেতাতে তাঁরাও মাঠে নামবেন।
তার পর ৫ দিন কেটে গিয়েছে। হিমন্তপন্থী ওই বিধায়কদের ঘনিষ্ঠ মহলের খবর, বিজেপির দিক থেকে তাঁরা এখনও কোনও ডাক পাননি। বিজেপির অন্দরমহলের খবর, প্রদেশ সভাপতি সিদ্ধার্থ ভট্টাচার্য ওই ৯ বিধায়ককে দলে টানার পক্ষে থাকলেও কেন্দ্রীয় ক্রীড়া ও যুবকল্যাণমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল, সাংসদ রাজেন গোঁহাই, রামপ্রসাদ শর্মা, রমেন ডেকারা ওই বিধায়কদের দলে নিতে তীব্র আপত্তি তুলেছেন। তাঁরা ওই বিধায়কদের ‘প্রকৃত চেহারা’ও হাইকম্যান্ডকে জানিয়েছেন। রাজেন গোঁহাই, রামপ্রসাদ শর্মারা প্রকাশ্যে জানান— কংগ্রেস ছেড়ে মুনাফা আদায়ের আশায় যাঁরা বিজেপিতে আসতে চাইছেন, তাঁদের জন্য দলে জায়গা নেই।
এ দিন ফের প্রদেশ সভাপতি সিদ্ধার্থ ভট্টাচার্যকে ইঙ্গিত করে রামপ্রসাদ বলেন, ‘‘হিমন্ত দলে এসেছেন ঠিক আছে, কিন্তু একক সিদ্ধান্তে তাঁর সঙ্গী বিধায়কদের দলে নেওয়া চলবে না।’’ রাজেন গোঁহাইও জানান, কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে এলেই প্রার্থীত্ব মিলবে না।
এই অবস্থায় ৯ বিধায়ককে বিজেপিতে ঢোকাতে বিরোধী সাংসদদের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা চালাচ্ছেন হিমন্ত। আপোস-রফার চেষ্টাও চলছে। কিন্তু পীযুষ, প্রদান, জয়ন্তমল্লদের মেনে নিতে নারাজ বিজেপি নেতা-কর্মীদের একাংশ।
এ দিকে মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ ও প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অঞ্জন দত্ত জানিয়ে দিয়েছেন, ওই ৯ বিধায়কের দলে কোনও জায়গা নেই। তাঁরা বিজেপি যোগ দিতে চাইছেন। ক্ষমা চাইলেও তাঁদের ফেরানো হবে না। অঞ্জনবাবু বলেন, ‘‘বেগতিক দেখে ওই বিধায়কদের কয়েক জন এখন ফের আমাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন।’’
৯ বিধায়কের এখন দু’কূল যাওয়ার দশা। তবে, এখনও তাঁদের আশা, হিমন্ত তাঁদের বিজেপিতে যোগদানের বিষয়টি কোনও ভাবে ঠিক সামলে নেবেনই।