Scars Removing Makeup Tips

জন্মদাগ বা ব্রণের ক্ষত, ছোপ, মেচেতা ঢাকবে নিঁখুত রূপটানে, জেনে নিন সাজগোজের কৌশল

মুখশ্রী সুন্দর, তবে অনেক সময় অবাঞ্ছিত দাগ সেই রূপ নষ্ট করে। মুখে এমন কোনও দাগ-ছোপ থাকলে মেকআপে তা কী ভাবে ঢাকবেন? জেনে নিন ধাপে ধাপে রূপটানের কৌশল।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:৪৮
Share:

চোখের নীচের কালি হোক বা গালের দাগছোপ, মেকআপ দিয়েই ঢাকতে পারেন খুঁত। ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

দাগছোপ মুক্ত ত্বকই সকলের কাছে কঙ্ক্ষিত। কিন্তু চাইলেই তো সবটা মেলে না! কখনও কারও মুখ জুড়ে জন্মদাগ থাকে, কারও আবার ব্রণ খোঁটাখুটির ফলে গর্ত হয়ে যায়। কারও চোখ জুড়ে গোল দাগ, কারও আবার সৌন্দর্য নষ্ট করে মেচেতার ছোপ।

Advertisement

অনেক সময়েই এই খুঁতগুলি চিকিৎসা বা প্রসধানীর দ্বারা পুরোপুরি নির্মূল করা যায় না। তখনই দরকার হয় রূপটানের কারিকুরি। দিনে দিনে মেকআপের কৌশল এবং প্রসাধনীতে বদল আসছে। মুখের আকার, খুঁত, এমনকি ছোট চোখকে বড় দেখানোর কৌশলও জুড়ে গিয়েছে রূপটান শিল্পে।

এমন কৌশল আয়ত্ত করা সম্ভব খানিক চেষ্টাতেই। মুখে যদি এমন দাগছোপ থাকে, তা হলে তা কী ভাবে ঢাকবেন? জেনে নিন রূপটানের কৌশল।

Advertisement

১। মেকআপের প্রথম ধাপই হল মুখ পরিষ্কার করে নেওয়া। মুখ যদি রুক্ষ থাকে, রূপটানের পরেও সেই জেল্লা আসবে না। ফলে প্রথমেই প্রয়োজন ত্বকের আর্দ্রতা। সে জন্য ত্বকের উপযোগী ময়েশ্চারাইজ়ার মেখে নিতে হবে।

২। খুঁত ঢাকার জরুরি ধাপ হল প্রাইমার। অনেকেই মনে করেন, মুখে তেমন দাগ নেই, তাই প্রাইমার ব্যবহারেরও প্রয়োজন নেই। কিন্তু রূপটানশিল্পীদের মত্‌ এটি অত্যন্ত জরুরি ধাপ। মুখে দাগ-ছোপ থাকলে, ব্রণের জন্য গর্ত হয়ে গেলে বা ত্বকের রন্ধ্রমুখ যদি বড় হয়, তা ঢেকে দিতে সাহায্য করবে প্রাইমার। ত্বকের উপযোগী প্রাইমার বাছুন। বিশেষত মুখে ‘ওপেন পোরস’ বা উন্মুক্ত রন্ধ্রের সমস্যা থাকলে সিলিকন নির্ভর প্রাইমার অত্যন্ত কার্যকর হবে।এই ধরনের প্রাইমার ব্যবহারের পর মুখের দাগ হালকা দেখায়, তা ছাড়া ছোট ফুস্কুড়ি বা ব্রণও আড়াল হয়ে যায়।

৩। তৃতীয় ধাপে দরকার বর্ণ সংশোধনের। অনেকের মুখেই অসমান রং থাকে। কারও চোখের নীচে বা চারপাশে কালো বা গাঢ় খয়েরি ছোপ থাকে। কারও জন্মদাগ থাকে। কারও মুখে মেচেতা থাকে। এই দাগগুলিকে ঢাকার জন্য প্রয়োজন হয় ‘কালার কারেক্টর’-এর। খুব কালচে দাগ ঢাকতে হলে প্রথমে কমলা রঙের দরকার হয়। লালচে দাগ ঢাকতে সবুজ কালার কারেক্টর লাগে। যে জায়গায় দাগ, তার উপর আঙুলের সাহায্যে ক্রিমের মতো কালার কারেক্টর নিয়ে থুপে থুপে বসিয়ে দিন বা স্পঞ্জের সাহায্যে তা একই জায়গায় একই ভাবে প্রয়োগ করুন।

৪। ফাউন্ডেশন ব্যবহারের আগে লাগবে কনসিলার। দাগছোপ লুকিয়ে ফেলার জন্যই এটি তৈরি। কালার কারেকশনের পর যে যে জায়গায় অসমান রং রয়েছে বা কালচে ভাব থাকবে, সেই সব জায়গায় কনসিলার ব্যবহার করুন। ক্রিমের মতো কনসিলার এ ক্ষেত্রে ভাল কাজ করে। নির্দিষ্ট জায়গায় কনসিলার লাগিয়ে বেল্ডিং ব্রাশ বা মেকআপ স্পঞ্জের সাহায্যে তা ত্বকের উপর বসিয়ে দিন।

৫। মেকআপে ফাউন্ডেশন খুব জরুরি। বলা যায়, খুঁত ঢাকার এক প্রকার শেষ ধাপ এটি। ত্বকের ধরন অনুযায়ী ফাউন্ডেশন বাছতে হবে। তবে অনেকেই মনে করেন, পুরু করে ফাউন্ডেশন লাগালেই ব্রণর দাগ, ডার্ক সার্কল সব কিছু ঢাকা পড়বে। তা কিন্তু মোটেই নয়। বরং বেশি মোটা করে ফাউন্ডেশন লাগালে, রূপটানে কৃত্রিমতার ছাপ ধরা পড়বে। হাসলে গালের দু’পাশে স্মাইল লাইন গাঢ় হয়ে ফুটে উঠবে। তাই ফাউন্ডেশনের পরত যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকুই হওয়া দরকার।

৬। ফাউন্ডেশন ব্যবহারের পরেও যদি চোখের নীচের কালচে ভাব ফুটে ওঠে বা মুখে কোথাও দাগ হালকা ভাবে উঁকি দেয়, সেখানে আবার কনসিলারের পরত দিন।

৭। এর পর প্রয়োজন মতো মুখে দিতে হবে পাউডার। সেটি বসার জন্য মিনিট দশেক সময় দিন। যদি অতিরিক্ত মনে হয়, ব্রাশের সাহায্যে ঝেড়ে ফেলুন। এর পরে সঠিক ব্লাশ, কনট্যুর, হাইলাইটারের আর যেটুকু খুঁত আছে তা ঢেকে মুখ সুন্দর করে তুলবে। একেবারে শেষে সেটিং স্প্রে ব্যবহার করুন। এতে মেকআপ গলে যাবে না বা দ্রুত নষ্ট হয়ে যাবে না।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement