লোডশেডিং-য়ে নাজেহাল শহরের বাসিন্দা

লাগাতার লোডশেডিঙে নাকাল ধুবুরি শহরের বাসিন্দারা। প্রতিদিনই ধুবুরি এবং লাগোয়া এলাকায় দফায় দফায় লোডশেডিং চলছে বলে অভিযোগ। বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে ৫-৬ ঘন্টার আগে আসছে না। সামনেই মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা। টানা লোডশেডিংয়ে তাই চরম দুর্ভোগে পড়ুয়ারা।

Advertisement

রাজীব চৌধুরী

শেষ আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০৪:২০
Share:

লাগাতার লোডশেডিঙে নাকাল ধুবুরি শহরের বাসিন্দারা। প্রতিদিনই ধুবুরি এবং লাগোয়া এলাকায় দফায় দফায় লোডশেডিং চলছে বলে অভিযোগ। বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে ৫-৬ ঘন্টার আগে আসছে না। সামনেই মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা। টানা লোডশেডিংয়ে তাই চরম দুর্ভোগে পড়ুয়ারা। সমস্যার কথা স্বীকার করেছে অসম বিদ্যুৎ পর্ষদের ধুবুরির আধিকারিকরা। বিদ্যুতের জোগানে ঘাটতি রয়েছে। তারই জেরে এই পরিস্থিতি বলে দাবি করেছেন তাঁরা। অসম বিদ্যুৎ পর্ষদের ধুবুরির এসডিও চম্পক কুমার মিশ্র বলেন, “সর্বোচ্চ চাহিদার সময় জোগানে ঘাটতি হচ্ছে বলে এই সমস্যা হচ্ছে। দ্রুত এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।”

Advertisement

পর্ষদ সুত্রে জানা গিয়েছে, ধুবুরি জেলায় মোট ২৩ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন। শুধু ধুবুরি শহরের জন্য দরকার ১২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। কিন্তু প্রতিদিন ৪-৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জোগান মিলছে। ওই ৪-৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ গোটা জেলায় সরবরাহ করতে গিয়েই এই বিপত্তি। তা ছাড়া প্রতিদিনই জেলায় বিভিন্ন জায়গায় বিদ্যুৎ চুরি চলছে বলে বাসিন্দাদের অভিযোগ। তাঁদের বক্তব্য, ওই বিদ্যুৎ চুরির ঘটনায় পর্ষদের একাংশও জড়িত আছে। বিদ্যুৎ চুরি রুখতে বিভিন্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠী তৈরী করা হয়েছে। কোথাও চুরির ঘটনা নজরে পড়লে তাঁরা অবৈধ সংযোগ কেটে দিচ্ছেন। তবুও সরবরাহে ঘাটতি থাকছে। বাসিন্দাদের প্রশ্ন, নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল জমা দেওয়ার পরেও কেন এই হেনস্থা?

বাসিন্দারা জানান, গত ডিসেম্বর মাস থেকে লোডশেডিঙের সমস্যা শুরু হয়েছে। দিনের বেলায় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পরে ৫-৬ ঘন্টা সরবরাহ হচ্ছে না। রাতে বিদ্যুৎ বিপর্যয় হলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অন্ধকারে থাকতে হচ্ছে। শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা অধ্যাপক শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, “পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে চলে গেছে যে, কোনও দিন টানা দু’ ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকলে, দিনটা ভালভাবে কাটল বলে মনে হয়। পর্ষদ কর্তৃপক্ষকে বারবার বলার পরেও পরিস্থিতি কেন স্বাভাবিক হচ্ছে না বুঝতে পারছি না.”

Advertisement

সমস্যা সমাধানের দাবিতে আন্দোলনের হুমকি দিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠনগুলি। বিজেপির ধুবুরি জেলা সভাপতি দীপক সাহা বলেন,“ধুবুরিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়মিত করার দাবিতে ইতিমধ্যেই আমরা ধুবুরি বিদ্যুৎ পর্ষদের অফিসে তালা মারার পাশাপাশি নানান ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছি। শীঘ্র পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে জেলা জুড়ে আন্দোলনে নামা হবে।”

অগপ-এর ধুবুরি জেলার সভাপতি অমল সাহা বলেন, “অবিলম্বে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ধুবুরি বিদ্যুৎ পর্ষদের বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলনে নামা হবে।” সারা অসম ছাত্র সংস্থা(আসু)র -ধুবুরি জেলা সমিতির সভাপতি জগদীশ চন্দ্র রায়ও আন্দোলন শুরুর প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement