মুখোমুখি তাপসী পন্নু। ছবি: ইনস্টাগ্রাম।
গার্হস্থ্য হিংসা থেকে শুরু করে ঘরের বাইরে ধর্ষণ এখনও কমেনি। তবে নানা ভাবে প্রতিবাদের নতুন ভাষা গড়ে তোলার চেষ্টা হয়েছে। এ দেশে গত কয়েক বছরে সে কাজে জোরদার ভূমিকা পালন করেছে সিনেমা। মেয়েদের প্রতি হিংসা এবং তা প্রতিরোধে বহু কাহিনি বলতে রুপোলি পর্দায় দেখা গিয়েছে বিশেষ কয়েকটি মুখ। তাঁদেরই এক জন সম্প্রতি এসেছিলেন কলকাতা শহরে। উপলক্ষ, আরও এক নারীকেন্দ্রিক ছবি। আনন্দবাজার ডট কম মুখোমুখি বসে কিছু প্রশ্ন রাখল সেই অভিনেত্রী তাপসী পন্নুর কাছে।
প্রশ্ন: তাপসী পন্নু ‘নারীবাদী’, তায় আবার বৃহত্তর ক্ষমতার বিরুদ্ধে কথা বলেন। প্রশংসা নয়, নিন্দের সুরেই শুনতে হয় বার বার। যেন ‘নারীবাদী’ শব্দটি ঠাট্টার, নিন্দাসূচক। লড়াই করেন কী ভাবে?
তাপসী: করি না। এই ধারণার সঙ্গে লড়াই করব না বলেই স্থির করেছি। আসলে ‘নারীবাদী’ শব্দের অর্থই জানেন না অনেকে। ‘খারাপ’ শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ছবির জগতে আমার সমসাময়িক অনেক অভিনেত্রীও বলেন, ‘‘আমি বাবা নারীবাদী নই, কেবল সমান অধিকারে বিশ্বাসী।’’ আরে, এই দুটোয় বিরোধ কোথায়! এ সব শুনে হাসি পায়, জানেন? তাঁদের অজ্ঞতার কথা ভেবে কষ্ট হয়, মায়া হয়। এঁরা আসলেই অতিরিক্ত সুবিধাপ্রাপ্ত, তাই এ সব নিয়ে ভাবেন না। দেশের প্রতিটি কোনায় লুকিয়ে আছে ‘নারীবাদী’ শব্দের অর্থ, এই শব্দের শিকড়। বুঝতে পারি, পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ‘নারীবাদী’ শব্দটা পছন্দ করে না, কারণ এই শব্দ খানিক পরিমাণে তাদের অস্তিত্বকে সঙ্কটের মুখে ফেলে দেয়। আর এই ঘটনাই প্রতিফলিত হয় সমস্ত ইন্ডাস্ট্রিতে। আমাদের ইন্ডাস্ট্রি হোক বা আপনাদের ইন্ডাস্ট্রি, সর্বত্রই এক চেহারা। আর এই শব্দটার বাড়বৃদ্ধি নিয়ে এঁরা ভয় পান, তাই ছোট করেই দেখা হয়। আর তাই যাঁদের চেতনার মাত্রা আমার থেকে কম, তাঁদের সঙ্গে তর্ক করে আমি তাঁদের ইচ্ছে পূরণ করি না। অত সময়ও নেই। নয়তো তাঁরা আমাকেও তাঁদের পর্যায়ে নামিয়ে আনবেন।
কলকাতায় ছবির প্রচারে তাপসী। নিজস্ব ছবি।
প্রশ্ন: কিন্তু পুরুষশাসিত ইন্ডাস্ট্রিতে প্রতি নিয়ত যুদ্ধংদেহি হয়ে থাকা কি সহজ?
