চুলের ডগা ফাটার সমাধান হবে কোন উপায়ে? ছবি: ফ্রিপিক।
চুল লম্বাই হোক বা ছোট— ডগা ফেটে গেলে মোটেই তা ভাল দেখায় না। আবার এই সমস্যার সমাধানও চট করে হয় না। আদতে অনেকে বুঝতেই পারেন না, কী ভাবে চুলের হাল ফিরবে? কেউ বলেন তেল মাখতে, কারও বক্তব্য, চুল ছাঁটলেই সমস্যা কমবে। কিন্তু যাঁদের এই সমস্যা রয়েছে, তাঁরা জানেন সমাধান ঠিক ততটাও সহজ নয়।
এই ব্যাপারেই পরামর্শ দিলেন গুরুগ্রামের ত্বকের রোগের চিকিৎসক শিবানী যাদব। তিনি জানাচ্ছেন, চুলের ডগা ফেটে দু’টি মুখ হয়ে যাওয়ার সমস্যাকে চিকিৎসার পরিভাষায় বলা হয় ‘ট্রিকোটিলোসিস’। চুলের উপরিভাগে থাকে কিউটিকল, সেই স্তরটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেই চুলের ডগা ফেটে দু’টি মুখের মতো হয়ে যায়। চুল মাঝখান থেকে ভেঙেও যায়। রুক্ষ দেখায়।
ডগা ফাটার কারণ কী
চুলের ডগা ফাটার নেপথ্যে একাধিক কারণ থাকতে পারে। অতিরিক্ত রুক্ষ ভাব, সূর্যের তাপ, ক্ষার যুক্ত শ্যাম্পুর ব্যবহারে সমস্যা বাড়ে। কেশসজ্জা করতে গিয়ে ঘন ঘন তাপের ব্যবহার, স্ট্রেটনিং, রিবন্ডিং, রাসায়নিক রং প্রয়োগ করলেও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে চুলের বাইরের আবরণ। তার ফলেই এমন সমস্যা দেখা যায়। একবার চুলের ডগা ফাটলে তা মেরামত করা কঠিন, মানছেন চিকিৎসক। তাঁর পরামর্শ, ডগা ফাটার আগেই তা প্রতিরোধের চেষ্টা করা দরকার।
সমাধান কী
চুলের উপযোগী মৃদু, সালফেটবিহীন শ্যাম্পুর ব্যবহার, অতি অবশ্যই মাখতে হবে কন্ডিশনার। সপ্তাহে একদিন চুলকে আর্দ্র রাখে এমন মাস্ক ব্যবহার করা জরুরি। সিরাম বা লিভ-ইন কন্ডিশনার ব্যবহার করা দরকার। এতে চুল মসৃণ থাকে, ডগা ফাটার সম্ভাবনা কমে। মোটা দাঁড়ার চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ালেও চুলে টান পড়ে কম।
পাশাপাশি ধুলো, ধোঁয়া, রোদের তাপ থেকে চুল বাঁচানোর পরামর্শ দিচ্ছেন তিনি। টুপি বা ছাতা ব্যবহার করলে রোদ আটকানো যায়। এড়ানো দরকার চুলের জন্য ক্ষতিকর কেশসজ্জা। ছয় থেকে আট সপ্তাহ অন্তর চুলের নীচের অংশ ছেঁটে ফেলতে হবে। একদিকে পরিচর্যা আর অন্য দিকে ডগা ছাঁটলে ধীরে ধীরে চুলের হাল ফিরবে।