জুতো কেনার সময় কোন দিকগুলি খেয়াল রাখবেন? ছবি: সংগৃহীত।
দোকানে গিয়ে জুতো পছন্দ করলেন। পরে দেখলেন, হাঁটলেনও। কিন্তু তার পরেও সেই জুতো পরে পায়ে ব্যথা? এমন ঘটনার সঙ্গে মিল পাবেন অনেকেই। অনেক সময় নামী সংস্থার জুতোও কিনলেও কিন্তু একই সমস্যা হয়। কিনে দেখার পরেও কেন এমন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়?
জুতো নিয়ে যাঁর চর্চা করেন, এই নিয়ে অভিজ্ঞ, তাঁদের অনেকেই বলছেন, জুতো কেনা এতটাও সহজ নয়। দেখলাম, পছন্দ করলাম, কিনে ফেললাম... বিষয়টি কিন্তু ততটাও সরল নয়। এক মিনিট জুতো পরে বা দোকানে খানিক হেঁটে সব সময় বোঝা যায় না, তা পরে পড়ে ব্যথা হবে কি না। বরং জুতো কিনতে হলে কয়েকটি বিষয় মাথায় থাকা প্রয়োজন।
একটি সাদা কাগজ বা কার্ডবোর্ডের উপর নিজের পা রেখে পেন দিয়ে পায়ের ছাপ আঁকুন। এ বার সেই ছাপের উপর এক এক করে ব্যবহার করা জুতো বসিয়ে দেখুন, পায়ের আকৃতির সঙ্গে মিলছে কি না, বা কতটা ফারাক হচ্ছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যাবে, মিলছে না। সেই কারণে, জুতোর সাইজ় এক হলেও বিভিন্ন কোম্পানির জুতো পরলে কিন্তু তা স্বস্তিদায়ক হয় না। দোকানে গেলেও, পায়ের আকারের সঙ্গে মিলিয়ে জুতো কেনা জরুরি।
যে মহিলারা হিল জুতো বা শৌখিন জুতো পরেন, যে জুতোর সামনের অংশটি একটু সরু থাকে, সেগুলি বিশেষ ভাবে দেখে, বুঝে কেনা প্রয়োজন। পায়ের ছাপ আঁকার পরে এমন জুতো বসিয়ে দেখুন পায়ের পাঁচ আঙুলের তুলনায় তার মুখ কতটা ছোট বা বড় হচ্ছে। ছোট হলে স্বাভাবিক ভাবেই এমন জুতোয় আঙুল মুড়ে থাকবে। অথচ খানিক হাঁটার পরে বা পা অনেক ক্ষণ ঝুলিয়ে রাখলেই পা ফুলতে পারে। স্বাভাবিক ভাবেই এমন জুতো আরামদায়ক হতে পারে না। বেশি ক্ষণ এই জুতো পরে হাঁটলে পায়ে ব্যথা হবেই।
জুতো কেনার সময় কোন দিকগুলি খেয়াল রাখা দরকার
১। জুতোর সামনে এবং পিছনের অংশে যেন অল্প ফাঁক থাকে। জুতো পায়ের আঙুল বা গোড়ালির চেয়ে অন্তত আধ থেকে পৌনে এক ইঞ্চি বড় হওয়া দরকার। এমন জুতো দীর্ঘ ক্ষণ পরে থাকলেও হাটঁতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।
২। জুতো কেনার সময় মোজা পরে নিন। যে ধরনের মোজা নিয়মিত পরেন সেটি পরে জুতোর মাপ বা স্বাচ্ছন্দ্য বুঝে নেওয়া ভাল।
৩। জুতো পরে দোকানেই হাঁটাচলা করে দেখুন। পায়ের আঙুল মুড়তে খুলতে পারছেন কি না, জুতো পরে পা পিছলে যাচ্ছে কি না, পায়ের নীচে জুতোর কুশন কতটা আরামদায়ক— প্রতিটি বিষয় খুঁটিয়ে পরখ করে নিন।
৪। জুতো যতই শৌখিন বা নামী সংস্থার হোক, পরার পর কোনও অস্বস্তি হলে তা কিন্তু বাতিল করাই শ্রেয়।
৫। জুতো পরার পর সেটি খুলে সোলটা পরীক্ষা করে নিন, সেটি কতটা মজবুত। ধারালো কোনও জিনিস তাতে চট করে গিঁথে যেতে পারে কি? পায়ের সুরক্ষার জন্য তা জরুরি।
তবে নতুন জুতো পরলে অনেক সময় পায়ের চামড়ায় ঘষা লেগে ফোস্কা পড়ে। কখনও পায়ে ব্যথা হয়। দু’তিন দিন লাগে নতুন জুতো পায়ে সেট হতে। ফোস্কা এড়াতে পায়ে ক্রিম বা নারকেল তেল মেখে জুতো পরতে পারেন। বিশেষত পায়ের যে অংশে চামড়া জুতোয় ঘষা লাগতে পারে, সেখানে পিচ্ছিল কিছু লাগিয়ে নিতে পারেন।