Tasnia Farin Spring Fashion

প্রথম দোল দেখবেন হাওড়ার বধূ তাসনিয়া, তার আগে বাংলাদেশি নায়িকাকে সাজানো হল বসন্ত-রঙে

বসন্ত মানেই রং ও প্রেম। কিন্তু ও পার বাংলার নায়িকা তাসনিয়া ফারিন কখনও রং খেলা দেখার সুযোগ পাননি এর আগে। কলকাতায় প্রথম দোল কাটানোর আগে পদ্মাপারের অভিনেত্রীকে বসন্তের সাজে সাজাল আনন্দবাজার ডট কম।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৩ মার্চ ২০২৬ ০৮:৫৫
Share:
০১ ১৩

বসন্ত কাঁটাতারের সীমানা মানে না। বাংলার এ পারে যে রূপ, ও পারেও তা-ই। তবে পার্বণের চেহারা সব জায়গায় এক নয়। তাই দোলে রং খেলার বা খেলা দেখার সুযোগ কখনও হয়ে ওঠেনি বাংলাদেশি অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিনের। কিন্তু এ বছর কলকাতায় এসে দোলের রঙে, বসন্তের সাজে সাজাল আনন্দবাজার ডট কম।

০২ ১৩

সাদা ক্রপ টপ ও কালো রঙের ঢোলা প্যান্ট পরে মেকআপ শুরু করেন তাসনিয়া। আর সেখানেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে নায়িকার ফ্যাশন স্টেটমেন্ট। আরামদায়ক সাজই তাঁর রোজের সঙ্গী। তাঁর কথায়, ‘‘আমি সাধারণত খুব সাদামাঠা পোশাক পরি। হালকা সাজ, আরামদায়ক সাজ— এ-ই আমার পছন্দ। পর্দাতেও সকলে আমায় বলেন, আমার মধ্যে একটা ‘পাশের বা়ড়ির মেয়ে’র ছাপ দেখতে পান।’’ সেই ‘পাশের বা়ড়ির মেয়ে’কেই সাজানো হল সম্পূর্ণ পার্টি-পোশাকে।

Advertisement
০৩ ১৩

বসন্ত মানে রং। আর সাদার মতো উজ্জ্বল রং কী-ই বা আছে? দোলের সকালে পুরনো সাদা জামা পরার প্রথায় খানিক বদল আনা যেতে পারে। তাই দোলের পার্টি-পোশাক হিসেবে তাসনিয়াকে পরানো হল সাদা, জমকালো করসেট ও প্যান্ট। পোশাকশিল্পী রোহন পারিয়ারের এই করসেট ও প্যান্টের যুগলবন্দি তাসনিয়ার পুরনো ভাবমূর্তি যেন এক ঝটকায় পাল্টে দিল। ‘পাশের বাড়ির মেয়ে’র ছাপ ভেঙে গেল বসন্তের সাজে।

০৪ ১৩

এমন পার্টি-লুক পরিপাটি সাজের দাবি রাখে। আর তাই ল্যাকার ব্যবহার করে চুল টানটান করে পিছনে ব্রাশ করা হল। সাজে সামান্য নাটকীয়তা আনতে চোখে স্মোকি-লুক দেওয়া হল। গলায় পরানো হল মোটা চোকার। করসেটের উপর সোনালি চুমকির কাজের সঙ্গে মানানসই হয়েছে সোনার জল করা রুপোর এই মোটা চোকারটি। এক হাতে বড় একটি চৌকো আংটিও পরানো হল তাঁকে।

০৫ ১৩

ছিমছাম, পরিপাটি সাজ, অথচ পার্টির আমেজের জন্য উপযুক্ত। ফুরফুরে আবহাওয়ায় দোলের পার্টিতে নজর কাড়বেন এমনই সাজে। এ সময়ে পোশাকের অতিরিক্ত স্তরের প্রয়োজন নেই, আবার ভারী কাপড়ও পরা যায় অনায়াসে। তাসনিয়ার জন্য তাই এমন পোশাকই বেছে নেওয়া হয়েছে। তাসনিয়ার কথায়, ‘‘বসন্ত আসা মানেই মনে রাখতে হবে, কিছু দিনের মধ্যে আমাদের জীবনটা গরমে অতিষ্ট হয়ে উঠবে। ফলে তার আগে যতটা সম্ভব আনন্দ করে নেওয়া উচিত।’’ সাজের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে অভিনেত্রীর এই ভাবনা।

০৬ ১৩

পার্টির সাজ তো হল, কিন্তু বসন্তের গতেবাঁধা সাজ থেকে বঞ্চিত হবেন কেন? নিজের দেশেও বসন্তে বাসন্তির রঙে সেজে ওঠেন তিনি। হালকা সুতির বা তাঁতের শাড়িই পরেন। এ পার বাংলাতেও তো সেই সাজই বসন্তের চেনা সাজ। তাই একেবারে বসন্তের সাবেকি, গতানুগতিক, বাঙালি সাজে হাজির হলেন তাসনিয়া।

০৭ ১৩

হলুদ শাড়ির সঙ্গে পোশাকশিল্পী পরমা গঙ্গোপাধ্যায়ের নীল ব্লাউজ় আর রুপোর গয়নায় সাজানো হল তাঁকে। গলায় একটি চোকার, একটি লম্বা হার, এক হাতে কয়েক গোছা বালা, অন্য হাতে আংটি আর কানে দুল। সঙ্গে গাঢ় রঙের পলাশফুল গুঁজে দেওয়া হল নায়িকার মাথায়। উজ্জ্বল ফুলের চারপাশে ছোট ছোট রুপোর নাকফুল আর কাঁটা তাঁর সাজে অন্য মাত্রা এনেছে।

০৮ ১৩

বসন্তোৎসব খুব পছন্দ তাসনিয়ার। কিন্তু রং খেলার সৌভাগ্য হয়নি কখনও। এ বার কলকাতায় এসে রং খেলা দেখবেন, সময় হলে খেলবেনও বটে। দোল নিয়ে বড় উত্তেজিত নায়িকা। কলকাতার কোথায় কোথায় দোল উৎসব হয়, তার খোঁজখবরও নিয়ে ফেলেছেন ইতিমধ্যে। চেনা উৎসবের অচেনা রূপ দেখবেন শহর ঘুরে। রং খেলা যদি না-ও হয়, ছবির সময়ে ফুলখেলাতেই খানিক শখপূরণ হল তাঁর।

০৯ ১৩

হাওড়ার তথ্যবিজ্ঞানীর সঙ্গে প্রেম ও বিয়ে তাসনিয়ার। স্বামীর সঙ্গে সময় কাটাতে, বসন্ত উপভোগ করতে কখনও কখনও ইংল্যান্ডের বার্মিংহামেও পাড়ি দেন তিনি। কর্মসূত্রে স্বামী সেখানেই থাকেন। কিন্তু বসন্ত মানেই যে কেবল প্রেম— এই ধারণায় বিশ্বাসী নন তাসনিয়া। তাঁর জীবন আবর্তিত হয় মূলত কাজ ঘিরেই। তবে তাঁর ২৪ ঘণ্টার সঙ্গী হল গান। অভিনেত্রী না হলে তাসনিয়া গায়িকাই হতেন। কিন্তু ভাগ্য তাঁকে নিয়ে এসেছে অভিনয়ের জগতে। বসন্তের সঙ্গে তাল মিলিয়ে গানের ছন্দেই চলছে তাঁর কাজকর্ম, সাজগোজ আর ছবি তোলা।

১০ ১৩

তবে ‘পার্টি-পোশাক’ বা শাড়ির সাজেই হোলি এবং বসন্ত উৎসব পালন করতে হবে, এমন কোনও অলিখিত নিয়ম নেই। গ্রীষ্মের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আরামদায়ক, হালকা পোশাকে উদ্‌যাপনে মাততে চান অনেকে। আর তাসনিয়া তো আরামদায়ক সাজেই সবচেয়ে বেশি স্বচ্ছন্দ! তাঁর কথায়, ‘‘কলকাতার চেয়ে আমাদের ও দিকে ঠান্ডাটা একটু কম পড়ে। ফলে বছরের বেশির ভাগ সময়েই গরম লাগে। তাই পোশাকের ক্ষেত্রে বেশি ভারী কাপড় বা ভারী কাজ না থাকলেই সুবিধা।’’

১১ ১৩

তাসনিয়াকে পরানো হল পরমা গঙ্গোপাধ্যায়ের বেগনি রঙের গামছা কাপড়ের স্কার্ট, তার উপরে সাদা ক্রপ টপ, সঙ্গে পরমা গঙ্গোপাধ্যায়েরই লাল গামছা কাপড়ের জ্যাকেট। গামছা কাপড়গুলির উপর সুতো দিয়ে কাজ করা রয়েছে। কখনও জ্যাকেট ঘাড়ের উপর এলিয়ে থাকতে পারে, দরকারে আবার পরেও নিতে পারেন। তাসনিয়া যেমন ঘাড়ের উপর জ্যাকেট ফেলে রেখে দিলেন। একঢাল চুল ঘাড়ের এক পাশে এলিয়ে রাখলেন। সব মিলিয়ে যেন এক স্বস্তির ছাপ তাঁর সাজ জুড়ে।

১২ ১৩

বসন্তের হাওয়ার সঙ্গে মানানসই সাজ। সাজে আরও খানিক রং যোগ করতে চারটি ভিন্ন রঙের পুঁতির মালা ও চোকার করে পরানো হয়েছে তাসনিয়াকে। নায়িকার ঠোঁটের উপরের তিল এবং তাঁর গালভরা হাসি সমস্ত সাজেই ভিন্ন ভিন্ন ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছে যেন।

১৩ ১৩

তাসনিয়া জানালেন, এ বারের দোলে কলকাতার বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাবেন। তবে সময় পেলে পিঠে ব্যাগ নিয়ে একাই বেরিয়ে পড়বেন সিকিমের পাহাড় দেখতে। বাংলাদেশে থাকলে দোলের সময়ে এত কাজ থাকে যে, ভ্রমণের অবকাশ থাকে না। কিন্তু সে শখ পূরণ করতে চান এ বার কলকাতায় এসে। হাওড়ার পুত্রবধূ তাসনিয়া এই বসন্তে বাড়ি থেকে দূরে, নতুন সাজে, নতুন পরিকল্পনায় দোল উৎসবে শামিল হবেন।

ভাবনা ও পরিকল্পনা: সুচন্দ্রা ঘটক, প্রয়োগ: সুচন্দ্রা ঘটক, উপালি মুখোপাধ্যায়, তিস্তা রায় বর্মণ, ছবি: দেবর্ষি সরকার, রূপটান: অভিজিৎ পাল, কেশসজ্জা: অভিজিৎ পাল, সাজশিল্পী: বুকুন, গয়না: গহনে, জলসাঘর, পোশাক: পরমা, রোহন পারিয়ার, স্থান: অমিয়া হাউস, খাবার: অমিয়া হাউস।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
Follow us on:
আরও গ্যালারি
Advertisement