Japanese Skin Care

প্রাকৃতিক স্পঞ্জ থেকে চা পাতা, ত্বকচর্চার প্রথায় কোরিয়াকেও টক্কর দেবে জাপান, রইল ৫টি উপাদান

জাপানি রুটিনের মূল কথা হল ত্বক পরিষ্কার করা, আর্দ্রতা বজায় রাখা আর ক্ষতিকর সূর্যরশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করা। জাপানিদের ত্বকচর্চার ৫টি প্রথা এখানে তুলে ধরা হল।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৩ মার্চ ২০২৬ ১৭:৪৮
Share:

জাপানি প্রথায় ত্বকচর্চা। ছবি: সংগৃহীত।

কোরিয়ার ত্বকচর্চা এখন বিশ্বজোড়া ট্রেন্ড। কাচের মতো উজ্জ্বল ত্বক, ১০ ধাপের রুটিন, সারি সারি পণ্য— প্রায় সব দেশেই চলছে এর অনুকরণ। কিন্তু নীরবে, আড়ালে থেকেই নিজের জায়গা ধরে রেখেছে জাপানি ত্বকচর্চা। সেখানে হইচই কম, শৃঙ্খলা বেশি। জাপানি রুটিনের মূল কথা হল ত্বক পরিষ্কার করা, আর্দ্রতা বজায় রাখা আর ক্ষতিকর সূর্যরশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করা। কোরিয়ার চর্চা যেখানে ত্বকে ঔজ্জ্বল্য আনে দ্রুত, জাপানি পদ্ধতি সেখানে ত্বকের গঠনকে মজবুত করে ভিতর থেকে। জাপানিদের ত্বকচর্চার ৫টি প্রথা এখানে তুলে ধরা হল—

Advertisement

১. কনজ্যাক: এটি মূলত কন্দজাতীয় একটি উদ্ভিদ, যা জাপানিরা রান্নায় ব্যবহার করে। কিন্তু ত্বকের যত্নে এটি এখন একটি অসাধারণ ফেসিয়াল স্পঞ্জ হিসেবে পরিচিত। এটি ত্বকের মৃত কোষ এবং ময়লা দূর করতে সাহায্য করে। এটি প্রাক়ৃতিক ভাবে সামান্য ক্ষারীয়, তাই অ্যাসিডিক দূষণকে দূর করতে পারে। ত্বকের প্রাকৃতিক পিএইচ ভারসাম্যও বজায় রাখে। বাজারের সাধারণ স্ক্রাবের তুলনায় প্রাকৃতিক এই স্পঞ্জ স্ক্রাব অনেক বেশি কোমল। তাই ত্বকে বাইরের আস্তরণে আঘাত লাগার কোনও ঝুঁকি থাকে না।

২. গ্রিন মাচা: মাচা চা পাতাকে গুঁড়ো করে তৈরি করা হয় বলে এতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট থাকে। এটি দূষণ এবং সূর্যের অতিবেগনি রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করে। এ ছাড়াও প্রদাহনাশী বৈশিষ্ট্য রয়েছে বলে ত্বকের লালচে ভাব কমাতে পারে। ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করতেও এটি বেশ কার্যকর। ইজিসিজি (এপিগ্যালোক্যাটেচিন গ্যালেট) এবং পলিফেনল সমৃদ্ধ বলে ত্বকচর্চার জন্য খুবই উপকারী এটি।

Advertisement

৩. ক্যামেলিয়া অয়েল (সুবাকি): জাপানিদের সৌন্দর্যের গোপন রহস্য লুকিয়ে এই তেলে। ক্যামেলিয়া জ্যাপোনিকা নামের ফুলের বীজ থেকে নিষ্কাশিত একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর ও হালকা প্রাকৃতিক তেল। এই তেল ওলিক অ্যাসিড (ওমেগা ৯), লিনোলিক অ্যাসিড এবং স্কোয়ালিন সমৃদ্ধ। এটি মানুষের ত্বকের প্রাকৃতিক তেল বা সেবামের সঙ্গে মিলে যায়। তাই এটি ত্বকে খুব দ্রুত মিশে যেতে পারে। কোনও আঠালো বা তেলচিটে ভাব তৈরি করে না মুখে। এটি কোলাজেন তৈরিতেও সাহায্য করে এবং ত্বকের গভীরে গিয়ে ময়েশ্চারাইজ় করে।

৪. ইউজ়ু: এটি এক ধরনের জাপানি লেবু জাতীয় ফল, যাতে সাধারণ লেবুর চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে। লেবু মাখলে যেমন ত্বকে জ্বালাপোড়ার মতো অস্বস্তি হয়, সেটি এ ক্ষেত্রে হবে না। মেলানিন উৎপাদনে বাধা দিতে সক্ষম বলে এটি ত্বক উজ্জ্বল করতে, ব্রণের দাগ বা রোদে পোড়া দাগ দূর করতে সাহায্য করে। এতে প্রচুর তেল রয়েছে বলে আর্দ্রতাও ধরে রাখতে পারে।

৫. সাকুরা বা চেরি ব্লসমের নির্যাস: চেরি ফুলের নির্যাস ত্বককে টানটান করে রাখতে পারে। অকালবার্ধক্য বা চামড়া ঝুলে যাওয়ার প্রবণতা কমায়। এতে থাকা ফ্যাটি অ্যাসিড, ফ্ল্যাভোনল গ্লুকোসাইড ত্বকের বাইরের স্তর মেরামত করে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement