Local Destination Wedding Spots

বলিউডি ধাঁচে বিয়ে করতে চান? ‘ডেস্টিনেশন ওয়েডিং’-এর স্বাদ মিটবে কলকাতার কাছে ৫ ঠিকানায়

বাজেটের মধ্যেই ‘ডেস্টিনেশন ওয়েডিং’-এর স্বাদ পেতে শহর থেকে দু’তিন ঘণ্টার দূরত্বে বিয়ের আয়োজন করতে পারেন। শহরের ব্যাঙ্কোয়েট ছেড়ে নদীর ধারে রিসর্ট, সমুদ্রের কাছে নিরিবিলি জায়গা বা পুরনো জমিদারবাড়ির কথা ভাবতে পারেন। রইল তেমন ৫ ঠিকানার সন্ধান।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ মে ২০২৬ ০৮:৫৯
Share:

‘ডেস্টিনেশন ওয়েডিং’-এর শখ মেটাবেন? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

বাড়ি ভাড়া নিয়ে বা ব্যাঙ্কোয়েটে বিয়ের আয়োজন এখন সেকেলে ব্যাপার-স্যাপার। বলিউড তারকা এবং সিনেমার দৌলতে আজকাল নেটপ্রভাবীরাও উদয়পুর, গোয়া কিংবা সাত সমুদ্দুর পেরিয়ে ইটালিতে গিয়ে বিয়ে সারছেন। আর তার দেখাদেখি ‘ডেস্টিনেশন ওয়ে়ডিং’য়ের শখ পৌঁছে গিয়েছে মধ্যবিত্তদের ঘরেও। রাজবাড়ি, জমিদারবাড়ি, দুর্গ বা সৈকতে মণ্ডপ বসাতে চাইছেন অনেকে। সমাজমাধ্যমের দৌলতে এখন পরিত্যক্ত প্রাসাদ বা রাস্তায় বিয়ে করাও ফ্যাশনের আওতায় পড়ছে। কিন্তু বিদেশ বা অন্য রাজ্যে গিয়ে বিয়ে করার সামর্থ্য সকলের নেই। তা বলে কি আশ মেটাতে নেই?

Advertisement

আপনার বিয়ে হয়ে উঠুক বন্ধুবান্ধব ও আত্নীয়ের সঙ্গে কাটানো ছোট্ট ছুটির মতো। আর সেই কারণেই শহরের ব্যাঙ্কোয়েট ছেড়ে নদীর ধারে রিসর্ট, সমুদ্রের কাছে নিরিবিলি জায়গা বা পুরনো জমিদারবাড়ির কথা ভাবতে পারেন। ‘ডেস্টিনেশন ওয়েডিং’-এর স্বাদ পেতে শহর থেকে দু’তিন ঘণ্টার দূরত্বে বিয়ের আয়োজন করতে পারেন। একসঙ্গে থাকা, খাওয়া, গানবাজনা করা, গায়েহলুদ, মেহন্দি— সব মিলিয়ে বিয়ে হয়ে উঠতে পারে একেবারে সিনেমার মতো। রইল ৫ ঠিকানার সন্ধান।

তাজ গঙ্গা কুটির রিসর্ট অ্যান্ড স্পা (রায়চক)

Advertisement

নদীর ধারে রাজকীয় বিয়ের আয়োজন করতে পারেন রায়চকে। গোধূলি লগ্নে বিয়ের আসর বসাতে পারেন জলের ধারে। বলিউডি ধাঁচে বাগ্‌দান সারতে চান বা বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হতে চান, এমন জায়গায় আনন্দে সময় কাটবে সকলেরই। রিসর্টের বড় বাগানে গায়েহলুদ ও বিয়ে, রাতে থাকার ব্যবস্থা, নদীর ধারে ককটেল নাইট— সম্পূর্ণ প্যাকেজ মিলবে এই হোটেলেই। ১৫০টি ঘর, ২টি ব্যাঙ্কোয়েট, বাগান, সব মিলিয়েই জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের আয়োজন করা যেতে পারে সেখানে। তবে খরচের বিষয়টি এক এক মাসে এক এক রকমের হতে পারে। দু’দিনের জন্য যদি ২৬০ জন থাকেন ১৩০টি ঘরে, তার হলে খরচ ছাড়িয়ে যেতে পারে ১ কোটি ২ লক্ষ টাকা। এর মধ্যেই থাকবে প্রাতরাশ এবং মধ্যাহ্নভোজ। তবে এটি ছাড়াও এখানে একাধিক রিসর্ট রয়েছে, যেখানে বিয়ের আসর বসাতে পারেন। ‘রায়চক অন গ্যাঞ্জেস’, ‘দ্য ফোর্ট রায়চক’ ইত্যাদিও বুক করতে পারেন নিজের পছন্দ অনুযায়ী।

দ্য রাজবাড়ি বাওয়ালি (দক্ষিণ ২৪ পরগনা)

