লম্বা সময় অফিসে থাকলে ত্বকের কোন ধরনের সমস্যা হয়, তার সমাধানই বা কী? ছবি:সংগৃহীত।
বাইরে বেরোলেই ঘামে জামা-কাপড় ভিজে যাচ্ছে। চাঁদিফাটা রোদ। সেই তীব্র গরম পেরিয়ে অফিসের বাতানুকূল ঘরে এলে যেন স্বস্তি মেলে। তবে তা-ও ক্ষণস্থায়ী। কারণ, দীর্ঘ ক্ষণ এসিতে থাকতে গেলেই শুরু হয় কাঁপুনি, বিশেষত যদি বাতানুকূল যন্ত্রের তাপমাত্রা বেশ কমানো থাকে।
এক দিকে গরম এবং ঠান্ডা, তার উপর দীর্ঘ ক্ষণ এসি ঘরে বসে কাজ করার পরে ত্বকের উপরেও তাপমাত্রার হেরফেরের প্রভাব পড়তে থাকে। নিয়মিত যাঁদের এসি অফিসে ৮-১০ ঘণ্টা কাজ করতে হয়, এই গরমেও তাঁদের ত্বক রুক্ষ হয়ে পড়ে।
বাইরে গরম, অফিসের ঘরে এসির ঠান্ডা, এমন পরিস্থিতিতে ত্বকের যত্ন করবেন কী ভাবে?
১। ঘুম থেকে উঠেই প্যারাবেন মুক্ত হালকা কোনও ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। রোদে বেরোতে হলে বেছে নিন জেল বেস্ড সানস্ক্রিন। আর্দ্রতা ধরে রাখতে পারে, এমন ওয়াটার বেস্ড ময়েশ্চারাইজ়ার গরমের জন্য ভাল। তার উপর পছন্দের ফাউন্ডেশনের পরতও দিতে পারেন।
২। অফিসে পৌঁছে ঘর্মাক্ত ঘাড়-মুখ ধুয়ে নিতে পারেন। এতে ঘামের সঙ্গে ধুলো-ময়লা পরিষ্কার হয়ে যাবে। চাইলে মাইসেলার ওয়াটার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে ত্বকের উপযোগী কোনও ময়েশ্চারাইজ়ার মেখে নিন। দীর্ঘ ক্ষণ এসি অফিসে থাকলে, আর্দ্রতার অভাবে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। ময়েশ্চারাইজ়ার আর্দ্রতার বর্ম ধরে রাখতে সাহায্য করে।
৩। কম্পিউটার বা ল্যাপটপের ‘ব্লু লাইট’ বা নীলাভ আলো ত্বকের ক্ষতি করে। বিশেষত লম্বা সময় তা মুখে পড়লে, ত্বক রুক্ষ হয়ে যেতে পারে, বলিরেখাও পড়তে পারে। ব্লু লাইট প্রতিরোধ করতে পারে, এমন ধরনের সানস্ক্রিনও মেখে রাখতে পারেন। তা না চাইলে, চেষ্টা করুন ‘ব্লু লাইট’ প্রোটেকটর ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের পর্দায় লাগিয়ে নিতে।
৪। অফিসের বিরতির সময়ে ১ মিনিটের ত্বকচর্চা কিন্তু সেরে নেওয়া যেতে পারে। বিশেষত যাঁদের ত্বক ভীষণ শুষ্ক, তাঁদের জন্য এই ধাপটি কার্যকর হতে পারে। বিরতির সময় মুখে হায়ালুরোনিক সিরাম ব্যবহার করতে পারেন। এই সিরাম ত্বকের আর্দ্রতা উবে যেতে দেয় না, ধরে রাখে। অনেকেরই অভিযোগ থাকে, অফিস থেকে সন্ধ্যা বা রাতে বেরোনোর সময় ত্বক কেমন রুক্ষ, প্রাণহীন দেখায়। সিরাম ব্যবহার তাঁদের জন্য কার্যকরী হবে। ব্যবহার করতে পারেন সিরাম মিস্ট। স্প্রে বোতলে থাকা মিস্ট খুব সহজে মুখে ব্যবহার করা যায়।
৫। এসি অফিসে ত্বক যাতে বেশি শুষ্ক না হয়ে পড়ে, সে জন্য টেবিলে ছোট্ট পাত্রে একটু জল রেখে দিতে পারেন। জল থাকলে, আর্দ্রতার মাত্রা বাড়ে। ফলে ত্বক দ্রুত শুষ্ক হয়ে পড়ে না।
৬। ডেস্কে হাতের কাছে রেখে দিন লিপ বাম, হাতে মাখার ক্রিম। বাতানুকূল ঘরে আর্দ্রতার অভাব থাকায় ত্বকের পাশাপাশি ঠোঁটও শুকিয়ে যায়। লিপ বাম হাতের কাছে থাকলে, ঠোঁট শুষ্ক লাগলেই বুলিয়ে দেওয়া যায়। কারও হাতের তালু খুব শুষ্ক হয়ে যায়। তাঁরা হাতে মাখার ক্রিম রাখুন ব্যাগে। মাঝেমধ্যে তালুতে মেখে নিলেই হবে।
৭। জরুরি হল জল এবং ফল খাওয়া। গরমের মরসুমে ঘাম বেশি হওয়ার ফলে শরীর থেকে জল এবং খনিজ বেরিয়ে যায়। পাতলা ছাস, ফলের নির্যাস মিশ্রিত ডিটক্স ওয়াটার, বার বার জল খাওয়াও জরুরি। শারীরবৃত্তীয় কাজের জন্য যেমন জলের দরকার, তেমনই, ত্বক আর্দ্র এবং প্রাণবন্ত রাখার জন্য জল, স্বাস্থ্যকর পানীয়, মরসুমি ফল খাওয়া প্রয়োজন।