Aishwarya Rai Bachchan at Cannes

আত্মবিশ্বাস, গ্ল্যামার আর লাবণ্য— এক সঙ্গে এক ফ্রেমে! ঐশ্বর্যা শেখালেন সাজতে হয় কী ভাবে?

প্রাক্তন বিশ্বসুন্দরীর কানের সাজের নেপথ্যে রয়েছেন পোশাক পরিকল্পক মোহিত রাই। তিনি দেখিয়ে দিলেন গ্ল্যামার আর আত্মবিশ্বাসকে সঠিক আধারে ধরতে পারলে ফ্যাশন দুনিয়ায় পৃথুল চেহারা অন্তরায় হতে পারে না।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৫ মে ২০২৬ ১১:০৫
Share:

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

মাদার ইজ় মাদারিং!

Advertisement

ফ্রান্সের কান চলচ্চিত্র উৎসবের ক্লোজ়িং সেরেমনিতে ঐশ্বর্য রাই বচ্চন হাজির হওয়ার পরে এই একটিই কথা বলছে ফ্যাশন দুনিয়া। পিতৃতান্ত্রিক সমাজে যার ভাব সম্প্রসারণ করতে হলে বলতে হয়— ‘এ বার বাবা এসে গেছে’! ‘মাদার ইজ় মাদারিং’ বাক্যবন্ধটি সেই একই ভাবনার মাতৃরূপ। যে কোনও ক্ষেত্রের মহিলা আইকন বা বিগ্রহপ্রতিম তারকা যখন তাঁর সেরাটি দিয়ে বাকিদের মুখ বন্ধ করে দেন, তখনই এমনটা বলা হয়। আর কানে ঐশ্বর্যা রাই বচ্চন যে ভাবে গত বেশ কয়েক বছরের সমালোচকদের মুখ বন্ধ করলেন, যেভাবে তাঁর মা হওয়ার পরের পৃথুল চেহারা নিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এসে দাঁড়ালেন রেড কার্পেটের উপরে, তাতে তাঁকে দেখে এই প্রশংসাসূচক বাক্যটিই মনে পড়েছে সবার।

ফ্যাশন দুনিয়া এক বাক্যে মেনে নিয়েছে একই ফ্রেমে এত আত্মবিশ্বাস, গ্ল্যামার আর লাবণ্য এক সঙ্গে কানে উপস্থিত খুব কম অভিনেত্রীর সাজেই ধরা পড়েছে। আর তাই আনন্দবাজার ডট কমের এ সপ্তাহের সাজের সেরা ঐশ্বর্যাই।

Advertisement

প্রাক্তন বিশ্বসুন্দরীর এ বারের কানের সাজের নেপথ্যে রয়েছেন পোশাক পরিকল্পক মোহিত রাই। ভারতের খ্যাতনামী ওই তারকা পোশাক পরিকল্পক দেখিয়ে দিলেন ঐশ্বর্যার মতো গ্ল্যামার আর আত্মবিশ্বাস থাকলে আর তাকে সঠিক আধারে ধরতে পারলে ফ্যাশনের মঞ্চে পৃথুল চেহারা কোনও অন্তরায় হতে পারে না।

দুধ সাদায় রাজহংস যথা ঐশ্বর্যা

গাউন, শাড়ি ছেড়ে ঐশ্বর্যা এ বার কানে পরলেন প্যান্টস্যুট। আর সেই চালে প্রথম বলেই ছক্কা! চোখ ফেরানো যাচ্ছিল না ঐশ্বর্যার থেকে। লাল গালিচায় সাদা পোশাকে দাঁড়ানো ঐশ্বর্যাকে দেখাচ্ছিল ‘বক মাঝে রাজহংস যথা’।

পোশাক শিল্পী চেনি চ্যান এর কাস্টমাইজ় সাদা ট্রাউজার আর ব্লেজ়ার স্যুট স্বচ্ছ অরগ্যাঞ্জার লাইনিং ডিটেলিং। ব্লেজ়ারের নীচ থেকে নেমে অ্যাসেমেট্রিক লেয়ারিংয়ে তা ঢেকে দিয়েছে ট্রাউজ়ার্সের কিছু অংশ। এর সঙ্গে সাদা পালকের ড্রামাটিক ‘ক্যাট-ইয়ার শ্যল’ পুরুষালি ফর্মাল কাটের পোশাকে জুড়েছে নারীসুলভ কমনীয় ভাব। এর সঙ্গে ঐশ্বর্যার লালচে বারগান্ডি চুলে ছিল ক্লাসিক হলিউড ব্লো-আউট ওয়েভস। ঠোঁট রাঙিয়েছিলেন ক্রিমসন রেড লিপস্টিকে। চোখে ছিল নিখুঁত উইংড আইলাইনার।