তাপসী: আমি এমন এক ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করি, যা পুরুষশাসিত। যেখানে নায়ক স্থির করেন নায়িকা কে হবে, পছন্দ না হলে বার করে দেন। কিন্তু এটার উল্টোটাও দেখেছি। আমি আজ পর্যন্ত যতগুলি নারীকেন্দ্রিক ছবিতে কাজ করেছি, তার অধিকাংশই পুরুষের লেখা, পুরুষের পরিচালনা। যেমন ধরুন, অনুভব সিন্হার ‘থাপ্পড়’ এবং ‘অস্সী’, অনুরাগ কশ্যপের ‘মনমর্জ়িয়াঁ’, অনিরুদ্ধ রায়চৌধুরীর’ পিঙ্ক’। এঁদের কথা ভাবুন। ফলে অত্যন্ত নারীবাদী পুরুষদের সঙ্গে কাজ করেছি আমি। তাঁরা কী ভাবে সমান অধিকারের কথা ভাবছেন, সেটা দেখা যায় ছবিগুলিতে। তাই সব সময়ে যুদ্ধ করতে হয় না, এটাও ঠিক।
প্রশ্ন: আচ্ছা, শাহরুখ খানের সঙ্গে ‘ডানকি’-তে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন? তিনিও তো এই পুরুষশাসিত ইন্ডাস্ট্রিরই এক জন নায়ক—
তাপসী: শাহরুখ খানের সম্পর্কে, তাঁর চরিত্র, পৌরুষ, সম্মান করার ক্ষমতা, ইত্যাদি নিয়ে গণমাধ্যম, সমাজমাধ্যমে যা যা প্রকাশ পেয়েছে আজ পর্যন্ত, তা সবই সত্যি।
‘ডানকি’-তে শাহরুখ খানের সঙ্গে তাপসী পন্নু। ছবি: সংগৃহীত
প্রশ্ন: অর্থাৎ প্রকৃত অর্থেই নায়ক?
তাপসী: (হেসে) ঠিকই, ‘ডানকি’-তে কাজ করতে গিয়ে বুঝেছি, তিনি সত্যিই মহিলাদের সম্মান করতে জানেন, ছোট চোখে দেখেন না। তাঁর বীরত্ব, শৌর্য, সবই ভীষণ সত্যি। কিন্তু সেগুলির প্রয়োগ আবার খুবই বিনয়ের সঙ্গে হয়। তিনি সত্যিই তাঁর সহ-অভিনেতা ও অভিনেত্রীদের সঙ্গে অত্যন্ত গ্রেসফুল, রুচিশীল, মার্জিত। যে দু’বছর আমি ওঁর সঙ্গে কাজ করেছি, যখনই সেটে পা রেখেছি, কখনও মনে হয়নি, তাঁর থেকে কোনও অংশে কম আমি। তিনি সেটা মনে করাননি কোনও দিনও। আমার সঙ্গে এমন কিছু ঘটেনি, যেখানে তিনি আমার হয়ে কথা বলেছেন বা কিছু। কিন্তু আমি কিছু ঘটনার কথা শুনেছি ওঁর থেকেই। এমন ঘটেছে কখনও, শাহরুখের মনে হয়েছিল, এক সহঅভিনেত্রীর সঙ্গে অন্যায় হচ্ছে, সেখানে তিনি কথা বলেছিলেন মহিলার হয়ে। অভিনেতাদের কথা ছেড়ে দিন, অন্যান্য পুরুষও সহজে সকলের বিরুদ্ধে গিয়ে আপনার পাশে দাঁড়াবেন, এত আশা সব সময়ে করা যায় না। কিন্তু শাহরুখ খান সেটা করেন।
প্রশ্ন: আপনার ঝুলিতে অধিকাংশ ছবিই নারীকেন্দ্রিক। তাই দর্শকেরা আপনাকে বিনোদনী ছবির নায়িকা হিসেবে দেখতে পারেন না। সেই তালিকায় যুক্ত হল ‘অস্সী’। কেবল বিনোদন নয়, বাস্তবিক সত্যের কথা বলছে যে ছবি—
তাপসী: অনুভব স্যর আর আমি যে ছবিই করি না কেন, আমাদের মতে, সেগুলো বিনোদনী হয়। কিন্তু এখানে ‘বিনোদন’ শব্দের সংজ্ঞাটা খানিক বদলে দিতে হবে। আমাদের কাছে ‘বিনোদন’-এর অর্থ হল, যে ছবি আপনাকে বসিয়ে রাখতে বাধ্য করবে, শেষ পর্যন্ত দেখতে বাধ্য করবে। যে শিল্পই হোক না কেন, সেটা যদি নজর কাড়ে, তা হলে সেটা বিনোদনী বলেই মনে করি। আমরা এমন ছবির কাজই করি, যা দেখে দর্শক কিছু না কিছু বয়ে নিয়ে যাবেন বাড়িতে। সেটা নিয়ে কথা বলবেন। আমার কাছে ভাল, বিনোদনী ছবির মাপদণ্ড সেটিই।
অনুভব সিন্হার ‘অস্সি’-তে তাপসী। ছবি: সংগৃহীত
প্রশ্ন: ‘বিনোদন’কে কেবল নাচগান, মারামারির মধ্যে সীমাবদ্ধ করে ফেলাটাই সমস্যাজনক তার মানে?
তাপসী: একেবারেই তা-ই। আমাদের ছবি হয়তো ১০০ কোটির চৌকাঠ পেরোচ্ছে না, কিন্তু আমাদের ছবির প্রযোজক তাঁর প্রাপ্য লাভ পেয়ে যাচ্ছেন। অবশ্যই এই ধরনের সিনেমা বানানো খুবই কঠিন। কারণ, বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত মানুষেরা তাঁদের বাড়িতে বসে ভাবছেন, ‘আবার নারীর অধিকার নিয়ে একই রকমের সিনেমা!’ কিন্তু তাঁরা সমাজের এমন এক অংশের মানুষ, যাঁরা দেশের বাকি মহিলাদের সম্পর্কে জানেনই না, তাঁদের সমস্যার কথা ভাবেনই না। গ্রামীণ ভারত বা শহরতলির দিকের ছবিটা তো এ রকম নয়। পরিস্থিতি সেখানে এখনও বদলায়নি। যেই মুহূর্তে আপনি মহিলা, তখনই দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক। তার পর তো একে একে জাতপাত, ধর্মের বিভাজন আসছেই। যুদ্ধ হলে মহিলারা ধর্ষিত হচ্ছেন, দাঙ্গা হলে মহিলারা ধর্ষিত হচ্ছেন, জয়লাভ করলেও মহিলাদের ধর্ষণ করে উদ্যাপন করা হচ্ছে। হাজার হাজার বছর ধরে এই একই ঘটনা ঘটে আসছে। ‘অস্সী’তে এই ঘটনাগুলির পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য দেওয়া হয়েছে। যে সংখ্যা সরকারি খাতায় ওঠেই না। তাই এমন ছবি, যেখানে একটি পরিবারের কথা কেবল বলা হচ্ছে না, বলা হচ্ছে গোটা দেশের বৃহত্তর সমস্যার কথা, আরও বেশি তৈরি হওয়া দরকার।
প্রশ্ন: যে ইন্ডাস্ট্রিতে ‘তেরে ইশক মেঁ’, ‘রঞ্ঝনা’, ‘অ্যানিম্যাল’-এর মতো পৌরুষ উদ্যাপন নিয়ে ছবি তৈরি হচ্ছে, সেখানে এমন ছবি বানানো কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে না আরও?
তাপসী: অবশ্যই কঠিন। আরও কঠিন হচ্ছে দিন দিন। এটাই হতাশার।
প্রশ্ন: এই ছবিগুলি হিট হচ্ছে, হাততালি কুড়োচ্ছে—
তাপসী: (হেসে) সঙ্গে কোটি কোটি টাকাও পাচ্ছে!
প্রশ্ন: তা হলে আপনাদের ছবির বাজার তৈরি হবে কী ভাবে?
তাপসী: এই প্রশ্নটা কিন্তু অনেকটা ওই রকম, যেখানে আমরা ভাবি, কী ভাবে পুরুষশাসিত সমাজে মহিলারা নিজেদের জায়গা করে নেবে। একই গল্প, একই ফলাফল। উত্তর একটাই, হাল ছাড়লে চলবে না, নয়তো বদল আসবে না। আগামী প্রজন্মগুলিও সেই পরিবর্তিত সময়টা দেখতে পাবে না। আমি জানি না, আমার জীবদ্দশায় আমি সমান অধিকারের দুনিয়া দেখতে পারব কি না, মানুষ সংবেদনশীল হবে কি না, পর্দায় কম বিষাক্ত পৌরুষ দেখতে পাব কি না। আসলে তা দেখানো নিয়ে আমার সমস্যা নেই, সমস্যা একটা জায়গাতেই, সেটাকে মহৎ করে দেখালে। দর্শক সেই মহত্বকেই আরও বেশি করে উদ্যাপন করে চলেছেন।
প্রশ্ন: এ সব ক্ষেত্রে দর্শকের উপর রাগ হয়?
