বাটিচচ্চড়ির প্রণালী মেনে কী কী রাঁধতে পারেন? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
হেঁশেলে এখনও টানাপড়েন চলছে। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির ফলে রান্নার গ্যাসে টান পড়েছে। সময় মতো সরবরাহ করা হচ্ছে না, উপরন্তু খরচও বেড়ে গিয়েছে। তাই নানা বিকল্পের খোঁজে রয়েছে গোটা দেশ। কেউ বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার শুরু করেছেন, কেউ বা গ্যাসের খরচ কমানোর জন্য রান্নার ধরন বদলে ফেলেছেন। সঙ্কটের সময়ে ভাঙা-গড়ার রাস্তায় হাঁটছেন অনেকেই।
তেমনই এক বিকল্প রন্ধনপ্রণালী হল, বাটিচচ্চড়ি।
বাটিচচ্চড়ি রাঁধলে গ্যাস খরচ কমবে। ছবি: সংগৃহীত
অনেক পদেই বার বার ভাজা, কষানো, ফুটিয়ে নেওয়া, এই সব ধাপ থাকে, যেগুলি স্বাভাবিক ভাবেই জ্বালানি্র খরচ বাড়ায়। তাই রান্নার পদ্ধতিই এখানে সবচেয়ে বড় বিষয়। আর এখানেই লাইমলাইট পেয়ে যেতে পারে বাটিচচ্চড়ি। বাটিচচ্চড়ির মূল কৌশল হল ঢিমে আঁচে এবং এক বারে রান্না। অর্থাৎ, এক বারে সব উপকরণ মিশিয়ে খুব কম আঁচে দীর্ঘ ক্ষণ রান্না করা হয় এ ক্ষেত্রে। এতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা পাওয়া যায়, প্রথমত, বার বার নাড়াচাড়া বা কষানোর দরকার পড়ে না, দ্বিতীয়ত, তাপের অপচয় কম হয়, তৃতীয়ত, উপকরণগুলি নিজের জলেই রান্না হয়ে যায়। অবশ্য কোনও কোনও ক্ষেত্রে জল দিতেও পারেন কেউ।
খোলা কড়াইয়ে রান্না করলে তাপের প্রায় ৫০–৬০ শতাংশ পরিবেশে মিশে গিয়ে গ্যাস নষ্ট হয়। ঢাকনা দেওয়া পাত্রে রান্না করলে এই অপচয় অনেকটাই কমে। বাটিচচ্চড়ি ঠিক এই নীতিতেই রান্না হয়। রান্নার কৌশলই এখানে সাশ্রয়ের চাবিকাঠি।
ঢিমে আঁচে ঢেকে রান্না করলে জলীয় বাষ্প ভিতরেই ঘোরাফেরা করে, ফলে ভিটামিন ও খনিজের ক্ষয় তুলনামূলক কম হয়। বিশেষ করে আলু, সব্জি বা মাছের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি পুষ্টিগুণ ধরে রাখতে সাহায্য করে। অতিরিক্ত ভাজাভুজি না থাকায় অক্সিডেটিভ ক্ষতিও কম হয়। একটানা কম আঁচে রান্না হওয়ায় গ্যাস খরচ তুলনামূলক ভাবে কম হয়। কিন্তু বেশি আঁচে রান্না করলে গ্যাসের খরচ বেশি হয়।
এই রেসিপি মেনে নানা ধরনের রান্না করা যায় মাছ থেকে মাংস, কিংবা নানা ধরনের তরকারিও।
ধরা যাক, আপনি মাছ রান্না করবেন। প্রয়োজন মতো মাছের টুকরো, ডুমো করে কাটা আলু, পেঁয়াজ ও টম্যাটো, অল্প আদাবাটা, নুন, তেল, হলুদ, জিরে ও লঙ্কাগুঁড়ো মাখিয়ে নিন। তার পর কড়াই ঢাকা দিয়ে গ্যাস জ্বালিয়ে দিন। ২০-২৫ মিনিটের মধ্যেই রান্না তৈরি হয়ে যাবে। মাখা মাখা মাছের কালিয়া তৃপ্তি করে খাবেন।
সাদামাঠা খাবার বানাবেন? ডুমো করে আলু ও পেঁয়াজ কেটে একটি বাটিতে বসিয়ে দিন। অল্প জল, তেল ও নুন ঢেলে ঢাকা দিয়ে গ্যাস জ্বালিয়ে দিন। মাখা মাখা দুর্দান্ত স্বাদের পদ রান্না হয়ে যাবে ন্যূনতম উপকরণ দিয়ে।
বাটিচচ্চড়ি সব কিছুর বিকল্প নয়। বিরিয়ানি, কষা মাংস বা ভাজাভুজি বানাতে হলে এই প্রক্রিয়ায় রান্না করা যাবে না। তবে রোজকার সহজ, পুষ্টিকর, ঝক্কিহীন রান্না হিসেবে এটি অত্যন্ত কার্যকর। বিশেষ করে যখন গ্যাসের ব্যবহার কমানোর প্রয়োজন হয়। রান্নাঘরের এই সঙ্কটই শেখাচ্ছে, শুধু উপকরণ নয়, রান্নার পদ্ধতিও বদলাতে হয় সময়ের সঙ্গে। বাটিচচ্চড়ি সেই বদলেরই একটি বাস্তব উদাহরণ, যেখানে বিজ্ঞান, সাশ্রয় আর স্বাদ, তিনটিই একসঙ্গে কাজ করে।