কোন বালিশ কত দিন ব্যবহার করা যায়? ছবি: সংগৃহীত।
কেউ গর্বের সঙ্গে বলেই থাকেন, “এই যে ড্রেসিং টেবিল, তার বয়স ৪০ হল।” কিংবা, “বালিশটা আমার সন্তানের জন্মের সময় থেকে আছে, ২৪ বছরেরও বেশি পুরনো।” অনেকেই এত যত্নে বালিশ, বিছানা, আসবাব, পোশাক ব্যবহার করেন যে, বছরের পর বছর তা অক্ষত এবং সুন্দর থেকে যায়।
কিন্তু ওষুধ এবং প্রসাধনীর যেমন মেয়াদ আছে, তেমন ব্যবহারের সময়সীমা আছে বালিশেরও। মুম্বই নিবাসী অস্থিরোগ চিকিৎসক রাহুল মোদী এক সাক্ষাৎকারে জানাচ্ছেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বালিশ নরম হয়ে যায়, ফলে শুলে মাথা-ঘাড়ের অবস্থাও ঠিক থাকে না। তা ছাড়া, দিনের পর দিন ত্বকে লেগে থাকা ময়লা, ঘামও তাতে লাগতে থাকে। ফলে একটা সময় আসে, যখন সেই বালিশ বদলে ফেলার প্রয়োজন হয়।
বালিশ তো অনেকে ১০-২০ বছর অনায়াসেই ব্যবহার করেন!
যে বালিশে শোয়া হয়, সেটি সরাসরি ত্বকের সংস্পর্শে থাকে। বালিশেই লাগে ঘাম। তা ছাড়া বালিশে থাকা ধুলো,-ময়লাও ত্বকে লাগে। চিকিৎসকেরা বলছেন, সেই ধুলো-ময়লা শ্বাসের মাধ্যমে ফুসফুসেও যায়। তা থেকেই ত্বকে সংক্রমণের আশঙ্কা যেমন উড়িয়ে দেওয়া যায় না, তেমনই ফুসফুসের সমস্যাও ক্ষেত্রবিশেষে হওয়া অস্বাভাবিক নয়।
ঘুম, শোয়ার সময় সঠিক ভঙ্গিমা এবং স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিলে নির্দিষ্ট সময় অন্তর বালিশও বদলে ফেলা দরকার।
এক এক ধরনের বালিশ এক এক রকম উপকরণ দিয়ে তৈরি হয়।পলিয়েস্টার থেকে তুলো, মেমরি ফোম— এক এক রকম উপাাদানের বালিশের মেয়াদ এক এক রকম।
পলিয়েস্টার বালিশ: এমনিতে বেশ নরম, আরামদায়কও। তবে কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি এই বালিশ ৬ মাস থেকে ২ বছরের বেশি ব্যবহার না করাই ভাল। বালিশ কভার পরিয়ে বা না পরিয়ে, কতটা পরিচ্ছন্ন ভাবে ব্যবহার হচ্ছে, তার উপর এর স্থায়িত্ব নির্ভর করে। বড় জোর ৩ বছর পর্যন্ত তা ব্যবহার করা চলে। কারণ, বার বার ব্যবহারে কৃত্রিম তন্তু সরে যায় বা আলগা হয়ে যায়, ফলে আগের অবস্থা আর থাকে না। ঘাড় থেকে মাথা রাখার পরে বালিশ আরামদায়ক বোধ হচ্ছে কি না, বুঝে নেওয়া প্রয়োজন। যদি না হয়, বুঝতে হবে, বদলানো প্রয়োজন।
পালকের বালিশ: বিভিন্ন পাখির পালক ব্যবহার করে এটি তৈরি হয়। ভাল মানের বালিশের দামও যথেষ্ট। অত্যন্ত নরম, আরামদায়কও। পালেকর বালিশের মেয়াদ আরও একটু বেশি। বছর ৫-১০ অনায়াসে ব্যবহার করা যায়। যেহেতু এখানে কৃত্রিম তন্তুর ব্যবহার হয় না, তাই এর স্থায়িত্ব বেশি। ভাল পালকের বালিশ কেনার জন্য (রেসপন্সিবল ডাউন স্ট্যান্ডার্ড) সার্টিফিকেট দেখে কিনতে পারেন।
মেমরি ফোম বালিশ: আধুনিক নানা রকম বালিশের মধ্যে মেমরি ফোম বালিশও জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। ঘুমের সময়ে ঘাড়, কাঁধের অবস্থান সঠিক রাখতে এই ধরনের বালিশ বেশ কার্যকর। সাধারণ বালিশের তুলনায় এগুলির স্থায়িত্ব বেশি, অল্প কয়েক দিন ব্যবহারে বেশি নরম হয়ে যায় না বা চেপ্টে যায় না। মোটামুটি ৫ বছর ব্যবহার করা চলে বালিশটি। ঘাম থেকে যাতে ব্যাক্টেরিয়া না জন্মায়, তাই বালিশে সব সময় সুতির কভার পরিয়ে রাখা দরকার। গরমকালে সেই কভার দু-তিন দিন অন্তর কাচাও জরুরি।
শিমুল তুলোর বালিশ: এই বালিশই সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়। অত্যন্ত নরম। প্রাকৃতিকও। ২-৩ বছর পর্যন্ত ব্যবহার করা চলে এই বালিশ।। তবে তুলো দলা পাকিয়ে গেলে বা তুলো থেকে বীজ আলাদা হয়ে গেলে বালিশ পাল্টানো প্রয়োজন।