তাপসী: রাগ নয়, এখানে একটা কথা বলতে হয়, আপনি, আমি, আরও অনেকে মধ্যমেধার কাজ দেখলে গলা তুলি। কিন্তু ততটাই বোধ হয় আমাদের গলা তুলতে হবে ভাল ছবিকে দর্শকের কাছে আনার জন্য। ভাল ছবি দেখানোর জন্য ততটাই খাটতে হবে আমাদের। ওটিটি-তে এলে দেখে নেব— এই মনোভাব থেকে বেরোতে হবে। আমাদের মতো ছবিগুলো অত সহজে ওটিটি-তে আসবেও না। কারণ, প্ল্যাটফর্মগুলো এই ছবিগুলোকে এতখানি চায় না। যদি একই মারপিট, একই বিষাক্ত পৌরুষ নিয়ে ছবি দেখতে দেখতে ক্লান্ত লাগে, তা হলে একই রকম রাগের সঙ্গে ভাল ছবি দেখার জন্য লড়াই করতে হবে। তা হলে আর খারাপ ছবি নিয়ে দুঃখ করার অধিকার তৈরি হয় না দর্শকদের। অনেক সময়ে যেটা হয়, যখন নির্মাতারা দেখছেন, হিংসা বেচলে টাকা আসছে, তখন আরও বেশি করে সেগুলোই বানাচ্ছেন। হয়তো এঁদের মধ্যে অনেকেই আছেন, যাঁরা নারীর দৃষ্টিভঙ্গি থেকেও এক কালে ছবি বানিয়েছেন। ওই আর কী, ট্রেন্ডে গা ভাসিয়ে দেওয়া। এই স্রোতের বিপক্ষে যাওয়াটা খুব সহজ নয়। কিন্তু যাওয়া উচিত বলে আমার মনে হয়। ঠিক যে ভাবে সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য আপনাকে আগে ভোট দিতে হবে। ভোট না দিলে কথা বলার জায়গাও তৈরি হবে না।
প্রশ্ন: আপনার ইচ্ছে হয় না এমন বাণিজ্যিক ছবিতে কাজ করতে?
তাপসী: মাঝেমধ্যে মনে হয়েছে, আমিও তো বেশ একটা স্পাই থ্রিলারে অভিনয় করতে পারি। কোনও একটা সহজ ছবির নায়িকা হতে পারি। কিন্তু জানেন তো, ১০ বছর আগে এ সব করে ফেলেছি আমি। ‘বেবি’ এবং ‘নাম শাবানা’। এখন ছবির বাজারে হিট থাকার জন্য এগুলো করলে মনে হবে, বার বার একই কাজ করে চলেছি। এটা আমায় মানাবে না। ঠিক যেমন ‘মনমর্জ়িয়াঁ’র পর যদি কোনও প্রেমের ছবি করতেই হয়, তা হলে ওই প্রেমকাহিনির থেকে আরও ভাল গল্প নিয়ে আসতে হবে আমার কাছে। টক্সিক প্রেমের গল্প ট্রেন্ডে আছে বলে, সেটাই আমি করতে পারব না। কিন্তু অনেকেই আছেন, যাঁরা এগুলো বার বার করার জন্য প্রস্তুত।
প্রশ্ন: আপনি যদি মা হন, তা হলে কী ভাবে নিজের ছেলেকে বড় করতে চাইবেন?
তাপসী: মস্ত এক আলোচনার প্রয়োজন। খুবই দরকারি আলোচনা। কিন্তু হ্যাঁ যদি আমি কোনও দিনও পুত্রসন্তানের মা হই, আমি চাইব, আমার সন্তান নারী-পুরুষের বিভাজন বোঝার আগে সমান অধিকারকে আত্মস্থ করুক। সবাই আগে বিভাজন বোঝে, তার পর সমান অধিকারের কথা বলে। কিন্তু আমার পুত্রসন্তান যেন সেই বিভাজনকে নিজের মধ্যে শুরু থেকেই জায়গা না দেয়। পুরুষের অধিকার, নারীর অধিকার, প্রান্তিক মানুষের অধিকার, সব বুঝুক, আমি চাইব। আমি শুরুটাই করতে চাই সাম্য দিয়ে। আর শ্রদ্ধা দিয়ে। কেবল চাইব, আমার ছেলে যেন উদার হয়। এমন এক পৃথিবীতে সবার আগে উদার হওয়া প্রয়োজন। উচ্চশিক্ষার ডিগ্রি বা প্রচুর টাকা মাইনে নিয়ে আমি চিন্তিত নই। আগে মানুষের মতো মানুষ হোক।
প্রশ্ন: নিজের সংসারে কী ভাবে পিতৃতন্ত্রের সঙ্গে লড়াই করেন?
তাপসী: আমি যখন থেকে কাজ করা শুরু করেছি, যখন থেকে রোজগার শুরু করেছি, নিজের জীবনের রাশ আমার নিজের হাতেই। প্রত্যেকটি মেয়েকে আমি এটাই বলতে চাই, নিজের জীবনের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিতে চাইলে, নিজে আর্থিক ভাবে স্বাধীন হোন। আপনি নিজের জীবনকে নিয়ন্ত্রণ না করলে, অন্য কেউ নিয়ন্ত্রণ করবে। আমি সব মহিলাকে বলি, নিজে রোজগার না করলে বিয়ে কোরো না। স্বাধীন না হওয়া পর্যন্ত বিয়ের মতো সম্পর্কে জড়িয়ো না। যে মুহূর্তে অন্যের উপর নির্ভরশীল হবে, সেটা এক দিন তোমার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হবে। এ ভাবেই পিতৃতন্ত্রের সঙ্গে লড়াই করা শুরু করেছি আমিও। তার পর বাকিটা সামলে নিয়েছি।
স্বামীর সঙ্গে তাপসী। ছবি: সংগৃহীত
প্রশ্ন: এই সব ঘটনার পরই আমেরিকান সঙ্গীতশিল্পী শেরের কথা সত্য বলে মনে করেন অনেকে — পুরুষ বিলাসিতা, প্রয়োজন নয়। আপনিও কি তা মনে করেন?
তাপসী: দুর্দান্ত তো! এ ভাবে কখনও ভাবিনি। এটা নিয়ে আরও ভাবব কখনও। তবে আমি এ ভাবে বলব, (হেসে) ভাল পুরুষের সান্নিধ্য পাওয়া প্রিভিলেজের সমান।
প্রশ্ন: কলকাতায় এসেছেন, শাড়ি কিনে নিয়ে যাবেন তো? আপনার শাড়ির সংগ্রহ কিন্তু বাংলার শাড়ির সঙ্গে বেশ মিলে যায়।
তাপসী: ও হ্যাঁ, এটা আমি দেখেছি, বাংলার মানুষ আমার শাড়ির পছন্দকে খুব মান্যতা দেন। দেশের আর কোথাও আমার ফ্যাশন নিয়ে প্রশংসা শুনি না। কেবল এখানেই আমি আমার ফ্যাশনের জন্য ভালবাসা পাই। জানেন, আমার ডেনমার্কের বাড়িতেও এই হ্যান্ডলুম, সুতির শাড়ি ভর্তি? আমি সব সময়ে মনে করি, বাংলার সঙ্গে এক প্রকার দৈব যোগাযোগ রয়েছে আমার।
শাড়ির সাজে অভিনেত্রী। ছবি: সংগৃহীত
প্রশ্ন: কী ভাবে?
তাপসী: আমি বাঙালি নই, বাংলা ছবিও করিনি, খুব যে কলকাতা আসতে পারি, তা-ও নয়। কিন্তু বাংলায় আমার ছবি ভালবাসা পায়। আমিও ফ্যাশনের প্রশংসা পাই। বাংলার মেয়েরাও দেখেছি আমায় ভালবাসেন। এখানে আসতে হবে আরও বার বার।
প্রশ্ন: আর শাড়িও কিনতে হবে?
তাপসী: অবশ্যই কিনব। আমার আলমারিতে হ্যান্ডলুম শাড়িই ভর্তি। বিশেষ অনুষ্ঠানের জন্য হয়তো খুব বেশি হলে ৪-৫টি শাড়ি রয়েছে আমার কাছে। রেড কার্পেট বা প্রিমিয়ারেও আমার ইচ্ছে হলে এই হালকা শাড়িগুলিই পরি। এখনও যে টপ আর প্যান্ট পরে আছি, কোনওটাই ডিজ়াইনার ড্রেস নয়।
প্রশ্ন: তাতে বেঁকা চোখে তাকায় না কেউ?
তাপসী: তাকালে তাকাবে। ধুস্! আমার যায়-আসে না। ইন্ডাস্ট্রির কে কী ভাবছে, ও নিয়ে ভাবার সময়ও নেই আমার। এই যেমন আছি, ভালই তো আছি। ছবি করব, গলা তুলব, আপনাদের মতো মানুষের থেকে ভালবাসা পাব। ব্যস, বাকিটাকে ভাবনাচিন্তার বাইরে রাখব।