ওজন কমার পরে ত্বক ঝুলে যেতে পারে, কী ভাবে যত্ন নেবেন? ছবি: ফ্রিপিক।
ওজন হঠাৎ করে অনেকটা কমে গেলে ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা নষ্ট হয়। যদি এক মাসে কয়েক কেজি ওজন ঝরিয়ে ফেলেন, তা হলে দেখবেন পেট, কোমর বা গলার কাছে ত্বক আলগা হয়ে ঝুলে পড়েছে। ত্বকের টানটান ভাবটা নষ্ট হয়ে যায়, যা দেখতে মোটেই ভাল লাগে না। মনে রাখবেন, আপনি যতখানি মেদ ঝরাবেন, আপনার ত্বকও কিন্তু ততখানিই আলগা হবে। খুব দ্রুত ওজন ঝরাচ্ছেন যাঁরা, তাঁদের এই সমস্যা বেশি হয়।
ত্বক কেন শিথিল হয় বা ঝুলে পড়ে?
ত্বকের নীচে ফ্যাটের স্তর থাকে যা ত্বককে টানটান রাখে। ত্বকে কোলাজেন ও ইলাস্টিন নামক দু’রকমের প্রোটিন থাকে। ওজন খুব দ্রুত কমলে এই দুই প্রোটিনের উৎপাদন কমে যায়। ফলে ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা নষ্ট হয়। তখনই ত্বক শিথিল হতে শুরু করে। শরীরের নানা অংশে চামড়া ঝুলে যায়, তাতে বলিরেখাও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
কী ভাবে সমাধান হবে?
ওজন কমার পরেও যদি ত্বক টানটান রাখতে হয়, তা হলে কিছু নিয়ম মানতে হবে। যেমন সপ্তাহে ৫০০ গ্রাম থেকে ১ কেজির বেশি ওজন কমানো যাবে না।
কোলাজেন ও ইলাস্টিন তৈরির জন্য বেশি করে প্রোটিন যেমন মাছ, মাংস, ডিম, পনির, ছানা, নানা রকম ডাল খেতে হবে।
ভিটামিন সি ও ই কোলাজেন তৈরিতে বিশেষ ভূমিকা নেয়। তাই ওজন কমানোর সময়ে আমলকি, পেয়ারা ও নানা রকম বাদাম বেশি করে খেতে হবে।
নিয়মিত ত্বকে নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল দিয়ে মালিশ করতে হবে, যাতে ত্বক টানটান থাকে।
কেবল কার্ডিয়ো বা ওয়েট ট্রেনিং করলে হবে না, পেশি তৈরির জন্য নানা রকম স্ট্রেচিংও করতে হবে। যেমন লেগ রেজ়, প্ল্যাঙ্ক, বাইসাইকেল ক্রাঞ্চ, পুশ-আপের মতো ব্যায়াম করতে হবে।
ভ্রূ-র ঠিক উপরে কপালের কাছের ত্বক আঙুল দিয়ে টেনে ধরুন, একই সঙ্গে ভ্রূ দুটি উপরে তোলার চেষ্টা করুন। এই ভঙ্গিমায় ৫ সেকেন্ড থাকুন। ১০ বার এই ব্যায়ামটি করলে কপালের চামড়া টানটান থাকবে। একে বলে ফোরহেড স্মুদার। দুই হাতের আঙুল দিয়ে চোখের পাশের ত্বক টেনে ধরুন। ৫ সেকেন্ড ওই ভাবে থাকতে হবে। রোজ ১০ বার করে ব্যায়ামটি করলে চোখের চারপাশের চামড়া কুঁচকে যাবে না। একে বলে আই ফার্মার।