৪ মাসে ১৫ কেজি ওজন কমানোর ৫ সহজ টোটকা। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
ওজন কমানোর হাজার রকম পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হয়। ইন্টারনেট খুঁজলেও তা পাওয়া যায়। কেউ বলেন ডায়েটের কথা, কেউ নিদান দেন শারীরচর্চার। অনেকে মনে করেন ওজন কমাতে হলে বুঝি ডায়েট থেকে সব পছন্দের খাবার বাদ দিয়ে দিতে হবে। অথবা ঘণ্টার পর ঘণ্টা কঠিন ওয়ার্কআউট করতে হবে। আসলে তা নয়। এত কিছু না করেও যে ওজন কমানো যায়, তা দেখিয়েছেন একজন নেটপ্রভাবী। মাত্র ৪ মাসে ১৫ কেজি ওজন কমিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন নেটপ্রভাবী দিশা মাগ্গু। কী ভাবে তা সম্ভব হল, সে কথাও জানিয়েছেন নিজের ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলে।
দিশার পরামর্শ, ওজন কমানোর পথটা খুব কঠিন নয়। এর জন্য শৌখিন যন্ত্রপাতির প্রয়োজন নেই। নাম না জানা খাবারদাবারেরও দরকার নেই। বরং সহজ ও সাধারণ পথেই ওজন কমানো ও তা ধরে রাখা সম্ভব। আর পাঁচ জন সাধারণ মানুষ যে ভাবে জীবন কাটান, সে ভাবে থেকেই ওজন কমানো সম্ভব। এর জন্য শুধু ৫টি কাজ করে যেতে হবে।
হাঁটার অভ্যাস
ওজন কমানোর জন্য হাঁটা যে কতটা জরুরি, তা অনেকেই বোঝেন না। চর্বি ঝরাতে এর জুড়ি মেলা ভার। জিমে গিয়ে ভারী ব্যায়াম করার সময় না থাকলে রোজ হাঁটার অভ্যাস করুন। লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করলেও উপকার পাবেন।
পর্যাপ্ত জল পান
সকালে ঘুম থেকে উঠে চা বা কফি খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই থাকে। এই অভ্যাস বদলানো জরুরি। ঘুম থেকে উঠে প্রথমেই জল পান করুন। ঈষদুষ্ণ জল হলে আরও ভাল। তা হজম ভাল করবে। সারা দিন শক্তির জোগান দেবে। ভুলভাল খাওয়ার ইচ্ছাও হবে না।
ফাইবার খেতে ভুলবেন না
ওজন কমানোর ডায়েটে আজকাল প্রোটিনের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে বেশি। ফাইবারকে প্রায় ভুলতেই বসেছেন সকলে। অথচ ওজন কমাতে প্রোটিনের পাশাপাশি ফাইবারও জরুরি। রোজের খাবারে প্রোটিন যেমনই খান না কেন, ফাইবার জাতীয় খাবার যেমন শাকসব্জি, ফলমূল, ওট্স-ডালিয়ার মতো দানাশস্য রাখতেই হবে। ফাইবার রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ করে, পেটের জন্যও ভাল।
বাড়ির খাবার
ঘরে তৈরি খাবারের কোনও বিকল্প নেই। নিজে রান্না করে খেলে খাবারে কী ধরনের তেল, মশলা ব্যবহার করছেন তা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকে। খাবারের পরিমাণও মেপে খাওয়া যায়। বাইরের কেনা খাবার বা প্রক্রিয়াজাত খাবার খেলে তা সম্ভব নয়। তাই ওজন কমাতে হলে সবচেয়ে আগে বাইরের খাবার বন্ধ করতে হবে, বদলে ঘরে তৈরি হালকা খাবার খেতে হবে। এতেই শরীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি, সোডিয়াম ও চিনি ঢোকা বন্ধ হবে।
পরিমিত আহার
সারাদিনে শরীর যতটা ক্যালোরি পোড়ায়, তার চেয়ে সামান্য কম ক্যালোরি গ্রহণ করতে হবে। এর জন্য খাবারের পরিমাণের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। কম খান ও পুষ্টিকর খাবার খান, তাতেই ঝরব মেদ। ফলের রসের বদলে গোটা ফল চিবিয়ে খেলে উপকার বেশি হবে। আবার দোকান থেকে কেনা পানীয় বা এনার্জি ড্রিঙ্কের বদলে, বাড়িতে ঘরোয়া উপকরণে তা বানিয়ে খেলে লাভ হবে বেশি। শরীর সুস্থও থাকবে, দ্রুত ওজনও কমবে।