খনিজযুক্ত ‘কাদামাটি’ ব্যবহারের ভুল-ঠিক জেনে নিন। ছবি: সংগৃহীত।
মাস্ক, সিরাম, ড্রাই শ্যাম্পু, স্পায়ের যুগে ‘কাদামাটি’-র জনপ্রিয়তা বাড়ছে। রূপচর্চার জগতে অ্যালুমিনিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও সিলিকা সমৃদ্ধ এই মাটির অবদান অপরিসীম। যুগ যুগ ধরে ত্বক ও চুলের যত্নে প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে মুলতানি মাটি। ত্বক থেকে অতিরিক্ত তেল, ময়লা ও সেবাম উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করে, ব্রণ কমায়, রোমকূপ পরিষ্কার রাখে এবং ত্বক উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে।
চুল মজবুত করার জন্য কী মাখবেন? ছবি: সংগৃহীত
কিন্তু চুলে এই কাদামাটি ব্যবহার করার চল কেন বাড়ছে?
১. রাসায়নিক শ্যাম্পুর মতো কেবল মাথার ত্বকের উপরিস্থল পরিষ্কার করে না মুলতানি মাটি, এটি মাথার ত্বক থেকে চুম্বকের মতো অতিরিক্ত সেবাম শুষে নেয়, পরিবেশের ক্ষতিকর পদার্থকণা এবং প্রসাধনীর অবশিষ্টাংশও সরিয়ে দেয়। পাশাপাশি, চুলের গোড়ায় অক্সিজেন এবং পুষ্টির জোগান দেয় এই মাটি।
২. মুলতানি মাটির প্যাক ব্যবহারের ফলে মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন উন্নত হয়, যা চুলের ফলিকলে প্রয়োজনীয় পুষ্টি পৌঁছে দিতে এবং চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
২. এই মাটির অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল বৈশিষ্ট্য খুশকি এবং মাথার ত্বকের চুলকানি কমাতে সাহায্য করে।
৩. মুলতানির সিলিকা ও ম্যাগনেশিয়াম চুলের গঠন মজবুত করে এবং চুলকে নরম, কোমল ও উজ্জ্বল রাখে।
৪. রাসায়নিক ট্রিটমেন্ট বা পরিবেশগত দূষণে ক্ষতিগ্রস্ত চুলের রুক্ষতা কমিয়ে প্রাকৃতিক কন্ডিশনারের মতো কাজ করে মুলতানি মাটি।
কী ভাবে মুলতানি মাটি মাখবেন মাথায়?
কেবল জল ও মাটির মিশ্রণ চুলে না মাখাই ভাল। এতে চুল ও মাথার ত্বক অত্যধিক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। তাই মাটির সঙ্গে তেল ব্যবহার করা দরকার। এর সঙ্গে ক্যাস্টর অয়েল, অ্যালো ভেরা জেল, মেথি, নারকেল তেল ইত্যাদি মিশিয়ে মাথায় প্যাক হিসেবে প্রয়োগ করা উচিত। তবে মাখার পর পুরোপুরি শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন না। তাতেও শুষ্কতা বেড়ে যেতে পারে। তাই অল্প ভিজে থাকা অবস্থাতেই মাথা ধুয়ে ফেলতে হবে। তবেই চুলে আসবে প্রাকৃতিক জেল্লা।