ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না বুঝবেন কী ভাবে? ছবি: সংগৃহীত।
বাজারে নিত্যনতুন সামগ্রী। সমাজমাধ্যমের বিজ্ঞাপনের ভিড়ে সব রকমের প্রসাধনীই ব্যবহার করার শখ জাগে। কেউ কিনেও ফেলেন। আর সেখানেই সমস্যার শুরু। অনেক সময়ে অতিরিক্ত যত্নের ঠেলায় হিতে বিপরীত হয়। অজান্তে ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে ত্বকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তর অর্থাৎ স্কিন ব্যারিয়ার। এপিডার্মিসের সবচেয়ে বাইরের স্তর এটি। ত্বকের ঢাল হিসেবে কাজ করে। আর এই স্তরই ত্বককে আর্দ্র রাখে এবং বাইরের ক্ষতিকর উপাদান থেকে সুরক্ষা দেয়।
অতিরিক্ত ত্বকচর্চার ফলে এই সুরক্ষাকবচই দুর্বল হয়ে পড়ে। আর তখন, ত্বক নিজেই বিভিন্ন ভাবে সঙ্কেত দিতে শুরু করে। সেই লক্ষণগুলি চিনে নেওয়াই সবচেয়ে জরুরি—
অতিরিক্ত পণ্যের ব্যবহার ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। ছবি: সংগৃহীত
১. ত্বকের শুষ্কতা বেড়ে যায়: ত্বক অস্বাভাবিক রকমের শুষ্ক হয়ে যায়। তা ছাড়া টান ধরে যায় চামড়ায়। ময়েশ্চারাইজ়ার ব্যবহার করলেও যদি বার বার শুষ্কতা ফিরে আসে, তা হলে বুঝতে হবে ত্বক তার স্বাভাবিক আর্দ্রতা ধরে রাখতে পারছে না। তার মানে ত্বকের ব্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
২. ত্বক স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে: আগে যে পণ্য ব্যবহার করলে কোনও প্রতিক্রিয়া হত না, সেটিই এখন জ্বালা, চুলকানি বা অস্বস্তি তৈরি করে। এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন কি? তার মানে ত্বক স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। ত্বকের ক্ষতির স্পষ্ট ইঙ্গিত এটি।
৩. প্রদাহ বৃদ্ধি পায়: ত্বকে লালচে ভাব বা প্রদাহ হওয়ার প্রবণতা বাড়তে থাকে। ত্বক যদি কথায় কথায় লাল হয়ে যায় বা জ্বালা ভাব হয়, তা হলে বুঝতে হবে, ত্বকের বাইরের স্তর দুর্বল হওয়ার ফলেই এমন ঘটেছে।
৪. ব্রণের প্রবণতা বাড়ে: একের পর এক পণ্য মাখতে মাখতে ত্বকে ব্রণের প্রবণতা বাড়তে পারে। ত্বকের বাইরের স্তর যদি সঠিক সুরক্ষা না দিতে পারে, তা হলে বাইরের ধুলো, ব্যাক্টেরিয়া সহজেই ভিতরে ঢুকে পড়ে। ফলে ব্রণ বা ছোট ছোট ফুস্কুড়ি দেখা দিতে পারে। এমনকি র্যাশও হতে পারে।
৫. সহজে নিরাময় হয় না: ত্বকে কেটে গেলে বা ব্রণ হলে নির্দিষ্ট সময় পর তা সেরে যায়। তা সে ওষুধের প্রভাবে হোক বা নিজে নিজে। যদি দেখেন, সহজে ত্বক আগের অবস্থায় ফিরছে না, তা হলে সতর্ক হতে হবে। তার মানে বুঝে যেতে হবে, ত্বকের বাইরের স্তর দুর্বল হয়ে গিয়েছে।