Zohran Mamdani eats Bengali Food

নিউ ইয়র্কের মেয়র হওয়ার পরের দিনই বাঙালি খাবার খেলেন মামদানি! কী কী ছিল মেনুতে?

গত বছর এপ্রিলে ওই বাঙালি রেস্তরাঁয় খাওয়া দাওয়া করেছিলেন জ়োহরান মামদানি। তখনই জানিয়েছিলেন, বাঙালি খাবারের স্বাদ তাঁর ভাল লেগেছে। মেয়র হিসাবে অভিষিক্ত হওয়ার পরে সেই স্বাদের ভাগ নিতেই তিনি আবার হাজির হলেন বৈশাখীতে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১৪:৫৮
Share:

খেতে ভালবাসেন নিউ ইয়র্কের নব নির্বাচিত ভারতীয় বংশোদ্ভূত মেয়র জ়োহরান মামদানি। ছবি : সংগৃহীত।

বাবা গুজরাতের। মায়ের জন্ম রৌরকেলায় হলেও বংশসূত্রে পঞ্জাবী তিনি। অর্থাৎ সে অর্থে বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে সরাসরি কোনও সম্পর্ক থাকার কথা নয় নিউ ইয়র্কের নব নির্বাচিত মেয়র জ়োহরান মামদানির। অথচ মেয়র হওয়ার পরের দিন সন্ধ্যায় তাঁকে ঢুকতে দেখা গেল নিউ ইয়র্কের এক বাঙালি খাবারের রেস্তরাঁয়। মেয়র হিসাবে তাঁর দ্বিতীয় দিনের নৈশভোজও সেখানেই সারলেন তিনি। জানা গেল, ওই রেস্তরাঁর বাঙালি খাবার খেতে তিনি ভালবাসেন। আগেও খেয়েছেন কয়েক বার। আর এ বার পুরনো মেনুই বেছে নিয়েছেন।

Advertisement

নিউ ইয়র্কের ওই বাঙালি রেস্তরাঁর নাম ‘বৈশাখী’। কুইন্সের অ্যাস্টোরিয়ার ৩৬ অ্যাভিনিউয়ের বাংলাদেশী রেস্তরাঁটিকে খুব বিলাসবহুল বলা চলে না। বরং এটির বন্দোবস্ত খানিকটা কলকাতার পাইস হোটেলের ধাঁচের। যেখানে টেবিল কারও ব্যক্তিগত নয়। পাশে জায়গা থাকলে থালা হাতে নিয়ে অন্য অতিখিও এসে বসতে পারেন। এই ধরনের রেস্তরাঁয় খাওয়ার টেবিলে দু’জন অচেনা মানুষের মধ্যে আলাপ আলোচনা, গল্প-গুজব হয়। রসনার সুবাদে জুড়ে যান মানুষ। নিউ ইয়র্কের ভারতীয় বংশোদ্ভূত মেয়র মামদানিকেও সম্ভবত সেই সাধারণের সঙ্গে জুড়তে পারাই আকর্ষণ করেছে। তবে সেই সঙ্গে বাঙালি খাবারের স্বাদের প্রতি তাঁর অনুরাগের কথাও জানিয়েছেন মামদানি।

মেয়র হিসাবে দ্বিতীয় দিনের নৈশভোজের এই ছবি নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে পোস্ট করেছেন মামদানি। ছবি: এক্স (সাবেক টুইটার)

গত বছর এপ্রিলে ওই বাঙালি রেস্তরাঁয় খাওয়া দাওয়া করেছিলেন মামদানি। তখনই জানিয়েছিলেন, বাঙালি খাবারের স্বাদ তাঁর ভাল লেগেছে। মেয়র হিসাবে অভিষিক্ত হওয়ার পরে সেই স্বাদের ভাগ নিতেই গত শুক্রবার তিনি আবার হাজির হলেন ‘বৈশাখী’তে। রেস্তরাঁয় বসে বাকি অতিথিদের সঙ্গে খেলেন বাঙালি মশলা এবং ঘিয়ে কষানো মুরগির মাংসের রোস্ট আর আলুর ভর্তা। যা এর আগেও এ রেস্তরাঁয় এসে খেয়েছেন মামদানি।

Advertisement

২০২৫ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশি ওই রেস্তরাঁয় খেতে এসেছিলেন মামদানি। সে বারও তাঁর টেবিলে ছিল আলু মাখা এবং মুরগির মাংসের রোস্ট। ছবি: এক্স (সাবেক টুইটার)

মামদানি যে আলুর ভর্তা বা আলু মাখা খেয়েছেন, তা সাধারণ বাঙালি বাড়িতে আকছার খাওয়া হয়। পেঁয়াজ, লঙ্কা, শুকনো লঙ্কা এবং সর্ষের তেল দিয়ে মাথা সেদ্ধ আলু ডাল-ভাত বা ঘি-ভাতের পাশে থাকলে আর কোনও তরকারির দরকার পড়ে না। অন্য দিকে, মুরগির মাংসের রোস্ট বাংলাদেশের বিয়ের অনুষ্ঠানের জনপ্রিয় রান্না। এতটাই যে বাংলাদেশে ওই রান্নার নামই হয়ে গিয়েছে বিয়েবাড়ির চিকেন রোস্ট। মামদানি ওই দু’টি খাবারেই সম্পূর্ণ করেছেন তাঁর নৈশভোজ। টুইটারে বাঙালি রেস্তরাঁর রাঁধুনিদের সঙ্গে ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘‘মেয়র হিসাবে আমার দ্বিতীয় দিন এর থেকে আর কত ভাল ভাবে শেষ করতে পারতাম। বৈশাখীতে (খেলাম) চিকেন রোস্ট আর আলু ভর্তা।’’

মেয়র হওয়ার পরে প্রথম সাক্ষাৎকার রেস্তরাঁয় বসে দিয়েছেন মামদানি। মেনুতে ছিল ভারতীয় খাবারদাবারই। ছবি: এক্স (সাবেক টুইটার)

প্রসঙ্গত, মামদানির সঙ্গে বাংলার একটি ক্ষীণ সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর মা চিত্রপরিচালক মীরা নায়ার তাঁর প্রথম জীবনে বাঙালি নাট্যকার বাদল সরকারের নাটকে অভিনয় করেছেন। পরবর্তী কালে মীরা তাঁর কিছু কিছু ছবিতে বাঙালি সংস্কৃতিকেও তুলে ধরেছেন। তবে নিউ ইয়র্কের ভারতীয় মেয়র শুধু বাঙালি খানায় আসক্ত, তা নয়। তিনি এমনিতেই ভোজন রসিক। ভারতীয় খাবারের প্রতিও তাঁর বাড়তি টান আছে। বিবিসির এক সাক্ষাৎকারে বিরিয়ানির প্রতি তাঁর ভালবাসার কথা জানিয়েছিলেন মামদানি। গত ১ জানুয়ারি মেয়র হিসাবে অভিষেকের পরে তাঁর প্রথম সাক্ষাৎকারও দিয়েছেন এক রেস্তরাঁয় বসে। সেই মেনুতেও ছিল ভারতীয় খাবার— মোমো, আলুর দম ইত্যাদি। এমনকি, ভারতীয়দের মতোই কাচের গ্লাসে দুধ দেওয়া চা-ও পরিবেশন করা হয়েছিল মেয়রকে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement