Wedding Fashion Trend

লেন্স ছেড়ে চশমা! বিয়েতে ছক ভাঙছেন কনেরাও? জাঁকজমকের সাজের সঙ্গে মানাবে কোনটি?

সকলেই যা করেন, তার বিপরীতে হাঁটতে পছন্দ করেন কিছু মানুষ। চশমা কি নিতান্ত বেমানান হয়ে ওঠে কনের সাজে, না কি দিব্যি মানিয়ে যায় কারুকাজ করা বেনারসি কিংবা লেহঙ্গার সঙ্গে?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ মে ২০২৬ ০৮:৫৬
Share:

চশমা যখন দিনযাপনের সঙ্গী, বিয়েতে বাদ কেন? ভাবনা কি বদলাচ্ছে কনেদের? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম

তারই জন্য কত স্বপ্ন বোনা। সাতকপাকে ঘোরা, শুভদৃষ্টি, দুই হৃদয় মিলে যাওয়া। কিন্তু যে মুহূর্তের জন্য এত অপেক্ষা, সেই শুভদৃষ্টির সময় যদি আঁখি ঢাকে চশমায়! তা ছাড়া, কারুকাজ করা বেনারসি কিংবা লেহঙ্গা, রাজকীয় সাজ, তার সঙ্গে কি চশমা রসভঙ্গ ঘটায় না?

Advertisement

চশমা অনেকের জীবনেই প্রতি মুহূর্তের সঙ্গী। হালফ্যাশনের কেতাদুরস্ত পোশাকের সঙ্গে ‘পাওয়ার’ চশমার যুগলবন্দিও অনেকের কাছে নিজস্ব ফ্যাশনের ধারাও। কিন্তু তা বলে বিয়ের কনের আঁখিযুগল ঢাকবে চশমার কাচে? বিয়ের সাজের প্রসঙ্গে এলেই কিন্তু চশমা চলে যায় সব চেয়ে পিছনে। তখন খোঁজ পড়ে কনট্যাক্ট লেন্সের।

সকলেই যা করেন, তার বিপরীতে হাঁটতে পছন্দ করেন কিছু মানুষ। তা তিনি তারকাই হোন বা অতি সাধারণ কেউ। ছক ভেঙেওছেন ইতিমধ্যে কেউ কেউ। সেই ছক ভাঙা পথে কেমন দেখায় কনের সাজ! চশমা কি নিতান্ত বেমানান হয়ে ওঠে, না কি দিব্যি মানিয়ে যায় কারুকাজ করা বেনারসি কিংবা লেহঙ্গার সঙ্গে?

Advertisement

কনের চোখে চশমা

কনের চোখে রকমারি ফ্রেমের চশমা। তবে তা বেমানান লাগছে কি? ছবি: ইনস্টাগ্রাম

প্রথা ভেঙে সংবাদ শিরোনামে এসেছিলেন নয়ডার বধূ প্রমেশা বিশ্বাস। চশমা পরিহিতা বধূর ছবি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়েছিল। কমেডিয়ান সৃজা চতুর্বেদী নিজে সেই ছবি পোস্ট করেছিলেন, যেখানে বর-বধূর চোখ ঢেকেছে চশমায়, কিন্তু সাজ আর ব্যক্তিত্ব পরিপূরক হয়ে উঠেছিল। রঙিন বেনারসির সঙ্গে কালো ফ্রেমের চশমা, আবার সাজের বদলে চশমায় লেগেছে সোনালি ছোঁয়া। অদ্ভূত ভাবে দুই রকম ফ্রেমের চশমাই এমন সাজের সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ হয়েছে। প্রমেশা এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, দুই দশক ধরে তাঁর সঙ্গী চশমা। কনট্যাক্ট লেন্স কখনও ব্যবহার করেননি। তাই বিয়ের দিনেও চশমা ছাড়তে পারেননি।

যে কোনও পোশাকেই চশমা বাদ দেননি কিরণ

বধূ বেশে আমির খানের এক সময়ের স্ত্রী কিরণ রাও। চশমা কিন্তু তাঁর ফ্যাশন স্টেটমেন্ট। ছবি:সংগৃহীত।

আমির খানের দ্বিতীয় স্ত্রী কিরণ রাওয়ের যত ছবি প্রকাশ্যে এসেছে, তাতে সাজ যেমনই হোক, রয়েছে চশমা। মরাঠি বধূবেশী কিরণের মাথায় ঘোমটা টানা থাকলেও, তিনি কিন্তু তাঁদের সাজগোজ থেকে বাদ দেননি চশমা। সাবেক পোশাকও পরেছেন কিরণ বিভিন্ন সময়ে, তবে স্বল্প সাজগোজে দোসর হয়ে থেকেছে চশমাই।

ফটোশ্যুটে দেখিয়েছিলেন মানুষী

বিয়ের সাজে সানগ্লাস বা চশমা যে বেশ মানিয়ে যায়, মানুষী চিল্লারের ফটোশ্যুটেই স্পষ্ট। ছবি:সংগৃহীত।

২০১৭ সালে বিশ্বসুন্দরী খেতাব পাওয়া মানুষী চিল্লারের কনের সাজে্র ফটোশুটেও কিন্তু চোখে চশমা ছিল। গোলাকার ধাতব ফ্রেমের চশমাটি যদিও কিছুটা রোদচশমার মতো, তবে ফ্রেম যদি মানানসই হয়, যে কোনও সাজেই চশমা বেমানান হয় না, তারও প্রমাণ এটি।

কনের সাজেও মোটা ফ্রেমের চশমা

মোটা ফ্রেমের চশমা পরেও নজর কাড়া যায় অভিনেত্রী কিরণ মজুমদারের বিয়ের ফটো শ্যুটে স্পষ্ট। ছবি: সংগৃহীত।

স্বর্ণালঙ্কারে বাঙালি কনে যেমন সুন্দর, তেমনই সুন্দর তার সব কিছু নিয়েই। বিয়ে মানেই শৌখিন ফ্রেমের সোনালি বা তামাটে চশমা নয়। বরং মোটা ফ্রেমও মুখের সঙ্গে মানিয়ে যেতে পারে বেশ। সাজে কোনও কিছুই চিরকালীন নয়, বরং সময়ের সঙ্গে ভাবনার বদলই প্রতিফলিত হয়েছে বার বার। হবেও আবার।

রিমলেসও বেশ বানায়

বিয়ের সাজে ফ্রেম বিহীন চশমাও কিন্তু নজর কাড়তে পারে। ছবি:সংগৃহীত।

ঠিক বাঙালি বেশ নয়, গোটাপট্টি কাজের সিল্ক শাড়ি, পাথরের গলা জোড়া নেকলেস আর ছোট্ট টিকলির সঙ্গেও যে চশমা মানানসই হয়, তা ছবি দেখলেই স্পষ্ট। কনের সাজ যেমনই হোক না কেন, চশমাটি হওয়া দরকার সাযুজ্যপূর্ণ।

সরু ফ্রেমও ফ্যাশনে চলছে

ফ্রেম হওয়া প্রয়োজন মুখের সঙ্গে মানানসই। ছবি: ইনস্টাগ্রাম।

সমাজমাধ্যমে একাধিক মেকআপ আর্টিস্টই জানাচ্ছেন, বিভিন্ন সময়ে কনেরা তাঁদের কাছে আবদার করছেন, চশমা পরার। সেই মতোই সাজাচ্ছেন তাঁরা। কনে দেশি হোন বা বিদেশি, মুখের সঙ্গে ফ্রেম মানানসই হলে, যে কোনও সাজেই তা মানাচ্ছে।

কনের জন্য কেমন হবে চশমার ফ্রেম?

নামী-দামি নানা সংস্থার রকমারি ফ্রেম রয়েছে। কোনও কোনও সংস্থা আবার ‘ওয়েডিং কালেকশন’-ও নাম দিয়েছে। তবে তার মধ্যে প্রতিটি ফ্রেমই যে, আলঙ্কারিক তা কিন্তু নয়। আবার বিয়ের উজ্জ্বল পোশাকের সঙ্গে মোটা ফ্রেমের চশমাই পরতে হবে, তা-ও নয়। বহু চশমাপ্রস্ততকারক সংস্থাই সোনালি, রোজ গোল্ড, রুপোলি সরু ফ্রেমের কিন্তু পাথরখচিত ফ্রেম বাজারে এনেছে।

চশমার ফ্রেম কেমন হবে, নির্ভর করে ব্যক্তি বিশেষের পছন্দের উপরে। ছবি:সংগৃহীত।

কলকাতার লালবাজারের ৭৫ বছরের পুরনো চশমা বিক্রেতা সংস্থার চন্দ্রেশ ঠক্কর জানালেন, কনেরাও এখন ভাবনা বদলাচ্ছেন। খুব কম সংখ্যক হলেও কেউ কেউ চশমা পরছেন। তবে শুধু কনে নন, বিয়েবাড়িতে জমকালো পোশাকের সঙ্গে মানানসই ফ্রেম খুঁজতে আসেন কনে বা বরের আত্মীয়েরাও। সোনালি সরু ফ্রেমের, পাথর সেটিং নানা ধরনের ফ্রেমই তাঁরা রাখছেন চাহিদা বুঝে।

কনেদের সব রকম অবতারেই তাল দিতে পারে ‘ব্রাইডাল’ চশমা। ছবি: সংগৃহীত।

লালবাজারের আরও একটি পুরনো চশমার দোকানের কর্মীরাও জানালেন, একটু শৌখিন ধরনের ফ্রেম রাখেন তাঁরা। কোনওটি ধাতব, কোনওটি সোনালি এবং সরু। কোনওটির আকর্ষণ, পাথরের কারুকাজে। কোনওটি তার রঙেই কামাল করছে।

বিয়েতে চশমা ছেড়ে কন্ট্যাক্ট লেন্স পরাটা তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষায় ‘ছায়াবাজির ছলনা’ মনে করেন অনেক চশমাপ্রেমী নারী-পুরুষ। চশমা তাঁদের কাছে নিছক নজর সামলানোর যন্তর নয়, তা ফ্যাশন স্টেটমেন্ট। তেমন কেউ বলতেই পারেন, চশমার বদলে লেন্স পরে তিনি বিয়ের দিনটা ম্যানেজ করার চেষ্টা না করে সাহসী পদক্ষেপে চশমাকেই তুলে ধরেছিলেন তাঁর সাজপোশাকের অনিবার্য অংশ হিসেবে। মাথাপট্টি বা ওড়না, ঘোমটার ঘনঘটা বা খোলা চুলে বনলতা সেন— কনেদের সব রকম অবতারেই তাল দিতে পারে ‘ব্রাইডাল’ চশমা। হয়ে উঠতে পারে শৌখিনীদের দেখনশোভার আর এক মারকাটারি অস্ত্র। তখন চশমার প্রতিশব্দ আর ‘পরকলা’ নয়, তা কনেদের একেবারেই ‘নিজকলা’।


আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement