সকলের ত্বকে সয় না সব টোটকা, কোনটি কার জন্য নয়? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
কাঁচা হলুদ বা বেসনের প্রলেপ মাখলেই কি ত্বক ঝলমল করে উঠবে? উত্তরটা ‘হ্যাঁ’ হতে পারে, আবার 'না'-ও হতে পারে। বেশির ভাগে ধারণা, ভেষজ বা প্রাকৃতিক উপাদান মানেই তা সকলের জন্য ভাল। তা কিন্তু নয়। যিনি হলুদ বা বেসন মেখে সুফল পাচ্ছেন, তিনি বাকিদের দেখে যদি লেবুর রসে চিনি মিশিয়ে মুখে ঘষতে থাকেন, তা হলে বিপদ হতে পারে। চামড়া পুড়ে যেতে পারে। অর্থাৎ, সব ধরনের ত্বকে সব টোটকা সয় না মোটেও। অতি পরিচিত ঘরোয়া টোটকাও হয়ে উঠতে পারে ত্বকের র্যাশ বা অ্যালার্জির কারণ। কার ত্বকে কোনটি সইবে, আর কোনটি নয়, তা ব্যবহারের আগে জেনে রাখা জরুরি। না হলে ঘরোয়া উপচারে ত্বকের জেল্লা ফেরাতে গিয়ে হিতে বিপরীতও হতে পারে।
লেবুর রসে ‘অ্যাসিড বার্ন’
লেবুর রসে প্রচুর পরিমাণে সাইট্রিক অ্যাসিড থাকে। অনেকে মনে করেন, এটি ত্বক ফর্সা করে. কিন্তু সরাসরি লেবু মাখা অনেকের জন্যই বিপজ্জনক। যাঁদের ত্বক শুষ্ক ও স্পর্শকাতর, তাঁরা ত্বকে লেবুর রস মাখলে র্যাশ বা ব্রণর সমস্যা হতে পারে। চামড়া পুড়ে কালচে দাগ পড়তে পারে। লেবুর উচ্চ অম্লত্ব ত্বকের প্রাকৃতিক রক্ষাকবচ বা পিএইচের ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। ফলে লেবুর রস মেখে রোদে বেরোলে সানবার্ন হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
বেসনে বলিরেখা
ত্বক যদি খুব শুষ্ক হয় এবং র্যাশের সমস্যা থাকে, তা হলে বেসন একেবারেই উপযুক্ত নয়। বেসন ত্বক থেকে অতিরিক্ত তেল শুষে নেয়। শুষ্ক ত্বকে এটি মাখলে চামড়া আরও বেশি খসখসে হয়ে যায় এবং আর্দ্রতা হারিয়ে ফেলে। রোজ অতিরিক্ত বেসন মুখে মাখলে চামড়া কুঁচকে অকালেই বলিরেখা পড়তে পারে।
কাঁচা হলুদে অ্যালার্জি
হলুদের কারকিউমিন যৌগ ত্বকের অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট হিসেবে কাজ করে। তবে সকলের জন্য এটি উপকারে না-ও আসতে পারে। সংবেদনশীল ত্বক বা কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিসের সমস্যা থাকলে, হলুদ মাখলে অ্যালার্জির সমস্যা বাড়তে পারে। ত্বকে লালচে ভাব, চুলকানি এবং ছোট ছোট ফুস্কুড়ি বেরোতে পারে।
চিনি বা নুনে এগজ়িমা
চামড়ার অসুখ হিসেবে এগজ়িমা খুবই পরিচিত নাম। এতে ত্বকে জ্বালা, ফেটে যাওয়া, চুলকানি, ত্বক শুকিয়ে খসখসে হয়ে যাওয়া, কখনও আবার ফোস্কা পড়তেও দেখা যায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এরই নাম অ্যাটপিক ডার্মাটাইটিস। ত্বক চিকিৎসকেরা বলছেন, ব্রণ-প্রবণ ত্বক এবং পাতলা চামড়া যাঁদের, তাঁরা ত্বকের এক্সফোলিয়েশনের জন্য বেশি চিনি বা নুন ঘষলে চামড়া উঠতে শুরু করবে। ত্বকের ভিতরের কোষ নষ্ট হতে থাকবে, ফলে সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়বে।
রোমকূপ বন্ধ করে দিতে পারে টক দই
তৈলাক্ত ত্বকের জন্য টক দই উপযুক্ত নয়। দইয়ের ল্যাক্টিক অ্যাসিড ত্বকের জন্য ভাল হলেও, এতে থাকা ফ্যাট সকলের উপযুক্ত নয়। দইয়ের ফ্যাট অনেক সময়েই রোমকূপ বন্ধ করে দেয়। ফলে ত্বকের ভিতরে ঘাম ও ধুলোময়লা জমে গিয়ে ব্রণ বা ব্ল্যাকহেডসের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
অতিরিক্ত দারচিনি বা লবঙ্গ ব্যবহারে ফোস্কা
ব্রণ কমাতে অনেকেই দারচিনি ও মধুর ফেসপ্যাক মাখতে বলেন। নেটমাধ্যমে এই টোটকা বেশ পরিচিত। তবে স্পর্শকাতর ত্বকে এই প্যাক রোজ মাখতে শুরু করলে লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হবে। এটি সরাসরি ত্বকে লাগালে কয়েক মিনিটের মধ্যেই অসহ্য জ্বালা শুরু হতে পারে। এমনকি, ফোস্কাও পড়ে যেতে পারে। ত্বকে জ্বালা হতে পারে বা দাগছোপও পড়তে পারে।
ঘরোয়া কোনও প্যাক মুখে মাখার অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে কানের নীচে বা হাতে সামান্য মেখে ‘প্যাচ টেস্ট’ করে নেওয়া জরুরি। চুলকানি বা অস্বস্তি না হলে তবেই সেটি ব্যবহার করা যেতে পারে।