আউট হয়ে ফিরছেন রুতুরাজ। পিছনে উল্লাস হায়দরাবাদ ক্রিকেটারদের। ছবি: পিটিআই।
হারের হ্যাটট্রিকের পর জয়ের হ্যাটট্রিক হল না চেন্নাই সুপার কিংস। বোলারেরা ভাল খেললেও ব্যাটারদের ব্যর্থতায় শনিবার হারতে হল সানরাইজার্স হায়দরাবাদের কাছে। অভিষেক শর্মা এবং হাইনরিখ ক্লাসেনের অর্ধশতরানের সৌজন্যে ঘরের মাঠে চেন্নাইকে হারিয়ে দিল হায়দরাবাদ। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে হায়দরাবাদ তুলেছিল ১৯৪/৯। জবাবে চেন্নাই থেমে গেল ১৮৪/৮ রানে। হারল ১০ রানে।
টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে হায়দরাবাদের শুরুটা ভালই হয়েছিল। দুই ওপেনার অভিষেক শর্মা এবং ট্রেভিস হেড আবার ছন্দ পেয়ে গিয়েছিলেন। প্রথম ৩ ওভারে হায়দরাবাদ ২৩ রান তুলেছিল। তবে অংশুল কম্বোজ এবং ম্যাথু শর্টের একটি করে ওভার সব বদলে দেয়। চতুর্থ ওভারে কম্বোজ দেন ১৫ রান। পঞ্চম ওভারে শর্ট দেন ২৫ রান। অস্ট্রেলীয় অলরাউন্ডারকে তিনটি চার এবং দু’টি ছয় মারেন অভিষেক। ১৫ বলে অর্ধশতরান পূরণ করেন তিনি।
ষষ্ঠ ওভার করতে এসেছিলেন মুকেশ চৌধরি। তিনটি চার হজম করেও শেষ দুই বলে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। আউট করেন হেড (২৩) এবং ঈশান কিশনকে (০)। ৭৫/০ থেকে আচমকা ৭৫/২ হয়ে যায় হায়দরাবাদ। পরিস্থিতি আরও জটিল হয় অভিষেক ফেরায়। ৬টি চার এবং ৪টি ছয়ের সাহায্যে ২২ বলে ৫৯ করে ফেরেন অভিষেক।
এই পরিস্থিতি কোনও একজন ব্যাটারকে ধরে খেলতেই হত। সেটাই করেন হাইনরিখ ক্লাসেন। খুব একটা ঝুঁকিপূর্ণ শট খেলেননি তিনি। ক্রিকেটীয় শট খেলে ৩৯ বলে ৫৯ করেন। ক্লাসেন না থাকলে হায়দরাবাদ ২০০-র কাছাকাছি পৌঁছতও না। অথচ এক সময় মনে হচ্ছিল অনায়াসে ২২৫-২৩০ রান তুলে দেবে তারা। প্রশংসা করতে হবে চেন্নাই বোলারদের। বিশেষ করে কম্বোজের। অফস্টাম্পের বাইরে তাঁর জোরালো ইয়র্কার কাজে লেগেছে। ক্লাসেনকে ও ভাবেই আউট করেন। তিন ওভারে ২২ রানে ৩ উইকেট নেন। জেমি ওভার্টনও (৩-৩৭) তিন উইকেট নিয়েছেন। নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেছেন নূর আহমেদও (০-৩৩)।
ব্যাট করতে নেমে চেন্নাই শুরুতেই হারায় সঞ্জু স্যামসনকে (৭)। তবে আয়ুষ মাত্রে এবং রুতুরাজ গায়কোয়াড় দলের রান রেট নামতে দেননি। চার ওভারে ৬০ রান তুললেও আয়ুষ (৩০) ফেরার পর চেন্নাইয়ের রানের গতি কমে যায়। ষষ্ঠ ওভারে এশান মালিঙ্গা ফিরিয়ে দেন রুতুরাজকেও (১৯)।
সেখান থেকে দলের হাল ধরেন শর্ট এবং সরফরাজ় খান। তবে চেন্নাইয়ের অবস্থাও হয়েছিল হায়দরাবাদের মতোই। পর পর উইকেট পড়ায় তাদের রানের গতিও কমে গিয়েছিল। আস্কিং রেট ক্রমশ বাড়তে থাকায় চালিয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নেন শর্ট (৩৪) এবং সরফরাজ় (২৫)। দু’জনকেই ফিরিয়ে চেন্নাইকে বড় ধাক্কা দেন মালিঙ্গা।
ব্যর্থ হন ডেওয়াল্ড ব্রেভিসও (০)। ১৪৮ রানে ৬ উইকেট হারানো চেন্নাইয়ের ভরসা ছিলেন শিবম দুবে (২১)। তিনি ফিরতেই চেন্নাইয়ের হার কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায়। আগের ম্যাচে হায়দরাবাদের নজরকাড়া বোলার প্রফুল্ল হিঙ্গে এ দিন বিশেষ সাফল্য পাননি। ৪ ওভারে ৬০ রানে ১ উইকেট নেন। আর এক বোলার সাকিব হুসেন ৪ ওভারে ৩২ রানে ১ উইকেট নেন।