প্রায় সাড়ে ১১ লক্ষ টাকায় ভাড়া করে নিতে পারেন গোটা রাজবাড়িটি। উঁচু উঁচু সিলিং, কড়িবরগা, লাল ইটের দেওয়াল, মস্ত বাগান, প্রাচীন দালান— ঐতিহ্যে মোড়া প্রেক্ষাপটেই সাজাতে পারেন বিবাহের আসর। তাঁদের বিয়ের প্যাকেজের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ১১০ জনের প্রাতরাশ। সাজসজ্জা এবং খাবারের খরচ আলাদা। আপনি নিজের পছন্দ মতো মোগল, ব্রিটিশ, পর্তুগিজ, আর্মেনীয়, ইহুদি এবং বাংলাদেশি খাবারও রাখতে পারেন বিয়ের মেনুতে। মাথাপিছু খাওয়ার খরচ প্রায় ২,৫০০ টাকা থেকে ৪,৫০০ টাকার মধ্যেই পড়ে।

লাক্সারি আমার ট্রি রিসর্ট (মন্দারমণি)

৭৭টি ঘর, ২টি ব্যাঙ্কোয়েট, একটা বড় বাগান, সুইমিং পুল এবং সমুদ্র সৈকত— বিয়েবাড়ি হোক এমনই! আপনি খাবারদাবারের বন্দোবস্ত নিজে করে নিতে চাইলে, তা-ও সম্ভব। সে ক্ষেত্রে এক দিনের খরচ পড়বে প্রায় ৮ লক্ষ টাকা। তবে রিসর্টের তরফে এলাহি খানাপিনার আয়োজনও করে দেওয়া হয়। সে ক্ষেত্রে দু’দিনের জন্য ১৭-১৮ লক্ষ টাকায় বিয়ে সেরে ফেলতে পারবেন। প্রায় ২০০-২৫০ জন অতিথির বন্দোবস্ত হতে পারে সেখানে। তবে খাবারের পদের ভিত্তিতে এই খরচ কমতেও পারে। সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে নিতে পারেন। এই রিসর্টের সামনের সমুদ্রসৈকতে বিয়ের মণ্ডপ বসানোর অনুমতি নেই। তবে অনেকেই স্থানীয় থানায় বিশেষ অনুমতি নিয়ে নিলে ১-২ ঘণ্টার জন্য বালির উপরই বসানো যেতে পারে মণ্ডপ। তবে সেই সুযোগ পাওয়া সহজ নয়। তবে সমুদ্রের ভিউ পেতে চাইলে সুইমিং পুলের কাছে আয়োজন করা যেতে পারে। ‘স্টার ইন বিচফ্রন্ট রিসর্ট’, ‘এসটি অ্যাপ্‌ল বিচ রিসর্ট’-এর মতো আরও একাধিক রিসর্টে বিয়ের আয়োজন রতে পারেন।

হোটেল সোনার বাংলা (টাকি)

১০৫টি ঘর, ২টি ব্যাঙ্কোয়েট, ৪টি বাগান, রান্নাঘর, পার্কিং, হাউজ় কিপিং, বিস্তীর্ণ প্রাঙ্গণে আয়োজন করা যেতে পারে একাধিক অনুষ্ঠান। গায়ে লাগানো নদীর ধার, ওপারে বাংলাদেশ, সবুজের বুনো গন্ধ, আর আপনার বিশেষ দিন। দু’দিনের জন্য সব মিলিয়ে খরচ পড়বে ২৪ লক্ষ টাকা। তবে চাহিদা অনুযায়ী খরচ হেরফের হতে পারে। কিন্তু খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে নিজেদেরই। সাজসজ্জার ক্ষেত্রেও নিজেরাই লোক নিযুক্ত করতে পারেন বাইরে থেকে। বাংলাদেশের সীমান্তে, নদীর হাওয়া খেতে খেতে মস্ত বাগানে সাতপাক ঘুরতে পারেন অথবা কবুল করতে পারেন নিজের বিয়ে। ‘ইছামতি হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’-এর মতো হোটেলও বুক করে বিয়ে করতে পারেন।

ইটাচুনা রাজবাড়ি (খন্যান)

পুরনো নকশার দালানকোঠায় জমিদারি মেজাজে বিয়ে সারতে চান? ভাড়া নিতে পারেন গোটা রাজবাড়িটি। মধ্যাহ্নভোজ এবং নৈশভোজের জন্য সর্বোচ্চ ১৫০-১৭০ জন অতিথির বন্দোবস্ত করা হয়। আর থাকতে পারেন সর্বোচ্চ ৫০ জন। ঘনিষ্ঠ পরিসরে রাজকীয় বিবাহানুষ্ঠান আয়োজন করতে চাইলে ইটাচুনা রাজবাড়ি উপযুক্ত। গায়েহলুদ, মেহন্দি, সঙ্গীতানুষ্ঠান ও বিয়ের জন্য সমস্ত ব্যবস্থার দায়িত্ব নেন খোদ কর্তৃপক্ষ। এলাহি বাঙালি খাবারদাবার, থাকা, সাজসজ্জা মিলিয়ে দু’দিনে ৮-১০ লক্ষ টাকা খরচ করলেই হবে। বাঙালি খাবারের পাশাপাশি কোনও এক বেলা কন্টিনেন্টাল খাবারদাবারও রাখা যেতে পারে মেনুতে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement