‘মেলোডি’-র বিজ্ঞাপনী ছড়ার জনপ্রিয়তার কারণ কী? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম
‘মেলোডি এত চকোলেটি কেন?
মেলোডি খাও, নিজেই জেনে যাও।’
৯০-এর দশকে এই বিজ্ঞাপনী ছড়া মুখে মুখে ফিরত। ১ টাকার টফির স্বাদে মজেছিল আট থেকে আশি। কিন্তু সেই চকোলেটই যে ভবিষ্যতে ভারতের সঙ্গে ইটালির কূটনৈতিক সম্পর্কের বাঁধন পোক্ত করতে কাজে আসবে তা-ই বা কে জানত! ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে প্যাকেট ভর্তি ‘মেলোডি’ উপহার দিয়ে নরেন্দ্র মোদী ভারতীয়দের মনেও উস্কে দিলেন ছোটবেলার স্মৃতি। সেই সঙ্গে বিশ্বের দরবারে পৌঁছেও দিলেন ভারতীয় ‘মেলোডি’-কে।
চকোলেট ভাগাভাগির মিষ্টি মুহূর্ত সমাজমাধ্যমে ভাগ করে নিয়েছেন মেলোনি। ধন্যবাদও জানিয়েছেন ভারতীয় রাষ্ট্রপ্রধানকে। সেই ভিডিয়োয় ইতিমধ্যেই লাইক, কমেন্টের বন্যা। প্রধানমন্ত্রীর ‘মেলোডি’ উপহারের মধ্যে কূটনৈতিক কৌশল থাকলেও, ভারতবাসী তা দেখেই ভাসছেন স্মৃতিমেদুরতায়।
১৯৮৩ সালে টফিটি ভারতে এসেছিল ‘পার্লে জি’ কোম্পানির হাত ধরে। টফি তো আগেও ছিল, কিন্তু মেলোডির বিশেষত্ব ছিল তার ট্যাগলাইন আর স্বাদে। মেলোডি কেন ‘চকোলেটি’, তা চেখে দেখার তাড়না যেমন তৈরি হয়েছিল, তেমনই স্বাদ বিচারে তা জনপ্রিয় হয়েছিল। একবার যিনি খেয়েছিলেন, বার বার সেই স্বাদে ফিরতে চেয়েছিলেন।
কিন্তু কেন চেখে দেখতেই হত ‘মেলোডি’। উত্তর লুকিয়ে স্বাদেই। বৈশিষ্ট্য ছিল এর ভিতরের নরম গলিত চকোলেট। বাইরে ক্যারামেল যুক্ত মোড়ক থাকলেও, মধ্যভাগে থাকত নরম এবং একটু গলিত ভাব, যা মুখে দিলেই স্বাদের বিস্ফোরণ! নামী-দামি দেশি-বিদেশি ব্র্যান্ড থাকলেও ‘মেলোডি’-র দাম, স্বাদ, মোড়ক ও ট্যাগেই ডুবেছিলেন সকলে। কারণ, এটি ছিল সকলের নাগালের মধ্যে। সহজেই পাওয়া যেত ছোট ছোট জনপদে, অলি-গলির দোকানেও।
মেলোডি কেন এত চকোলেটি? ট্যাগলাইনটি লিখেছিলেন সেই সময়ের এক কপি রাইটার সুলেখা বাজপেয়ী। এতে ছিল প্রশ্ন। ছিল কৌতূহল। আর সেই কৌতূহল নিরসনের উত্তর ছিল, নিজে সেই স্বাদ চেখে দেখায়। বিজ্ঞাপন নিয়ে যাঁরা কাজ করেন, তেমন পেশাদারদের ধারণা, এই কৌতূহল আর তার উত্তর খোঁজার মধ্যেই এক সুন্দর বন্ধন তৈরি হয়, যা জনপ্রিয় করে তুলেছিল ট্যাগলাইনটিকে।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নামী-দামি চকোলেটের ভিড়ে হারাতে বসেছিল নব্বইয়ের দশকের নস্টালজিয়া। নতুন প্রজন্মের অনেকেই হয়তো এর স্বাদও জানেন না। তবে ৪৩ বছর পরে ভারতের সেই স্মৃতিমেদুরতা, আবেগকেই বিশ্বজনীন করে তুলে তুললেন নরেন্দ্র মোদী।