রুপোলি সিক্যুইন আর অফ শোল্ডার গাউন

মিউটেড গঙ্গা মাটি রঙের অফ শোল্ডার গাউন। তার উপর নানা আকৃতির পাথরের হারের লেয়ারিং। আর এর সঙ্গে মোহিত জড়িয়ে দিয়েছিলেন একটি বেগুনি আভার ফেদার বোয়া।সব মিলিয়ে এই সাজে ঐশ্বর্যাকে দেখে মনে হচ্ছিল, তিনি কয়েকশো বছর আগের ইউরোপের কোনও অপেরাহাউসের ‘গ্ল্যামার গার্ল’। এমনই পুরাতনী ক্লাসিক ফ্যাশনের ঝলক ছিল ওই সাজে।

পোশাক জমকালো। তাই মেকআপে গ্লাস স্কিন এফেক্ট তৈরি করা হয়েছিল। চোখের পাতায় হালকা রুপোলি শিমার, গালে ডিউই ব্লাশ আর ঠোঁটে নরম মভ-ন্যুড লিপস্টিক। এর সঙ্গে হালকা ঢেউ খেলানো চুল খুলে সামনে রেখেছিলেন ঐশ্বর্যা। যা তাঁর চিবুক ও কাঁধের অংশকে সুন্দর ফ্রেম করেছিল।

ঝলমলে গোলাপের পাপড়ি যখন ব্রোচ

আজারবাইজানের লাক্সারি লেবেল সোফি কুতুয়ার এর তৈরি হালকা প্যাস্টেল গোলাপি রঙের এই স্লিভলেস গাউনটির দাম ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ টাকা! গোধূলি আলোয় স্নাত কানের সমুদ্রকে পিছনে রেখে ঐশ্বর্যা এসে দাঁড়িয়েছেন বারান্দায়। এক ঝলক দেখলে মনে হবে, আকাশের রংই নেমে এসেছে তাঁর পোশাকে।

এই পোশাকের আসল আকর্ষণ এর স্ট্র্যাপলেস কর্সেট বডিসে করা সূক্ষ্ম ফোর্টুনি প্লিটিং এবং তার উপরে রোজ গোল্ড ও কপার শেডের সোয়ারোভস্কি ক্রিস্টালের থ্রি-ডি ফ্লোরাল অ্যাপ্লিকের কাজ। দুই কাঁধ থেকে ছড়িয়ে পড়া হালকা শিফন কেপটি আটকে রাখা হয়েছিল একটি ক্রিস্টালের গোলাপের পাপড়ির ব্রোচ দিয়ে। এর সঙ্গে চোখে হালকা গোলাপি আইশ্যাডো এবং ঠোঁটে হাই-গ্লস পিঙ্ক লিপস্টিক ব্যবহার করেছিলেন ঐশ্বর্যা।

ঐশ্বর্যার ময়ূর অবতার ‘লুমিনারা’!

‘লাইট ইন মোশন’ গতিশীল আলোর ভাবনাকে মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে এই গাউন। ভারতীয় পোশাকশিল্পী অমিত আগরওয়াল এর তৈরি ওই কাস্টম কুতুয়ার গাউনের নাম তাই ‘লুমিনারা’। ঘন নীল রঙ আর মেঝেতে লুটিয়ে পড়া অংশে ময়ূরের পালকের ডিটেলিং। পুরোটা বানাতে সময় লেগেছে ১,৫০০ ঘণ্টা! রেড কার্পেটে এই পোশাকটিই ছিল ঐশ্বর্যার প্রথম দিনের সাজ। নীল রং সবসময়ই রাজকীয়, আর ঐশ্বর্যা যখন তা পরেন, তখন তা এক অন্য মাত্রা পায়।

এই গাউনের প্রধান আকর্ষণ ছিল অমিতের সিগনেচার ক্রিস্টাল ভেইন এমব্রয়ডারি— যেখানে হাজার হাজার ক্রিস্টাল ল্যাটিস প্যাটার্নে বসানো হয়েছিল, যা ক্যামেরার ফ্ল্যাশে আলোর আলপনা তৈরি করবে। কাঁধের ওপরে তৈরি ডানার মতো আর্কিটেকচারাল থ্রি-ডি প্যাটার্ন এবং হাত থেকে নেমে আসা দীর্ঘ রয়্যাল ব্লু সাটিন ট্রেইলটিও দেখার মতো। এই পোশাকের সঙ্গে গলায় কোনও গয়না না রেখে, কানে পরা হয়েছিল স্টেটমেন্ট ডায়মন্ড ইয়াররিংস। মেকআপে বোল্ড স্মোকি আই এবং ঠোঁটে ম্যাপেল ন্যুড লিপস্টিক।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement