Hormonal Acne

৩০-এ পৌঁছে প্রথম বার গালে, মুখে ব্রণ? সমস্যা আসলে কোথায়, সমাধানই বা কী হতে পারে?

স্বাস্থ্য সংক্রান্ত জটিলতা ছাড়াও ত্বকের উপরে হরমোনের প্রভাব অনিবার্য। ব্রণ সব সময় অযত্ন থেকে হয় না। হরমোনের আচমকা পরিবর্তনেও এমন হতে পারে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৬ মে ২০২৬ ১৪:১৮
Share:

ত্রিশের পরে মুখে ব্রণ! কারণ কী? ছবি:সংগৃহীত।

বয়স ৩০ বছর পার। এমন সময়ে মধুপর্ণার গালে, মুখে ব্রণ। কৈশোরে যা হয়নি, হঠাৎ করে এমন বয়সে এসে তা দেখা দিল! বয়সন্ধির সময়ে মুখে ব্রণ হওয়া স্বাভাবিক। কারণ, এই বয়সে হরমোনের হেরফের হয়। তা ছাড়া, ত্বকের ঠিকমতো যত্ন না নেওয়ার ফলে, আবার কখনও কখনও ভুল কিছু টোটকা প্রয়োগে সমস্যা বাড়ে।

Advertisement

কিন্তু ৩০ পার করে ব্রণের কারণ কী? গুরুগ্রাম এবং দিল্লি নিবাসী ত্বকের রোগের চিকিৎসক গুরবিন ওয়াড়াইচ গড়েকর জানাচ্ছেন, যদি কারও কম বয়সে ব্রণের সমস্যা না থাকে, তা হলে একটি বয়সের পর হঠাৎ করে বার বার ব্রণ হলে বুঝতে হবে, গলদ রয়েছে অন্য কোথাও। শুধু ত্বকের সঠিক পরিচর্যার অভাব নয়, এর নেপথ্যে রয়েছে হরমোনের ভারসাম্যের অভাব।

স্বাস্থ্য সংক্রান্ত জটিলতা ছাড়াও ত্বকের উপরে হরমোনের প্রভাব অনিবার্য। ব্রণ, ত্বকে কালো দাগছোপ, চোখের নীচের কালো দাগের নেপথ্যে সব সময় আবহাওয়া কিংবা অযত্ন থাকে না। হরমোনের আকস্মিক পরিবর্তনেও এমন হতে পারে। হরমোনের হেরফেরে যে ব্রণ হয়, তাকে 'হরমোনাল অ্যাকনে' বলা হয়। কিন্তু হরমোনের হেরফের হয় কেন? মানসিক চাপ, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, কখনও আবার শারীরিক সমস্যা থাকে এর নেপথ্যে। এই ধরনের ব্রণ কমাতে হলে ত্বকের যত্ন নেওয়াই যথেষ্ট নয়, বরং প্রয়োজন সমস্যার মূল কারণ খুঁজে সমাধান করা।

Advertisement

মানসিক চাপ: কর্টিসল হরমোনকে স্ট্রেস হরমোন বলা হয়। কোনও কারণে কর্টিসলের ক্ষরণ বেড়ে গেলে, ত্বকে সেবাম (ত্বকের স্বাভাবিক তৈলাক্ত ভাব বজায় রাখতে সাহায্য করে) উৎপাদন বেড়ে যাওয়ায় মুখ তৈলাক্ত হয়ে পড়ে। ব্রণের সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষত টানা কেউ মানসিক চাপের মধ্যে থাকলে এই ধরনের সমস্যা বাড়ে।

অতিরিক্ত দুগ্ধ জাতীয় খাবার: দুধ, ক্রিম জাতীয় খাবার বেশি খেলেও সেবাম উৎপাদনের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। দুধে থাকা অ্যান্ড্রোজেন কখনও কখনও মানবদেহে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। অতিরিক্ত সেবাম নিঃসৃত হলে, ত্বকের রন্ধ্রমুখ বন্ধ হয়ে যায়। তার ফলে ব্রণ হতে পারে।

চিনি জাতীয় খাবার: খাদ্যতালিকায় চিনিযুক্ত খাবার বেশি থাকলেও বাড়তে পারে ব্রণের সমস্যা। এই ধরনের খাবার খেলে আচমকাই রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়। ইনসুলিন হরমোনের হেরফেরেও সেবাম উৎপাদন কম-বেশি হয়। যার ফলে ব্রণ হতে পারে। ত্বক তেলতেলে হয়ে যায়।

বাড়তি ওজন: ওজন বৃদ্ধি হলেও শরীরে আনুষঙ্গিক নানা সমস্যা এসে পড়ে। ইনসুলিন রেজ়িস্ট্যান্স তৈরি হলে বা অ্যান্ড্রোজেনের মাত্রা বাড়লেও ব্রণ হতে পারে।

সমস্যার সমাধানে কী করণীয়

জীবনযাপনে কিছুটা রাশ টানা দরকার। স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত জল খেলে শরীর ঠিক থাকবে। যদি পিসিওএস, পিসিওডি বা অন্য কোনও শারীরিক সমস্যা থাকে, যার জন্য হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে, সেই সমস্যার সমাধান প্রয়োজন। পাশাপাশি দরকার ত্বকের পরিচর্যা। নিয়ম করে ক্লিনজ়িং, টোনিং, ময়েশ্চারাইজ়িং জরুরি। আর বাড়াবাড়ি রকমের ব্রণ হলে এটা-সেটা না মেখে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভাল।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement