4-2-4 Skin Care Tips

১০ মিনিটেই ঝকঝকে ত্বক মিলবে ৪-২-৪ রূপচর্চার পন্থায়! কেন এটি নিয়ে হইচই, আদৌ কাজের কি?

কোরিয়ানদের মতো সুন্দর হয়ে উঠতে ৪-২-৪ রূপচর্চা নিয়ে হইচই? কী এই পদ্ধতি। এতে কি সত্যিই স্বচ্ছ, সুন্দর ত্বক পাওয়া সম্ভব?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১৪:৫৪
Share:

১০ মিনিটের রূপচর্চায় দাগমুক্ত ঝকঝকে ত্বক পাওয়া কি সম্ভব? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

সমাজমাধ্যমে চোখ রাখলেই এখন জাপানি এবং কোরিয়ানদের মতো রূপচর্চার পদ্ধতি নিয়ে হইচই চোখে পড়ে। সকলেই চান তাঁদের মতো নির্মেদ শরীর এবং দাগমুক্ত জেল্লাদার ত্বক পেতে।

Advertisement

সে কারণেই কেউ বেছে নিচ্ছেন কোরিয়ান ফেশিয়াল, কেউ আবার প্রসাধনীতে জুড়ছেন কোরিয়ান উপকরণ। চর্চা চলছে ৪-২-৪ রূপচর্চার পদ্ধতি নিয়েও। ভাইরাল এই কে-বিউটি রূপচর্চা পদ্ধতিতে দাবি করা হচ্ছে, মাত্র ১০ মিনিটেই দাগমুক্ত, সুন্দর ত্বক পাওয়া সম্ভব। আদৌ কি তেমনটা হয়?

৪-২-৪ রূপচর্চা পদ্ধতি আসলে কী?

Advertisement

এই পন্থায় বলা হয়ছে প্রতি দিন ১০টি মিনিট দিতে হবে ত্বকের জন্য। ৪ মিনিট থাকবে অয়েল বেস্‌ড ক্লিনজ়িং এর জন্য, পরের ২ মিনিট ফেসওয়াশ ব্যবহার করতে হবে, আর তার পরের ৪ মিনিট মুখ ধোয়ার জন্য।

পদ্ধতি সহজ। এটি আসলে খুব ভাল ভাবে ক্লিনজ়িং-এর কথা বলছে, ত্বক ভাল রাখার জন্য যা ভীষণ জরুরি। কিন্তু আদতে কি এতে কাজ হবে? ত্বক নিয়ে চর্চাকারীরা বলছেন, আসলে এটা শুধু রূপচর্চার পন্থা নয়, বরং ত্বকের জন্য নিজেকে সময় দিতে শেখা। ওই ১০টি মিনিট নিজেকে দেওয়া।

কারও মনে হতেই পারে, ৪ মিনিট তেল মাসাজ, তার পর ২ মিনিট ধরে মুখে ফেসওয়াশ ঘষা আবার ৪ মিনিট ধরে মুখ ধোয়ার পন্থা বড় বিলম্বিত। বড্ড ধীর। কিন্তু এর নেপথ্যেও যুক্তি দেখাচ্ছেন অনেকে।

দিনভর ধুলো ধোঁয়া, দূষণে ত্বক রুক্ষ হয়ে যায়। সূর্যের অতিবেগনি রশ্মিও ত্বকের ক্ষতি করে। এই তিন ধাপই ত্বক থেকে ময়লা দূর করে সজীব করে তুলতে সাহায্য করে।

প্রথম ধাপ: তেলযু্ক্ত ক্লিনজ়ারের ব্যবহারে ত্বক থেকে ময়লা পরিষ্কার হলেও, মুখ রুক্ষ হয় না। তেল নিয়ে আঙুলের সাহায্যে মুখে হালকা মাসাজ করতে হবে। মুখে মেকআপ থাকলে তেলেই তা উঠে যাবে। এতে নারকেল তেল, কাঠাবাদামের তেল ব্যবহার করা যায়। হালকা হাতে তেল মাসাজের পর তুলো দিয়ে পরিষ্কার করে ফেলা যায়। এতে দেখা যাবে, তেলের সঙ্গে ময়লাও উঠে আসছে।

দ্বিতীয় ধাপ: ২ মিনিট ধরে ফেসওয়াশ করলে, ত্বকেরও কিন্তু ব্যায়াম হয়। আসলে ফেসওয়াশ একটু বেশি সময় ধরে করলে মুখের মাসাজ হয়। মাসাজ করলে ত্বকে রক্ত সঞ্চালন ভাল ভাবে হবে।

তৃতীয় ধাপ: কোনও রকমে জলের ঝাপটায় মুখ ধুলে অনেক সময় ফেসওয়াশের ফেনা বা প্রসাধনীর অংশবিশেষ ত্বকে লেগে থাকে। ৪ মিনিট ধরে মুখ ধোয়া মানে মুখের প্রতিটি অংশ খুব ভাল করে পরিষ্কার হওয়া। ২ মিনিট ঈষদুষ্ণ জলে মুখ ধোয়ার পর পরের ২ মিনিট ঘরের তাপমাত্রায় থাকা জলে মুখ ধুয়ে নিন। হালকা গরম জল ব্যবহার করলে শরীরেও আরাম আসবে। ক্লান্তি দূর হবে। তার প্রভাবেই মুখ দেখাবে ঝকঝকে।

ব্রণ, র‌্যাশ বা সংক্রমণের নেপথ্যে থাকে ত্বকের অপরিচ্ছন্নতা। এই রূপচর্চা পদ্ধতি সেই অপরিচ্ছন্নতাকেই দূর করে। মাসাজ়ের ফলে রক্ত সঞ্চালন ভাল হয়। আবার ২ মিনিট ঈষদুষ্ণ জলে মুখ ধোয়ার ফলে ত্বকে থাকা সূক্ষ্ম রন্ধ্রগুলি খুলে যায়। মুখ ভাল করে পরিষ্কার হয়। আবার পরের ২মিনিট ঘরের তাপমাত্রায় থাকা বা ঠান্ডা জলে মুখ ধুলে উন্মুক্ত রন্ধ্র সঙ্কুচিত হয়ে আগের অবস্থানে ফিরে আসে। এর ফলে ত্বক উজ্জ্বল এবং সজীব দেখায়।

নিয়মিত এই রূপচর্চায় কী কী লাভ?

· ব্রণের সমস্যা দূর হবে, সংক্রমণের ঝুঁকি কমবে।

· ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকবে।

· ত্বকের পরিচর্যা নিয়মিত হবে।

· ত্বক দাগমুক্ত, সজীব এবং সুন্দর থাকবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement