দেশের ব্রডগেজ রেল মানচিত্রে আজ ঢুকে পড়ল ত্রিপুরাও। এ দিন দুপুরে আগরতলার যোগেন্দ্রনগর স্টেশনে কেন্দ্রীয় রেল প্রতিমন্ত্রী মনোজ সিন্হা প্রথম যাত্রিবাহী ব্রডগেজ ট্রেনের পরীক্ষামূলক যাত্রার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরার স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাদল চৌধুরী, পরিবহণ মন্ত্রী মানিক দে, সাংসদ শংকর দত্ত, উত্তর-পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার এইচ কে জাগ্গি এবং উত্তর-পূর্ব রেলের বহু উচ্চপদস্থ আধিকারিক, ইঞ্জিনিয়ার ও কর্মী।
ব্রডগেজ ট্রেনের পরীক্ষামূলক যাত্রাকে ঘিরে সাধারণ মানুষের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। ট্রেন স্টেশন ছোঁয়ার পরে মহিলারা চন্দন মাখানো রঙিন ফুল, বেলপাতা ছুঁড়ে তাকে স্বাগত জানান। হলই বা পরীক্ষামূলক, প্রথম ব্রডগেজ ট্রেনের সওয়ার হওয়ার জন্য উৎসাহিত জনতা বগিগুলিতে উঠে বসে পড়েন। আবেগকে মোবাইলবন্দি করতে ছিল নিজস্বী তোলার হিড়িক। প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষমান হাজার-হাজার জনতা ট্রেনের দিকে ফুল ছুঁড়েছেন। বগিতে বসা জনতা পাল্টা ফুল ছুঁড়েছেন প্ল্যাটফর্মের দিকে। স্টেশন জুড়ে ছিল সাজোসাজো রব। অনুষ্ঠান মঞ্চটির পাশেই শামিয়ানা টাঙিয়ে দর্শকদের বসার জায়গা করে দিয়েছিল রেল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এমন দিনে চেয়ার আঁকড়ে থাকার মানুষ কই?
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘রেল কর্তৃপক্ষের সিআরএস ইন্সপেকশনের পরেই আগরতলার ব্রডগেজ যাত্রীবাহী ট্রেন নিয়মিত চলাচল করবে। আশা করি, ৩১ মার্চের পরেই তা শুরু হয়ে যাবে।’’ ১৯৯৬-৯৭ ঘোষণা হওয়া কুমারঘাট-আগরতলা ব্রডগেজ প্রকল্পে খরচ হবে আনুমানিক ১৪৫১ কোটি। ১০৯ কিলোমিটারের রেলপথে থাকছে ১০টি স্টেশন, ১৯৮টি সেতু, ১৩টি সড়ক ওভারব্রিজ, ১৪টি আন্ডারপাস, তিনটি সুড়ঙ্গ। ২০০৮-এ মিটারগেজ লাইনে যুক্ত হয়েছিল আগরতলা। বরাকের বদরপুর থেকে কুমারঘাট পর্যন্ত যে ব্রডগেজ লাইন বসছে তার দৈর্ঘ্য ১১৮ কিলোমিটার। থাকছে ২১টি স্টেশন। খরচ হবে প্রায় ৬৩০০ কোটি টাকা। রাস্তায় পড়বে ২৬৩টি রেলসেতু। অসমের লামডিং ও শিলচর থেকে ত্রিপুরার উত্তরে ধর্মনগর পর্যন্ত ব্রডগেজ লাইনটি সম্প্রসারিত হয়। পরে ধর্মনগর থেকে আগরতলা পর্যন্ত রেলপথের সম্প্রসারণ শেষ হয়। সে পথে এ বছরই যাত্রিবাহী ব্রডগেজ ট্রেন চলবে, রেলের আশ্বাস। আগরতলা থেকে বিশালগড় হয়ে ত্রিপুরার দক্ষিণে সাব্রুম পর্যন্ত ব্রডগেজ লাইন সম্প্রসারণের কাজ বাকি।